• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ১১:০২

আমার নাতিটা, কনে গেল রে…, আবরারের দাদার আর্তনাদ


অনলাইন ডেস্ক : নিজের পরিবারে সবার চোখের মনি ছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার। আবরারের দাদা আবদুল গফুর বিশ্বাস নাতির এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

আবরারের কথা উঠলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। বুক চাপড়াতে চাপড়াতে তিনি বলেন, ‌‘আল্লারে… আমার নাতিটা… কনে গেল রে… ।’

চোখের পানি মুছে আবদুল গফুর বিশ্বাস বলেন, ‘ও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। পড়াশুনাতেই ছিল তার সব মনোযোগ। পঞ্চম, অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছে, মাধ্যমিকে বৃত্তি পেয়েছে। পরে নটর ডেমে ভর্তি হয়েছে, ডাক্তারি পরীক্ষায় পাশ করেছে, কিন্তু পরে বুয়েটে ভর্তি হয়েছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে গলা ধরে আসে আবরারের দাদার। তার বেশিরভাগ কথাই বোঝা যায় না। তবে এতটুকু বোঝা যায় আর অন্যসব দাদার মতোই ভালোবাসতেন নাতিকে। যতদিন বেঁচে থাকবেন নাতি হারানোর বেদনা, এই ক্ষত কেউ মুছে ফেলতে পারবে তার ভারাক্রান্ত হৃদয় থেকে।

প্রথমে আবদুল গফুর বিশ্বাসকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরে জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আবদুল গফুর বিশ্বাস স্বপ্ন দেখতেন তার নাতি অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু জীবন সায়াহ্নে এসে এমন গভীর বেদনা তাকে বয়ে বেড়াতে হবে কে জানতো!

কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছিলেন আবরার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন। কিন্তু নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন।