ঢাকা শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

সন্ধ্যা ৬:২৯
সারা বাংলা

অবৈধ লেনদেনের মহাজন দিনেশ-সালাহউদ্দিন’কে রুখবে কে?

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দলিল প্রতি ৫’শ। স্লিপে লাখে ১ হাজার ৫’শ। পাওয়ার নামায় ৫ থেকে ৭ হাজার। হেবা বিল এয়াজ দলিল হলেই আনলিমিটেড আর হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি হলে তো কথায় নেই, যে ভাবে কষে নেওয়া যায়।

আর এই নির্ভূল হিসাব কষে ঘুষের টাকা আদায় করে সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের অবৈধ লেনদেনের মহাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন মোহরান দিনেশ কুমার মন্ডল। আর ২মাস আগে নিয়োগ পাওয়া টিসি মোহরার শেখ সালাহ উদ্দিন।

বর্তমানে দিনেশ-সালাহউদ্দিন জুটি সাধারণ দলিল লেখক ও জমি রেজিষ্ট্রি করতে আসা সাধারণ জনগণকে চুষে খাচ্ছে। সাধারণ মানুষ জানতে চাই এদের খুঁটির জোর কোথায়। এদের রুখবে কে? অবশ্য ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহরান দিনেশ কুমার মন্ডল প্রতিবেদককে জানান, ভাই বোঝেন তো আমি কিছু না, সব ডিআর স্যারের নির্দেশে চলে।

সূত্র জানায়, টাকা ছাড়া কিছু হয় না সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে। টেবিলে টেবিলে পয়সা না দিলে কোন কাজই হয় না। বর্তমানে সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস সামনে রেখে কতিপয় লেখকদের সংশ্লিষ্টতায় সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের প্রসারতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দলিল লেখক জানান, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনেশ ও সালাহউদ্দিন এর সাথে সাব রেজিষ্ট্রারের সহকারী আব্দুল জব্বারের বিরোধ চলছে। জানা গেছে দলিল প্রতি স্লিপের টাকা থেকে ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা দিনেশ-সালাহউদ্দিন জুটি নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এসব ঘটনা নিয়ে মনকষা কষি চলছে ৩ আদায়কারীর মধ্যে। অপর দিকে কয়েক মাস যাবত সপ্তাহে ৩ দিন অফিস হয় সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে। সে কারণে সেবা নিয়ে আসা ব্যক্তিদের বিভিন্ন কিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে, সকালে এসে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার সাথে আছে দিনেশ-সালাহউদ্দিন জুটির ঘুষের দরকষা কষি।

আজ বুধবার দুপুরে ৩’শতক জমি রেজিষ্ট্রি করতে অফিসে যান সদরের দেবনগর গ্রামের আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। যুবক আব্দুল্লাহ কোন লেখক না ধরে সরাসরি এক দালালের মাধ্যমে মোহরান দিনেশ কুমার মন্ডল কাছে যান। জমির কাগজপত্র যাচাই করে দিনেশ বলেন মাঠ পর্চা নেই আর সব ঠিক আছে। স্যার কাগজপত্র ঠিক না হলে জমি রেজিষ্ট্রি করেন না। পরে দিনেশের জন্য কাজ করা ঐ দালাল বলে পর্চা আমি তৈরি করে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেব এজন্য ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। টাকা কম থাকায় তিনি আগামী সপ্তাহে জমি রেজিষ্ট্রি করবেন বলে জানান। এমনই পাহাড়সম দুর্নীতি করলেও কারো কিছু করার নেই। সাধারণ দলিল লেখকেরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। তাদের মুখ খোলার সাহস নেই কথা বললেই শো-কজ আর লাইসেন্স আটকের ভয় দেখানো হয় তাদের। আদায়কারীর পক্ষ থেকে বলা হয় ডি আর স্যার কিন্তু এক কথার মানুষ নির্ধারিত রেটই দিতে হবে।

এব্যাপারে আব্দুল জব্বার কিছু বলতে রাজি হননি। তবে সমিতির টাকা আত্মসাতের জন্য নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়া বর্তমান সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস বলেন, আমরা লেখক অফিসের ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না। এব্যাপারে ভূক্তভোগী জনসাধারন কে দেখবে কে। দুর্নীতি যুক্ত থেকে কবে মুক্ত হবে। এদের রুখবে কে? এমনই প্রশ্ন সাধারণ জণগনের।