• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং | ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:৩২

করোনা : ইতালিতে কমছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা


তুহিন মাহামুদ, ইউরোপ ব্যুরো : ইতালি  করোনার বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্ত হওয়ার পথে। কমতে শুরু করেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬০২জন। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৭৮জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪ হাজার ৭৯০ জন। মোট আক্রান্ত ৬৩হাজার ৯২৮জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭ হাজার ৪৩২ জন।

এদিকে সরকার করোনা মোকাবেলায় ব্যাংক,ফার্মাসী, তাবাক্কেরিয়,পোষ্ট অফিস, সুপারমার্কেট ব্যতিত সব কিছু আগামি ৩এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের ঘোষনা দিয়েছে।প্রয়োজন ব্যতিত ঘর থেকে বের হলে ৫হাজার ইউরোর জরিমানা বিধান রয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসে ইতালির সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে লোম্বারদিয়া অঞ্চল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  সামরিক বাহিনীকে তলব করা হয়েছে দেশটিতে নতুন করে যোগ হয়েছে ১১৪ সেনাবাহিনী। মূলত লকডাউন কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে সামরিক বাহিনী।

ইতালির ২১ প্রদেশের মধ্যে লোম্বারদিয়া অঞ্চলেই আক্রান্তের হার বেশি।২৪ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১হাজার৫৫৫জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩২০ জনের।
মোট আক্রান্ত ২৮হাজার ৭৬১জন। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৩হাজার ৭৭৬ জন।

এছাড়া মিলান শহরে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২৩০জন সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার৩২৬ জন।

চীনের পর এবার ইতালিতে করোনায় আক্রান্তদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে কুবার ৫২ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম।রয়েছে ডাক্তার ও নার্স। লোম্বারদিয়া প্রদেশের বিপদগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিবে।এছাড়া রাশিয়া থেকেও ডাক্তার ও নার্স এসেছে লোম্বারদিয়ায়।জরুরী সেবার জন্য রাশিয়ার পাঠানো রোগীদের খাট, শ্বাসপ্রশ্বাসের মাস্ক বেরগামো বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

এছাড়া ইতালিকে সহযোগীতায়  পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইন্ডিয়া ৪০হাজার মাস্ক,চিন ২,৫ মিলিয়নমাস্ক, ইজিত্তো১,৫ মিলিয়ন মাস্ক,কুওরে দি ইউরোপ্পা ২মিলিয়ন মাস্ক,ব্রাজিল।২,৫মিলিয়ন মাস্ক।পূণরায় চিনের আরও১,৫ মিলিয়ন মাস্ক পাঠানোর কথা,রয়েছে।

করোনার মোকাবেলা ইতালিয়ান সরকার ৭২২০ জন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্সকে সেবাদানের জন্য নিয়োগ দিয়েছে।

হাজার হাজার মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ইতালির হাসপাতালগুলো। দিনদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, থমকে গেছে পুরো ইতালি, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে ইতালির ছয় কোটি মানুষ।পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে ইউনিট সমস্ত সরঞ্জাম।

তবে চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আগামি সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে আসবে এবং সূস্হতার সংখ্যা বাড়বে।

গত আড়াই মাসে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৬৬হাজার ৮৮০জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৬হাজার ৯৯জনের।