• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

বিকাল ৪:২৫

অহংকারী ভারতের করুণ বিদায়


ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল কিউইরা। আর এবার হট ফেবারিট ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল কেন উইলিয়ামসনের দল। লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকে বিপদে পড়লেও জাদেজার ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু শেষ দিকে ফিনিশিং দিতে না পারায় ১৮ রানের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে কোহলি-ধোনিদের।

শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনার এই ম্যাচে ৩ বল বাকি থাকতেই ২২১ রানে থামে ভারতের ইনিংস। এবারের বিশ্বকাপে হট ফেবারিট ছিল ভারত। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে শিরোপার সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে জয়ী ধরে নেয়া হচ্ছিল বিরাট কোহলির ভারতকেই। গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছিল তারা। একটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। তবুও ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা।

সূচি অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বর দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে ভারত। বৃষ্টি শঙ্কা মাথায় নিয়েই মঙ্গলবার শুরু হয় ফাইনালে ওঠার লড়াই। শেষ পর্যন্ত শঙ্কা সত্যি করে নেমে এলো বৃষ্টি। নিউজিল্যান্ডের ৪৬.১ ওভারে করা ২১১ রানের মাথায় নামা বৃষ্টি ম্যাচটাকে ঠেলে দিলো রিজার্ভ ডেতে।

আজও বৃষ্টির শঙ্কা ছিল; কিন্তু সে শঙ্কা আর সত্যি হয়নি। বৃষ্টি নামেনি। তবে আদ্র আবহাওয়ার কারণে উইকেটের যে পরিবর্তন তাতে আগুন ঝরিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা। শুরুতেই ট্রেন্ট বোল্ট আর ম্যাট হেনরির আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভারতের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ।

আগের ৮ ম্যাচে ৬৪৮ রান করা রোহিত শর্মা এবার আউট হয়ে গেলেন মাত্র ১ রান করে। বিরাট কোহলি হলেন এলবিডব্লিউর শিকার। তাও ১ রানে। টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুলও আউট হলেন ১ রানে। যখন স্কোরবোর্ডে ৫ রান, উইকেট নেই ৩টি।

৫ রানে ৩ উইকেট আর ২৪ রানে ৪ উইকেট পড়ে যখন মহা ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়েছিল ভারতের, তখন ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাঁড়িয়ে সৌধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন তরুণ ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত। ধীরে ধীরে তার গড়া সৌধ মাঝ পথেই ভেঙে দিলেন মিচেল স্যান্টনার।

কিউই এই বাঁ-হাতি স্পিনারের বলে ছক্কা মারার চেষ্টা করেন পান্ত। কিন্তু একেবারে লাইন বরাবর দাঁড়িয়ে তার ক্যাচটা তালুবন্দী করে নেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। ৫৬ বলে খুব কষ্ট করে গড়া ৩২ রানের ইনিংসটির যবনিকাপাত ঘটলো তার। ৭১ রানে পড়লো ৫ উইকেট। এরপর ৯২ রানের মাথায় ৬ নম্বর উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফিরে যান হার্দিক পান্ডিয়াও।

মহেন্দ্র সিং ধোনি আর রবীন্দ্র জাদেজার ১১৬ রানের জুটির পর চূড়ান্ত নাটকীয়তা তৈরি হয়। নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচটিতে ভারতকে এই দু’জন টেনে তোলেন জয়ের ট্র্যাকে। ৬ উইকেটে ৯২ থেকে ভারতকে তারা নিয়ে যান ২০৮ রানে। এ সময়ই ভুলটি করে বসলেন জাদেজা।

মাথার ওপর ঝেঁকে বসা রান তাড়ার চাপটা সামলাতে পারেননি। ট্রেন্টে বোলের বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে আকাশে বলটা তুলে দিলেন। জায়গায় দাঁড়িয়ে বলটি তালুবন্দী করে নিলেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৫৯ বলে ৭৭ রান করে ফিরে যান জাদেজা। ৪টি করে বাউন্ডারি এবং ছক্কার মার মারেন তিনি।

গ্রেট ফিনিশার বলা হয় মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। বলা হয় খুব ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় তিনি। কঠিন চাপের মুহূর্ত থেকেও দলকে বের করে আনার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার।

৪৯তম ওভারের প্রথম বলে লকি ফার্গুসনকে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলেন ধোনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, তৃতীয় বলে দ্রুত দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোতে আউট হয়ে ফিরে যান ধোনি। ৭২ বলে ৫০ রান করে আউট হন তিনি। এরপর বাকি ছিল কেবলই ভারতের পরাজয়ের আনুষ্ঠানিকতা। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের করার ছিল না কিছুই। শেষ পর্যন্ত ১৮ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।