• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:২৯

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন বন্ধু ‘হারিকেন’


রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুর জেলা রামগঞ্জ উপজেলায় কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘হারিকেন’। হারিকেনকে এক সময় রাত্রিকালীন বন্ধু হিসেবে অনেকেই অখ্যায়িত করত। সন্ধ্যা কালীন বন্ধু হিসেবে হারিকেন ব্যবহার করা হতো।

এক সময় হারিকেন হাতে নিয়ে ডাকপিয়ন ছুটে চলতেন গ্রামের পর গ্রামে। গ্রামের প্রতিবেশীরা রাত্রে কালীন এক স্থান অন্য স্থানে যেতে হারিকেন ব্যবহার করতে হতো এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সবাই রাতের বেলাই হারিকেন হাতে নিয়ে বের হতেন। হারিকেনের আলো গৃহস্থালির পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন যানবাহনে। কিন্তু আধুনিকায়নে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বাতিতে বাজার ভরপুর। যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন আলোর একমাত্র উৎস ঐতিহ্যবাহী হারিকেন।

সরেজমিনে উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, তখনকার সময়ে হারিকেন মেরামতের জন্য উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে মিস্ত্রী বসতো। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি বাজারে ছিল হারিকেন মেরামতের অস্থায়ী দোকান। এরা বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে ঘুরে হারিকেন মেরামতের কাজ করত। এছাড়া অনেকে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে হারিকেন মেরামত করত। কিন্তু এখন আর হারিকেন ব্যবহার না করার ফলে হারিকেন মিস্ত্রীদের এখন আর তেমন দেখা যায় না।

রিকশা চালক মোরশেদ ও আরো অনেকে বলেন, এক সময় হারিকেন ছাড়া রাতে রিকশা নিয়ে চলাচল করা যেত না। কিন্তু এখন বাজারে কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের এলইডি লাইট বের হওয়ায় এখন আর হারিকেনের প্রয়োজন হয় না।

আলীপুর গ্রামের বিল্লাল বলেন, আগে রাতে বাসার পড়তে বসার আগেই হারিকেন নিয়ে টানা টানি করতে হতো। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। তাছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের এলইডি বাল্ব অনেক কম দামে পাওয়া যায়। যার কারণে এখন আর হারিকেনের প্রয়োজন হয় না।

উপজেলা হারিকেন মেরামত করা কিছু লোক বলেন, এক সময় নিজেদের হাতে অনেক হেরিকেন মেরামত করেছি। কিন্তু এখন কার সময়ে ঘরে হেরিকেন থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করে না। এতে মেরামতের কাজ ও তেমন হয় না। যার কারণে এই পেশা ছাড়তে হয়েছে।

তারা আরও বলেন, সময়ের আবর্তে এক সময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেনের ইতিহাস।