ঢাকা রবিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

ভোর ৫:১৫
টপ স্লাইডসারা বাংলা

এবার খাল উদ্ধারে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামে ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালের অবৈধ দখল শতভাগ উচ্ছেদ করতে এবার সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। খালগুলোর ওপর গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেনাবাহিনীর এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়। খবর বাসসের।

শনিবার চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী এসব কথা বলেন। ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড দামপাড়া আর্মি ক্যাম্পে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বন্দরনগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে সিডিএর নেয়া চট্টগ্রামের এই বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরকে দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী বলেন, সিডিএ’র নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৮ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনীর সাথে এমওইউ স্বাক্ষরের পর সরকারি আদেশ জারি হয়। এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ হলেও সেনাবাহিনী জলাবদ্ধতা নিরসনে জোরেশোরে অভিযান চালাবে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় কাউন্সিলররা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে গতবছর খাল থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট ও চলতি বছরে ৪২ লাখ ঘনফুট বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৩টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০টি এবং তৃতীয় পর্যায়ে বাকি খালগুলো পরিষ্কার ও পুনঃখনন করা হবে।

প্রাথমিকভাবে সেই সব খাল পরিষ্কার করা হয়েছে সচেতনতার অভাবে সেই সব খাল আবারও বর্জ্যে ভরে গেছে। ড্রেন ও খাল অপরিষ্কার থাকার কারণে বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন হয় না। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক খাল থেকে ময়লা অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও খালগুলো ময়লায় ভরাট হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা জরুরি। এজন্য স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

খাল পরিষ্কার ও পুনঃখননের পাশাপাশি নগরে যাতে জোয়ারের পানি প্রবেশ না করে, সেই লক্ষে সেনাবাহিনী ৫টি, ১২টি সিডিএ এবং ২৩টি পানি উন্নয়ন বোর্ড টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণ করছে। এসব রেগুলেটর নির্মাণকাজ একসঙ্গে শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল আবু সাদাত মোহাম্মদ তানভীর চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের নানা বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে, কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রানা চৌধুরী, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মীর মাহমুদ হাসান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।