• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১০:১৪

এসি’র ড্রয়ারে ইয়াবা, চুরি করে কারাগারে কনস্টেবল !


জিয়াউর রহমান :  ঢাকার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন সহকারী কমিশনারের (এসি) অফিসের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরির অভিযোগের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জাল হোসেন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।  রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।  এ সময় রমনা থানায় ইয়াবা চুরির মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ্য করেন, কনস্টেবল সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তিনি সেদিন রাতে ডিবি অফিসে ঢোকেন এবং সহকারী কমিশনারের অফিসের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরি করেন। চুরি করা এসব ইয়াবা গেন্ডারিয়া থানার একটি মাদক মামলার আলামত। পরে ওই ইয়াবাগুলো সোহেল রানার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। সোহেলের বাসায় খাটের জাজিমের নিচে ওই ইয়াবা পাওয়া গেছে। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভারও সোহেলের বাসায় পাওয়া যায়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এক ব্যক্তি মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে আসেন। এরপর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পেশাদার খুনি দমন টিমের (ডিবি পশ্চিম) অফিস কক্ষের সামনে আসেন ওই ব্যক্তি। রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে ইয়াবা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে তিনি ডিবি অফিসের প্রধান গেটে যান। এরপর রিকশা করে চলে যান শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণির দিকে।

পরদিন শনিবার সকাল ৭টার সময় ডিবির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবু সুফিয়ান প্রধান গেটে দায়িত্ব পালনের জন্য আসেন। অফিস থেকে ডিবির জ্যাকেট নেয়ার জন্য সহকর্মী ফারুকের কাছ থেকে চাবি নেন তিনি। পরে অফিসে গিয়ে আবু সুফিয়ান দেখেন, দরজার সামনের বারান্দার সিলিং এবং ভেতরের দক্ষিণ কোণের সিলিং খোলা। এমন অবস্থা দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ডিবির সহকারী কমিশনার মজিবর রহমানকে এই ঘটনা জানান। পরে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মজিবর রহমানের কক্ষের থাই অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি দরজা ও তিনটি ড্রয়ারের তালা ভাঙা।

মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, দ্বিতীয় ড্রয়ারে একটি মাদক মামলার আলামত হিসেবে ৫ হাজার পিস ইয়াবা রাখা ছিল। যার দাম আনুমানিক ১০ লাখ টাকা। পলিথিনের ব্যাগে রাখা ইয়াবা চুরি হয়। তখন বিষয়টি ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এরপর ইয়াবা চোর ধরার জন্য ডিবি অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ডিবিতে কর্মরত সদস্যদের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে, ঘটনার দিন রাতে ঢোকা ওই ব্যক্তি কনস্টেবল সোহেল রানা বলে শনাক্ত হয়।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খলিফা ইয়াবা চুরির অভিযোগে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।

কিন্তু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে একজন সহকারী কমিশনারের (এসি) অফিসের ড্রয়ারে এত ইয়াবা রাখলো কেন?  অনেকেরই ধারণা এসব ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শোনা যায়, অহেতুক রাস্তা থেকে আটক করে টাকার বনিবনা না হলে ইয়াবার মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলহাজতে পাঠান গোয়েন্দা পুলিশ।

এ চিত্র শুধু ঢাকার নয়, এটা প্রতিটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চিত্র বললেও ভূল হবে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সম্প্রতি জামিনে মুক্ত পাওয়া মুকুলের (ছদ্মনাম) কাছ থেকে জানা যায় তাকে ইয়াবা দিয়ে কীভাবে ফাঁসালেন গোয়েন্দা পুলিশের এক উপ পুলিশ পরিদর্শক। মুকুল বলেন, রমনা পার্ক এলাকা দিয়ে হেঁটে শাহবাগ যাচ্ছি, হঠাৎ সাদা পোশাকে চার/পাঁচ জন লোক এসে একটি গাড়ী তুলে মিন্টু রোড গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় নেন। এরপর আমার পরিবারের লোকজনের ফোন নাম্বার নিয়ে তাদেরকে দেখা করতে বলে। পরে জানতে পারি আমার পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা দাবী। ওই টাকা না দেওয়া তিন পর আমাকে পাঁচশত পিস ইয়াবা দিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। র্দীঘ ছয় মাস পর জামিন হয়।

তবে যে সহকারী কমিশনারের (এসি) অফিসের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ৫ হাজার পিস ইয়াবা চুরির অভিযোগের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সোহেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেই পুলিশের কর্তার সাথে একাধিকবার তার সরকারী ফোনে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।