• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

ভোর ৫:১৪

করোনা জয় করে ঘরে ফিরেছেন মুক্তাগাছার চার চিকিৎসা সেবক


ময়মনসিংহ ব্যুরো : মহামারী ব্যাধি করোনা জয় করে ঘরে ফিরেছেন মুক্তাগাছার ৪ জন চিকিৎসা সেবক। শনিবার বিকালে তারা  তারা ৩ জন ও এর আগে আরেকজন পুরোপুরি সুস্থতার সনদ নিয়ে উপজেলা হাসপাতালের আইসোলেশন থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিতে যান। করোনা বিজয়ি চার চিকিৎসা সেবক হচ্ছেন- মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ এম জি মোস্তাফা, স্বাস্থ্য সহকারী তারিকুল ইসলাম ছোটন ও  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব এটেইনডেন্ট আশরাফুল ইসলাম। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হাসপাতালের নার্স আনার কলি পাপিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন।

এরা সবাই মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের কাজে নিয়োজিত থেকে করোনায় আক্রান্ত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশনের থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

সুস্থ্য হবার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা কোভিড-১৯ ভাইরাস পজেটিভ ধরা পড়ার পর থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত নানা অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।

স্বাস্থ্য সহকারী তারিকুলই ইসলাম ছোটন তার ফেসবুক পেইজে লেখেন- ‘আমি একজন স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে উপসর্গ ছাড়াই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসলোশনে ভর্তি হই। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরে সামাজিক গুজবের চাপে ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে খানিকটা মানসিকভাব ভেঙ্গে পরি। তবে পরে মনোবলকে শক্ত করে লেগে পড়ি করোনা তাড়ানোর চেষ্টায়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীরে অবশ্য অনেক লক্ষণই প্রকাশ পায়। মনে সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে যাই। প্রাণপনে লড়ে যাই। আমাকে সুস্থ্য হতেই হবে। সুস্থ্য হয়ে অসহায় মানুষের সেবায় আবার করোনার যুদ্ধের ময়দানে নামতে হবে।

করোনার কারাগারে বন্দি যোদ্ধাহত সৈনিক। যুদ্ধ ক্ষেত্রে আহত হয়ে ক’দিন আগেই বন্দি হয়েছিলাম। করোনার স্পর্শে খুব সহজেই অচেনা হয়ে উঠে চির চেনা মুখগুলো।  নিষ্ঠুরতা তীর অনেকের চোখে। নিজেকে বাঁচাতে, সমাজকে পরিশুদ্ধ রাখতে, দেশ বাঁচাতে, প্রিয়জন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় অথবা বাধ্যতামুলকভাবে করোনার কারাগারে বন্দি হতেই হয় প্রতিটি যোদ্ধাকে। আমাদের পরিনতি খুব ভালেভাবেই জানি। হয় মৃত্যু অথবা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বাঁচতে পারলে আবার যুদ্ধের ময়দানে শক্রুর মোকাবেলা করা। করোনা মোকাবেলায় মনোবলই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

তবুও ভয় না পেয়ে সহযোদ্ধা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ এম জি মোস্তাফা স্যারের উৎসাহে মনোবল আরো দৃঢ় করে নির্দেশমতো প্রাণপনে লড়ে যাই দিন রাত। যেখানে প্রতিটি নি:শ্বাসে নিয়েছি গরম বাষ্প। পানির বদলে এক ঘন্টা পরপর লেবুর রস মেশানো হালকা গরম পানি পান করেছি। কখনো কখনো আদা চিবিয়ে গিলে বুকজ্বলা ব্যথা নিয়ে করোনা তাড়াতে ব্যস্ত থেকেছি। নিয়মিত শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করেছি। ঘন্টায় ঘন্টায় চা পান করেছি। গরম পানি গলায় ঢেলে গাড়গিল করেছি। এসব করতে করতে কেটেছে দিন রাত। দীর্ঘ শ্বাস টেনে আস্তে আস্তে ছেড়েছি। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আরএমও স্যার আমাদের নীতি, নৈতিকতা ও কুরআন হাদিসের আলোকে আদর্শের কথা শুনাতেন মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য। এর মধ্যেই ৪ তারিখে পাপিয়ার পরপর দু’বার নেগটিভ আসায় ৫ তারিখে তার রিলিজ হয়।
নিয়ম মেনে চলায় এটা সম্ভব হয়েছে।  তারপর ৭ তারিখে আমাদের বাকি তিনজনের নমুনা পরীক্ষায় পরপর দু’বার নেগেটিভ আসলে ৮ তারিখে আমাদের রিলিজ হয়। হাসপাতালে প্রতিদিন ৫ বার আদা, লেবু, লং, কালোজিরা, এলাচ, সরিষার তৈল একসাথে মিশিয়ে গরম করে গলা আর নাক দিয়ে বাষ্প নিয়েছি। পরে সেই পানির দ্রবণও পান করেছি। দৈনিক ৮-১০ বার চা পান, ফলমূল খাওয়া সবই করেছি। ডাক্তারদের দেয়া ওষুধ নিয়মিত সেবন করেছি। আমি এখন সুস্থ।।  করোনা থেকে বাঁচতে প্রতিটি মানুষেরই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা উচিত। উপরে উল্লেখিত উপাদানগুলো বাসায় বসে করা যেতে পারে।’