• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:০১

উত্তরায় ভাঙ্গা সেতু পুনঃনির্মাণ চেয়ে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম; আন্দোলনের হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন ধরে উত্তরায় ছাত্র-ছাত্রী, অসুস্থ ব্যক্তি ও মানুষজন চলাচলের অনুপযোগী ও অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ একটি লোহার সেতু সংস্কারের দাবীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্র আন্দোলন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোঃ কামাল হোসাইন।

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যায় নিজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টাইমলাইনে এই আল্টিমেটাম জানান তিনি। এ ব্যাপারে, স্যোসাল মিডিয়ায় কথোপকোথনে আল্টিমেটামের বিষয়টি তার কাছে জানতে চাওয়া হলে প্রতিবেদককে তিনি জানান, উত্তরা ১১নং সেক্টরস্থ মনসুর আলী মেডিকেলের উত্তর-পশ্চিম কর্ণারে একটি লোহার ব্রিজ বিগত কয়েক বছর যাবৎ সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ছোট্ট এই সেতুটির এমন অবস্থা যে, সেতুর প্রতিটি লোহার পাটাতন ভেঙ্গে নিচের দিকে ঝুলে গেছে। কোথাও কোথাও মরিচা ধরে জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে আছে।

অথচ এই ব্রিজটি দিয়েই প্রতিদিন উত্তরার মাইলস্টোন, মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও রোগীদের যাতায়াত রয়েছে। যেকোন সময় পা পিছলে অথবা একটু অসতর্কতা অবলম্বন করলে যেকোন মারাত্মক দূর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী যে কেউই। বিষয়টি এখানকার জনপ্রতিনিধি অবগত থাকলেও শুধুমাত্র একটি সতর্কমূলক ব্যানার টানিয়েই নিজের দায়বদ্ধতা সারতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, যেহেতু এখান দিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, রোগীসহ এলাকার সাধারণ মানুষজনকে নিয়মিত চলাচল করতে হয়, সেহেতু যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত এটিকে সংস্কার করা। তিনি আরও বলেন, যদি আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সেতুটি পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু না করা হয় তবে, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন উত্তরা পশ্চিম থানা শাখার প¶ থেকে ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

নিজ টাইমলাইনে দেয়া এমন পোস্টের বিষয়ে কথা হলে এমনটাই জানান উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্র আন্দোলন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মোঃ কামাল হোসাইন।

অপরদিকে, বিষয়টি ডিএনসিসি ৫১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমানকে জানানো হলে তিনি বলেন, আমরা কয়েকদিন পূর্বে স্থানটি পর্যবেক্ষন করেছি এবং জনসাধারণের জন্য উক্ত সেতুর উপর দিয়ে চলাচলে সতর্কতামূলক বার্তা টানিয়ে এসেছি। এখন কেউ যদি অসতর্ক হয়, তবে সেটা যার যার ব্যক্তিগত। তবে, আশপাশের মানুষদের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারাও সেতুটির সংস্কার চেয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখানে ডিএনসিসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তারা সেতুটি পরিদর্শন করেছে। কিন্তু, এখান দিয়েই ভবিষ্যতে সরকারের চার লেন বিশিষ্ট সড়ক করার পরিকল্পনা থাকার কারণে নতুন করে জায়গাটিতে কোনরূপ স্থাপনা বা সেতু তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরও বলেন, তারপরও বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উত্তরা ১১নং সেক্টরের এই স্থানটি দিয়ে আমাদের সেক্টরের লোকজনই চলাচল করে থাকে। আমি শীঘ্রই আশপাশের প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেতুটিকে মানুষজনের চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করব।

অপরদিকে, আল্টিমেটামের বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি।