• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৯:০০

ইরানে ওষুধ সংকট


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরান বলছেন চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছেনা তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে।

ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক বলেছেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রেখেছে’। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ‘ফার্মাসিউটিক্যালসের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে কারণ ওষুধ কিনতে আর্থিক লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে’।

যেসব ওষুধ আমদানি করে ইরান

প্রয়োজনীয় প্রায় সব মৌলিক ওষুধই ইরান নিজে উৎপাদন করে কিন্তু যখন এডভান্সড মেডিসিনের প্রসঙ্গ আসে তখন দেশটিকে আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। এক হিসেবে দেখা যায়, ইরানের প্রয়োজনীয় ওষধের চার শতাংশ তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে আমদানি করা ওষুধ ও তাদের মূল্যের ওপর কম তথ্যই পাওয়া যায়।

বিবিসির পার্সিয়ান সার্ভিস তাদের দর্শকদের কাছ থেকে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানতে পেরেছে। একজন ভুক্তভোগী বলছেন, ‘একটি ওষুধ পেতে আমাকে অন্য কয়েকটি শহরে যেতে হয়েছে যে সেখানকার ফার্মেসিগুলোতে আছে কিনা। কয়েকটিতে আছে কিন্তু দাম এতো বেশি যে আমার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে’।

একজন ওষুধ আমদানীকারক জানিয়েছেন, গত দুবছরে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দামও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অচেতন করা, ক্যান্সার চিকিৎসা ও ডায়াবেটিসের ঔষধ পাওয়াটাই কঠিন হয়ে উঠেছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে স্বাস্থ্য ও মেডিকেল সেবার খরচ বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তির পর ২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০১৮ সালে আবার যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে যা কার্যকর হয় শিল্প ও ব্যাংক খাতে।

যদিও ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী আমদানীতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এটিও সম্ভব হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রিচার্ড নিপিয়ো বলেন, ‘কিন্তু সমস্যা হলো, ব্যবসা চালু রাখতে হলে একটি ব্যাংক পেতে হবে এসব বিষয়ে লেনদেনের জন্য। ব্যাংক পাওয়াটাই একটা বড় সমস্যা’।

আবার সব ওষুধ বা মেডিকেল সেবা নিষেধাজ্ঞার বাইরে নয়। ইউকে ফিন্যান্সের পরিচালক জাস্টিন ওয়াকার বলেন, ‘মানবিক সেবার বাণিজ্য ও পেমেন্ট ইরানের সত্যিই জটিল বিষয়’।

ইরানের সরকারি হিসেবে গত ১৬ মাসের ওষুধ ও উপকরণ আমদানির একটি চিত্র পেয়েছে বিবিসি। সেখানে দেখা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি ১৭৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল এবং এরপরই এটি কমতে শুরু করে। চলতি বছর জুড়ে ৬০ শতাংশ কমে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে যায়।

জাস্টিন ওয়াকার বলেন, ব্রিটেনের ব্যাংকগুলোর জন্য মেডিকেল সামগ্রী ইরানে পাঠানো কঠিন তাই এখন সীমিত আকারে ব্যবসা হচ্ছে। আসলে নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য পদ্ধতিই ওষুধ আমদানি কঠিন করে তুলেছে। এ কারণে ইরানের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ও দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে ইউরোপীয়রা সহায়তার যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানাচ্ছে ইরান। যদিও এটি রাজনৈতিকভাবে আসলেই কঠিন।