• ঢাকা
  • শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ভোর ৫:৩৫

কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয় ১৬০০ কোটি টাকা!


বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও৷ উদ্দেশ্য পূরণে যে অর্থ দরকার তা অনেক ক্ষেত্রেই পায় না সংস্থাটি৷ কিন্তু তাতে কর্মকর্তাদের বিলাসিতার ঘাটতি হয় না৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াতে তারা নিয়ম ভেঙ্গে উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করেন, শেষ মুহূর্তে চড়া দামের টিকেট কেনেন, এমনকি ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়ার যথাযথ প্রক্রিয়াও অনুসরণ করেন না৷ ২০১৭ সালের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে৷

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ডাব্লিউএইচও-র কর্মকর্তারা ভ্রমণ বাবদ মোট ১৯ দশমিক দুই কোটি ডলার বা প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছেন৷ বার্তা সংস্থা এপি এসব তথ্য প্রকাশ করেছে৷ এ নিয়ে ডাব্লিউএইচও-র পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, খরচের ৫৫ ভাগই ব্যয় হয়েছে সংস্থার বাহিরের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন দেশের আবাসিক প্রতিনিধিদের পেছনে৷ উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে আসার কারণে এই খরচ করতে হয়েছে৷ তবে ভ্রমণ খরচ কমানোর জন্য গত বছর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি৷

বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট বাজেট প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যার বড় অংশই সদস্য দেশগুলোর সরকারের দেয়া সহায়তা থেকেই আসে৷ চলতি সপ্তাহে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে৷ সেখানে দাতাসংস্থা ও সদস্য দেশগুলোর কাছে ইবোলা-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় আরো বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনা করেছে তারা৷

শুধু ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই ৫ কোটি ডলার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ডাব্লিউএইচও৷ ঠিক এই সময়ে কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের হিসাব ফাঁস হওয়ায় এই টাকা পাওয়াটা এখন কঠিন হতে পারে৷

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফি হারম্যান বলেন, তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রায় খরচ কমাতে না পারায় তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে৷ এ কারণে নতুন করে অর্থ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে৷ ‘‘ইবোলার জন্য আমাদের আরো অর্থ প্রয়োজন– এটি বলার আগে ডাব্লিউএইচওকে নিজেদের নিয়ম-শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে,” বলেন হারম্যান৷