• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:৫৮

ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরতে ব্যার্থ পুলিশ


বিশেষ প্রতিনিধি;
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচিত সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এখনও গ্রেফতার হননি। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তিনি যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন সে জন্য নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। সরকারের দায়িত্বশীল মহল বলছে, মোয়াজ্জেম দেশেই রয়েছেন।

শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু পরোয়ানা জারি হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও মোয়াজ্জেম গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমের ব্যাপারে পুলিশের অবস্থান পরিস্কার ও সুস্পষ্ট। তাকে গ্রেফতারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্নিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ওসি মোয়াজ্জেম দেশে রয়েছেন জানিয়ে শিগগিরই তাকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

তারপরও কেন মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না? এই প্রশ্ন এখন সবার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে ওসিকে গ্রেফতারে গড়িমসি থাকলেও পরে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে মোয়াজ্জেম মোবাইল ফোন বন্ধ করে সটকে পড়েন। গ্রেফতার এড়াতে সরাসরি তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের আদেশ তার গ্রামের বাড়ি যশোরে পাঠানোর পর শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। মোয়াজ্জেম যেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে ব্যাপারে সীমান্তবর্তী ওই দুই থানার পুলিশ সতর্ক রয়েছে। গত বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায়ও মোয়াজ্জেমের বিষয়টি উঠে আসে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেমের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে সভায় আলোচনা হয়েছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে গড়িমসির অভিযোগে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয় ১০ এপ্রিল। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতের মৃত্যু হয়। এর আগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নুসরাতের জবানবন্দি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এরপর মোয়াজ্জেমকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। স্থানীয়রা এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানালে মোয়াজ্জেমকে সাসপেন্ড করা হয়। ২৭ মে সাইবার ট্রাইব্যুনাল মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বহু নাটকীয়তার পর ওই পরোয়ানা রংপুরে পাঠানো হয়।