• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৩রা জুলাই, ২০২০ ইং | ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৮:২৯

আর রাজীর বিরুদ্ধে বেআইনি নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি ৪৬ শিক্ষকের


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খ. আলী আর রাজীর বিরুদ্ধে জারি করা বেআইনি নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬ জন শিক্ষক। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারা এই দাবি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, খ. আলী আর রাজীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি যে পদক্ষেপ নিয়েছে সে ব্যাপারে আমরা আমাদের উদ্বেগ ও নিন্দা জানাচ্ছি এবং পাশাপাশি তাকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে চাই যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর রাজীকে যে নোটিশ দিয়েছে তা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ কর্তৃপক্ষকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তার সীমা বহির্ভূতই না বরং বিশ্ববিদ্যালয় ধারণারই পরিপন্থী।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধিতে পরিষ্কার বলা আছে যে, একজন শিক্ষককে কী কী কারণে কারণ দর্শাতে বলা যাবে এবং তার প্রক্রিয়াটি কী হবে। সেখানে যা বলা হয়েছে তার দ্রুতপাঠ নিম্নরূপ:বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রসঙ্গে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তোলা যাবে যদি তিনি:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যদি অদক্ষ হন, শিক্ষকতায় অক্ষম হন, যদি তিনি অসদাচরণ করেন (অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশ অমান্য করেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যান বা এমন কিছু করেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসুলভ নয়), যদি তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হন,চ. যদি তিনি রাষ্ট্র ও/বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছেন বলে প্রতীয়মান হয় এবং যদি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকের অনুমতি না নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, টিউশানি বা অন্যকোনো চাকরিতে জড়িত থাকেন।
কিন্তু ওপরের কোনো অভিযোগে চবি কর্তৃপক্ষ আর রাজীকে কারণ দর্শাতে বলেনি। বলেছে, তার একটি ফেসবুক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় জড়িত শিক্ষকদের সুনামহানি হয়েছে। সুতরাং এটি পরিষ্কার যে চবি কর্তৃপক্ষ তাদের এখতিয়ার ও সীমার বাইরে গিয়ে এই নোটিশ জারি করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বা তার শিক্ষকদের সুনামহানীর অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাই।

এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের ব্যাপারে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। আইন বলছে, প্রাপ্ত অভিযোগ উত্থাপনের আগে উপাচার্য একটি প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যদি সেই কমিটি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, যে অভিযোগ এসেছে তার প্রাথমিক গ্রহণযোগ্যতা বা ভিত্তি রয়েছে তবে সেই কমিটি তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তখন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সুপারিশ করবে। সেই তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারবে। আর যদি রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উত্থাপন করতে হয় তাহলে অভিযুক্তকে দেয়া চিঠিতে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে এবং সেখানে কী শাস্তি তাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিতে চাইছে তারও সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। এবং এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যই কেবল পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের ব্যাপারে ‘ইনকোয়েরি কমিটি’ গঠন করতে। কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, শিক্ষক আর রাজীর বিরুদ্ধে এই নির্দেশনা অনুসরণ না করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) একটি চিঠি ইস্যু করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ উত্থাপন কেবল বিধি-বিধানের চরম লঙ্ঘনই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অবমাননাকর এবং তাদের মর্যাদায় মারাত্মক আঘাত।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে, আর রাজীকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তাতে কারা তার স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, কে বা কারা মনে করছেন যে তাদের সম্মানহানি ও সুনামহানি হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির নামোল্লেখ ব্যতীত এমন কারণ দর্শানোর নোটিশ পুরো বিষয়টিকে হাস্যকর করে তুলেছে এবং এই চিঠিটিই বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও তার শিক্ষকদের সম্মানহানির কারণ হয়েছে।

আমরা আর রাজীর সংশ্লিষ্ট স্ট্যাটাস বিষয়ে বলতে চাই যে, ওই স্ট্যাটাসে আর রাজী যা বলেছেন তা বাংলাদেশের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ওই স্ট্যাটাসে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এটি সত্যিই বোধগম্যতার বাইরে যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেন ধরে নিলেন যে এতে তাদের প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে। তার মানে কি এই দাঁড়ায় না যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রকারন্তরে স্বীকার করে নিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নামে তারা “কথায় কথায় নিজের ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশ লাগিয়ে দেন, অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেন বা ভয় দেখান?” যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে এই সব অপকর্মের দায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই বহন করতে হবে।

আমরা আরও বলতে চাই, আর রাজী বা যেকোন শিক্ষক বা সচেতন নাগরিকেরই অধিকার রয়েছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ কীভাবে চলবে বা চলা উচিত বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান পরিস্থিতি কী সে সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশের। আর রাজী তার বিশ্ববিদ্যালয় নামোল্লেখ করেও যদি ওই স্ট্যাটাস দিতেন তাহলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুযোগ ছিল না তার বিরুদ্ধে কোনো কারণ-দর্শানোর নোটিশ দেয়ার। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সে অধিকার দেয়নি।এই প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে চাই যে, আর রাজীর বিরুদ্ধে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং যে প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে, উভয়ই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের বিধি-বিধান বহির্ভূত বিধায় বে-বেআইনী। আমরা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকবৃন্দ:

আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গীতি আরা নাসরীন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।, কামাল চৌধুরী, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৭। মাহবুবুল হক ভূঁইয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সুবর্ণা মজুমদার, সায়মা আলম, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়্‌, সৌভিক রেজা, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়্‌,গোলাম হোসেন হাবী্ব, সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজী বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়্‌, কামরুল হাসান, অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নাসির আহমেদ, ইংরেজি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় , কাজী মামুন হায়দার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়্‌, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়্‌, নেহাল করিম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি্‌ , পারভীন জলী, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রুশাদ ফরিদী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়্‌, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
, জীবন কৃষ্ণ মোদক, ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। সুকান্ত বিশ্বাস, ইংরেজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। রায়হান রাইন, দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। কাজী শেখ ফরিদ, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়২৪। খাদিজা মিতু, নৃবিজ্ঞান বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। হিয়া ইসলাম, মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ, ইউল্যাব। আরিফুজ্জামান রাজীব, ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। মাহমুদুল সুমন, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। মাসুদ ইমরান মান্নু, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সাঈদ ফেরদৌস, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়৩০। নাসরীন খন্দকার, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। আইনুন নাহার, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। শামস আরা খান, ফার্মেসি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বখতিয়ার আহমেদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সাদাফ নূর, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। দেলোয়ার হোসেন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সায়েমা খাতুন, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাহিমা আল ফারাবী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ, যবিপ্রবি। ফাহমিদুল হক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৪১। অর্পিতা শামস মিজান, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়৪২। আব্দুল্লাহ বাকী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়৪৩। সেলিম রেজা নিউটন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। মোঃ শফিকুল ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। আ-আল মামুন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাধীন সেন, ভূতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়