• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

রাত ১২:৫৫

‘এই অর্জন আমার একার না’


বিনোদন ডেস্ক: জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। ক্যারিয়ার শুরু থেকে অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ সিনেমার একটি গানে কণ্ঠ দিয়ে। এরপর ১৯টি একক, ডুয়েট ও মিক্সসহ ৬০টির বেশি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় দুই শতাধিক প্লেব্যাক করেছেন। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আর পাননি।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) একসঙ্গে পরপর দুই বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এতে ২০১৮ সালের সেরা গায়িকার পুরস্কার যুগ্নভাবে পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন ও আঁখি আলমগীর। ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবিতে ‘গল্প কথার ওই’ শিরোনামে গানে দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার পেয়েছেন। এই গানটি সুর করেছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তিনিও এই গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকারের পুরস্কার পেয়েছেন।
ক্যারিয়ারে দীর্ঘদিন পর এমন পুরস্কার পেয়ে বেশ উচ্ছ্বশিত আঁখি আলমগীর। পুরস্কার প্রাপ্তিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, ‘অসংখ্য জনপ্রিয় গান আর মানুষের ভালবাসায় আমি এতই বিভোর যে আর কিছু চাইনি। আর তখনই আমার সাথে ঘটলো এক মধুর ঘটনা। কিংবদন্তী শিল্পী শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লা আন্টি আমার জন্যে গান সুর করলেন।তবে অনেক শর্ত সহ। নিয়মিত আন্টির কাছে তালিম,সব কনসার্ট বাতিল, অস্ট্রেলিয়া ট্যুর বাতিল, শুধুই রেওয়াজ । বিশ্বাস করুন আমি মন খারাপ করে রীতিমত কেঁদেছিলাম। বন্ধু ইমন সাহা আর আব্বু শুধু সাহস দিয়েছে। অবশেষে গানটা গেয়েছি, গাইতে পেরেছি।’
তিনি লিখেন, ‘রেকর্ডিং বুথ থেকে বের হয়ে আন্টিকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না। দেখি, বন্ধু ইমন মুচকি হাসছে। পরে বলল, দেখো এই গান তোমাকে কোথায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রুনা আন্টি এই গান শ্রদ্ধেয় লতাজীকে শোনান। তার কাছ থেকেও ভূয়সী প্রশংসা আসে। আমার ওস্তাদজি সঞ্জীব দে গানটি শুনে কেঁদে ফেলেন। গানটি শুনে আমার মাসহ আরো অনেক গুণী মানুষের চোখে পানি দেখেছি। গাইবার সময়েও আমি কান্না আটকাতে পারিনি। যেন আমারই জীবনের গল্প এই গান। আর গত কালকের ঘোষিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৮-তে আমার নাম, এটা অভাবনীয় আনন্দের।’
আখি জানান, ২০১৭ ও ২০১৮ তে পুরস্কৃত যারা হচ্ছেন তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন। আমি চিরকৃতজ্ঞ আমার গুরুজন ও স্নেহভাজনদের প্রতি। সবার শুভেচ্ছা আমি প্রাণ ভরে গ্রহণ করছি। চলার পথে যারা আমাকে দিক নির্দেশনা উৎসাহ দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ। মানুষের ভালোবাসায় আমি আগেই পরিপূর্ন ছিলাম, আজ আবারও সমৃদ্ধ হলাম। দীর্ঘ ২৫ বছর গান গাইবার পর এই অর্জন কোনও ভাবেই আমার একার হতে পারে না। যা আজ আমার কাল তা আরেকজনের। তাই বিনয় নম্রতা ধৈর্য পরিশ্রম ভালবাসা হোক আমার , এই পুরস্কার হোক আমাদের সবার। ভালোবাসা সবার জন্য।

নতুন কাগজ/আরকে