• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী

রাত ২:০৯

আ.লীগের অনুপ্রবেশকারী অপকর্মে ‘ভাবমূর্তি’ নষ্ট


টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। আর ক্ষমতার ছায়াতলে থাকতে বিভিন্ন দলের নেতারা যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগে। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই দলের বিভিন্ন পদে আসীন হয়েছেন অনেকে। এরপর থেকেই তারা লিপ্ত হচ্ছেন নানা অপকর্মে। ফলে আওয়ামী লীগের ‘ভাবমূর্তি’ক্ষুন্ন হচ্ছে।

দলের নেতাদের দাবি, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা নিজ দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাদের চরিত্র পাল্টায়নি। দলের যোগ দেওয়ার পর নানা অপকর্ম করছেন। এতে আওয়ামী লীগের ‘ভাবমূর্তি’যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোনঠাসা দলের তৃণমূল নেতারা।

সম্প্রতি ফেনীর নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় জড়িত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন এবং বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নে দলের প্রবীণ নেতাকে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু। তারা উভয়ই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ২০১৩ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টি-বিএনপির রাজনীতি করতেন। ২০১৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আর্শীবাদে সোনাগাজীর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন। পরে ২০১৮ সালে সভাপতি হন। যদিও রাফি হত্যাকাণ্ডের পর রুহুল আমিনকে বহিস্কার করে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে, বগুড়ার গোহাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগে বিএনপির রাজনীতি করতেন।

গত ১১ মে চট্টগ্রামের সাত জেলার নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় অনুপ্রেবেশকারীদের বিষয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন,‘সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীদের দরকার নেই। যারা এসেছে, তাদের ধীরে ধীরে বের করে দিতে হবে। ইতোমধ্যে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘সাংগঠনিক ও সরকারি কাজে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। ওই সময় অনেকে নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীও থাকে। পরে তারা এসব ছবি দেখিয়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা বনে যায়। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের এই প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’