• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

দুপুর ১:১৭

কালীগঞ্জে পাকা ঘর পেলেন ৮৭পরিবার


ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় পাকা ঘর পেয়েছে ৮৭টি পরিবার। নতুন ঘর পেয়ে আত্মহারা এসব পরিবার। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ঘরগুলো জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ গৃহহীনদের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঘর পেয়ে উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের জায়েদা বেগম বলেন, একমাত্র মেয়ে সোনিয়ার জন্মের কিছুদিন পরেই স্বামী আমাদের ছেড়ে চলে যান। এরপর বাবার বাড়িতে ঝুপড়ি ঘরই ছিল মা-মেয়ের বসবাস। কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি ছিল আমাদের নিত্যসঙ্গী। তিনি বলেন, বর্তমানে ঘরের কষ্ট চিরতরে দূর হয়েছে। কেননা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাকা ঘর পেয়েছি। আমার মতো মানুষ দালান ঘরে শোয়ার কথা কখনো কল্পনাও করিনি।

একই গ্রামের মহসিন আলী জানান, আমি একজন ভ্যানচালক। পরের ভ্যান ভাড়া নিয়ে সারাদিন পরিশ্রম করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাই। বসতভিটার আড়াই শতক জমিই আমার সম্বল। অভাবের সংসারে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতাম। এরপর সরকারি লোকজন ঘরের দৈন্যদশা দেখে একটি পাকা ঘর করে দিয়েছে।

কোলা ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, যে টাকায় টিনের ছাউনি হওয়ার কথা সেখানে সঠিক নজরদারির কারণেইপাকা ঘর করা সম্ভব হয়েছে।

ইউএনও সূবর্ণা রানী সাহা জানান, উপজেলায় ৮৭টি গৃহহীন পরিবারকে পাকা ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। ঘরগুলোর মেঝে পাকা, ওপরে টিন ও এর সঙ্গে করা হয়েছে একটি পাকা টয়লেট। এগুলো করতে প্রতিটি পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আলহেল মাসুম জানান, উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউপির ১৭টি, বারবাজার ইউপির ২৩টি, সুন্দরপুর দুর্গাপুর ইউপি ৯টি, কোলা ইউপির ২টি, নিয়ামতপুর ইউপির ১৯ টি, সিমলা রোকনপুর ইউপির ৬টি, কাস্টভাঙা ইউপির ৪টি ও রাখালগাছি ইউপির ৭টি গৃহহীন পরিবারকে এসব ঘর করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব পরিবারের ভিটেবাড়ি সর্বনিম্ন ৩ থেকে ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু মাটি কিংবা বেড়ার ঘর তাদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেখানে টিনের বেড়ার কথা উল্লেখ থাকলেও ওই টাকায় পাকা দেয়াল দিয়ে ঘর করা হয়েছে। সঠিক তদারকির কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।