• ঢাকা
  • সোমবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে সফর, ১৪৪১ হিজরী

সকাল ৮:১১

আমাকেও মেরে ফেলুন, বাবা-মা একবারেই কষ্ট পাবে : আবরারের ভাই


অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজকে মারধর করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফায়াজ।
বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় আবরার ফাহাদের রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে যান বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। সেখানে ভিসিকে বাধা দেয় গ্রামবাসী। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারী আহত হন।

ফায়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে Additional SP (উনি বলেন ওনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পান আমার গায়ে হাত দেয়ার? আমার ভাবিকে মারছেন? নারীদের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেন আপনারা? এই চাটুকারদের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২ মিনিটের মধ্যে জানাজা শেষ করতে বলেছেন কীভাবে? যেই ছাত্রলীগ মারল তারা কেন সর্বত্র? আমার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে, আপনার আরেক ছেলে ঢাকা থাকে, আপনি কি চান তার ক্ষতি হোক। আজ বলেছেন কেউ কিছু করলে এক সপ্তাহ পর গ্রামের সব পুরুষ জেলে থাকবে। বিচার চাই, আমি বিচার চাই…নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন। বাবা-মা কষ্ট একবারে পাবে।’

আবরার মৃত্যু নিয়ে ক্যাম্পাস যখন উত্তাল তখন সেখানে তিনি ছিলেন না। ক্যাম্পাসেই সন্তান সমতুল্য শিক্ষার্থীর জানাজা হলেও তাতেও অংশ নেননি উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার পর ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন ভিসি। সেখানে প্রায় ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রাতে মুক্ত হোন।

তাকে নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছিল তখন নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়ি কুষ্টিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। কিন্তু তাকে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এলাকাবাসীর প্রবল বাধায় র‌্যাব-পুলিশের পাহারায় ভিসি ঢাকায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

বুধবার সকালে তিনি কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হোন। বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতু দিয়ে পাবনা হয়ে তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌছান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি কড়া নিরাপত্তায় রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে আবরারের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ সেখানে ছিলেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তিনি আবারের বাড়ির দিকে রওনা হোন। কিন্তু স্থানীয় হাজার হাজার জনতা তাদের বাধা দেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় আবরার ফাহাদের ভাই ফায়েজকে পুলিশ হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা। আবরারের মৃত্যু, তার জানাজায় বুয়েট উপাচার্যের উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ জানান এলাকাবাসী।

রায়ডাঙ্গা গ্রামে আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আবরারের বাড়ির পাশে ও কবরের আশেপাশের এলাকায় অসংখ্য র‌্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়।