• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

রাত ৯:৩৮

আওয়ামী লীগের শতাধিক অভিযুক্ত


নতুন কাগজ ডেস্ক: শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা নিঁখোজ রয়েছেন। তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। এদের কাউকে কাউকে র‌্যাব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হণ্যে হয়ে খুঁজছে। কিন্তু তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোন খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলেছেন, শতাধিক নেতার মধ্যে অন্তত ৪০জন বিদেশ চলে গেছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বাকিরা দেশেই কোথাও ঘাপটি মেরে আছেন। তারা যেন বিদেশ যেতে না পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, ক্যাসিনো বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং যুবলীগ নেতা আলহাজ্ব এ,কে,এম, মুমিনুল হক সাঈদকে পুলিশ খুঁজছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য আছে যে, সাঈদ এখন সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। শুদ্ধি অভিযানের প্রথম দিনই সিঙ্গাপুরে তিনি পালিয়ে যান বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভুইয়াকে পুলিশ খুঁজছে।
এই দুজনও দেশ ত্যাগ করেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছেন। শ্রমিক লীগের নেতা ক্যাসিনো ব্যবসায় অভিযুক্ত কাজী জাকারিয়াকে পুলিশ খুঁজছে। তিনি উত্তরা পশ্চিম থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। যদিও এখন পর্যন্ত তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন এবং দেশেই অবস্থান করছেন। যুবলীগের আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক এবং টেন্ডার বাণিজ্যের অন্যতম হোতা মো. শফিকুল ইসলামকেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা খুঁজছে। শফিকুল ইসলামও বিদেশ যেতে পারেননি বলে মনে করছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ফালুর একসময়কার ক্যাডার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়াকেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খুঁজছে। তিনিও গা ঢাকা দিয়েছেন।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা মনে করছে, তিনিও বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ৬০ থেকে ৭০ জন যারা দেশে আছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। যখনই সুযোগ পাওয়া যাবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। আর যারা বিদেশ চলে গেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং মামলায় তারা যখন ওয়ান্টেড হবে তখন ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। আবার অভিযুক্ত নয় এমন অনেক আওয়ামী লীগের নেতারাও গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন যে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদেরকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা কোথায় আছেন সে সম্পর্কে কোন তথ্য ওবায়দুল কাদেরের কাছে নাই। ওবায়দুল কাদের মনে করেন যে, তারা সবাই যে অভিযুক্ত এমনটা নয়। অনেকে ভয় পেয়ে আত্মগোপন করেছেন বা পালিয়ে গেছেন বলে তিনি মনে করেন।

নতুন কাগজ/আরকে