• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৫:৪৩

কক্সবাজারের ৪৬০৮৭ জেলে পরিবার পাচ্ছে ৪০ কেজি করে চাল


নিজস্ব সংবাদদাতা;

উপকূলীয় এলাকায় মাছ আহরণ ছাড়া জেলেদের আয়ের অন্য কোনো উৎস না থাকায় মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ক্ষুধা নিবারণ ও দাদনদারদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য জেলেদের বঙ্গোপসাগরে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ ও চিংড়ি জাতীয় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময় কক্সবাজারের ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি করে চাল দেবে সরকার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রমতে, কক্সবাজারে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন। কিন্তু জেলায় এর বাইরে আরও ৫০ হাজারের বেশি জেলে রয়েছে। মাত্র ৪৬ হাজার জেলের পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ করলেও অধিকাংশ জেলেই সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তবে যেসব জেলে পরিবার সরকারি চাল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাছ ধরা বন্ধের সময়ে জেলেদের খাদ্যশস্য সহায়তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই খাদ্যশস্যের উপকারভোগি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলের পরিবার। প্রতি পরিবারে ৪০ কেজি করে বিতরণ করা হবে।

সূত্রমতে, কক্সবাজারে ৭ উপজেলার ৪৬ হাজার ৮৭ জন জেলের পরিবারের চাল বরাদ্দ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৯৫ জন, চকরিয়ায় ৩ হাজার ৮৪৯ জন, মহেশখালীতে ১১ হাজার ৪২২ জন, উখিয়ায় ৩ হাজার ৩৯৯ জন, পেকুয়ায় ৩ হাজার ৯৪৯ জন, কুতুবদিয়ায় ৮ হাজার ৫১৩ জন ও টেকনাফে ৭ হাজার ৮৬০ জন জেলে পরিবার।

জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুর্নবাসন শাখার উচ্চমান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মন্ত্রনালয় থেকে ইতোমধ্যে খাদ্যশস্য হিসেবে ভিজিএফ চালগুলোর বরাদ্দ পৌছেছে। বিতরণের জন্য শিগগিরই স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌছে দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন- শুধু নিবন্ধিত জেলে নয়, সবাইকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের (চাল ও অন্যান্য সামগ্রি) ২৫ শতাংশ স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ওই ২৫ শতাংশ ত্রাণ আপাতত জেলার সব জেলে পরিবারের মাঝে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই বিতরণ শুরু হবে। প্রত্যেক জেলের কাছে সহায়তা পৌছানো হবে। ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে প্রায় ৪ হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সবার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশাকরি কোন জেলে পরিবার সহায়তার বাইরে থাকবে না। শিগগিরই প্রত্যেকের কাছে সহায়তা পৌছে যাবে।