• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৯ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

ভোর ৫:১০

ইসরাইলে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার রাষ্ট্র খ্যাত ইসরাইলে গত পাঁচ মাসের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভোট চলে বিকাল পর্যন্ত।

বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ আরব বিশ্বের ভবিষ্যৎ। যদিও দখলদার রাষ্ট্রটির এই প্রধানমন্ত্রী গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচন পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি জরিপের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অতীতের মতো এবারের নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডো লিবারম্যানের সমর্থন ছাড়া পার্লামেন্টে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়া তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

যদিও বিশ্লেষকদের মতে, গত ৯ এপ্রিল নির্বাচনের পর এরই মধ্যে নেতানিয়াহুর সরকারে থাকতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম এই শরিক।

অপর দিকে ইহুদিবাদী হিসেবে পরিচিত দখলদার এই রাষ্ট্রটিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যাবত তুরুপের তাস হয়ে আছেন এই অ্যাভিগডো লিবারম্যান।

যার ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনেও যদি দেখা যায় সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুর তাকে প্রয়োজন হয়, তখনই আসল নাটকটি শুরু হবে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এ দিকে বুথ ফেরত জরিপে বলা হয়, ইসরাইলের গত সাধারণ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। তবে এবার নেতানিয়াহু অনেকটাই এগিয়ে। যদিও গেল নির্বাচনে আর্মি প্রধান বেনি গ্যান্তজ ৩৪টি আসনের মধ্যে পেয়েছিলেন ৩২ আসন। আর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দখলে ৩৩টির মধ্যে ছিল ৩০ আসন।

সর্বশেষ জনমত জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে নেসেটের (ইসরাইলি সংসদ) মোট ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর দল পেতে পারে ৫৮টির মতো আসন। যেখানে লিবারম্যানের ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ পাবে আটটি, যা গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চেয়ে অন্তত তিনটি বেশি।

তাছাড়া বেনি গ্যান্টজ নেতৃত্বাধীন দেশটির প্রধান বিরোধী জোট কমপক্ষে ৫৩টির বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারে বলে এরই মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে।

তাছাড়া এবারের নির্বাচনে প্রায় ১২ শতাংশ ভোটার এখনো তাদের ভোট প্রদান ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি। তবে যে সরকারই আসুক না কেন; তা প্রতিবেশী ফিলিস্তিনের তেমন কোনো উপকারে আসবে না বলেই দাবি বিশ্লেষকদের।

কেবল জোট সরকারের ক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও দুর্ভাগ্য তাড়া করে যাচ্ছে ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে। সম্প্রতি ইরান ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে উচ্চাভিলাষসহ আরও বেশকিছু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, যদিও এসব অভিযোগ সত্ত্বেও জনগণের কাছে নেতানিয়াহু এখনো এক জনপ্রিয় নাম। যে কারণে নির্বাচনে জনপ্রিয়তা না কি বাস্তবতা জয়লাভ করবে, এবার তা-ই শিগগিরই জানা যাবে।