• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৯:১৬

কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা বখাটের


কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাইফুল খান নামে এক বখাটে কলেজ ছাত্রীকে রাস্তায় ফেলে ছাত্রীর বুকের উপর উঠে ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টাকালে সহপাঠীদের চিৎকারে বখাটে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যায় আহত কলেজ ছাত্রীকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মেয়েটির নাম বিউটি আক্তার (১৮)। সে পতনঊষার হাই স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটে গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ৩ টায় পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য টিলাগড় গ্রামে।

জানা যায়, টিলাগড় গ্রামের আং করিমের মেয়ে বিউটি আক্তার প্রতিদিনের মতো
কলেজ থেকে বান্ধবীদের সাথে বাড়ি ফিরছিল। গ্রামের মসজিদের পাশে আসার পর শ্রীসূর্য্য গ্রামের মিলন খান এর বখাটে ছেলে সাইফুল খান (২৩) রাস্তা গতিরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এ সময় প্রেমে সাড়া না দেয়ায় প্রকাশ্যে টানা হেচড়া করে মাটিতে ফেলে বিউটি আক্তারের বুকের উপর উঠে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। বখাটের টানাহেচড়ায় বিউটির মাথা ও পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়। এ সময়ে সহপাঠিদের চিৎকারে বখাটে সাইফুল খান পালিয়ে যায়। পরে সহপাঠী লুবনা বেগম, আকলিমা বেগম বিউটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

বিউটির বাবা আব্দুল করিম ও সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াজিদ আলী জানান, বিষয়টি
কলেজ শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও কমলগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় মেয়ের
শারীরিক অবস্থা কিছুটা অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা
হয়েছে বলে কর্তব্যরত ডাক্তার নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার বিকাল ৫ টায় পতনঊষার স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমদ বাবু, কলেজ অধ্যক্ষ মো. ফয়েজ আহমদ, শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই আনজির আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও মেয়ের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

পতনঊষার স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি তওফিক আহমদ বাবু বলেন, ‘বিষয়টি খুবই
দুঃখজনক। এর আগেও বখাটে ঐ ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে এবং এ ঘটনায় কোন ছাড় দেওয়া হবে না।’

শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনজির আহমদ বলেন, ‘কলেজ ছাত্রীর উপর
হামলাকারী ছেলে খুবই খারাপ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং মেয়ের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। ছেলেকে পাওয়া যায়নি।’

কমলগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন,
‘ঘটনাটি আমি শোনার সাথে সাথে কমলগঞ্জ থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি।’