• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:৪২

এবার নদী রক্ষা কমিশনের দায়িত্ব


মো: সাহেদ : তুরাগ নদসহ দেশের সব নদ-নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ও ‘আইনি সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। নি:সন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই রায়ের ফলে দেশের সব নদ-নদী-খাল-বিল-জলাশয় একীভূত সত্তা হিসেবে  সাংবিধানিক অধিকার পেল।

নদ-নদী বিষয়ক এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তার স্বীকৃতির মর্যাদা অর্জন করল। শিল্পায়িত এই বিশ্বসভ্যতায় নদীবিষয়ক এই রায়গুলো প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রশ্নে পথচলার দিকনির্দেশনামূলক।

এই রায়ে অনেকগুলো বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের নির্দেশনা রয়েছে। যেমন নদ-নদী দখলকারীদের দেশের সব ধরনের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ না দেওয়ার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।  একইসঙ্গে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র ও সৈকত-বেলাভূমি, বনাঞ্চলের মতো সব জনগণের সম্মিলিত সম্পত্তি বা এমন ‘পাবলিক ট্রাস্ট’ দেখাশোনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের বলেও এই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই রায়ে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনকে দেশের সব নদ-নদীর অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে এর ভিত্তিতে কঠিন সাজা, জরিমানা নির্ধারণ, অভিযোগ দায়ের পদ্ধতি ইত্যাদি সংক্রান্ত নদী কমিশনের প্রস্তাব কমিশনের বর্তমান আইন সংশোধন করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে আদালতে হলফনামা দাখিল করতে হবে। জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই রায়ে।

নদীদখল ও ভরাটসহ প্রায় পাঁচ লাখের বেশি  মামলা ঝুলে আছে। সাম্প্রতিক এক রায়ের পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালতের এক বিচারক বলেছেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এসব বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখলে এই বিপুল সংখ্যক মামলা হয়তো আদালতেই আসত না।

অন্যদিকে, নানা সময়ে দেশের আদালতগুলোতে নদীর সুরক্ষা নিয়ে অনেক রায় মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গেছে। ফলে  নদী-জলাশয় দখলের উৎসব অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্প্রতি  অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ মানুষের মনে খানিকটা আশা জাগিয়েছে।  জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী কর্র্তৃপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই একটি সমন্বিত কার্যক্রমের মধ্যে আনতে হবে। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় সমন্বয় করা হলে নদ-নদীগুলোকে প্রাণ ফিরে পাবে।