ঢাকা শনিবার, ২৫শে মে, ২০১৯ ইং | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

বিকাল ৫:৩৩
সম্পাদকের কলামসম্পাদকের কলাম টপ

অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হতেই হবে


মো: সাহেদ : আবারো চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এক নারীকে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাস চালক-হেলপারের লালসার শিকার হয়েছেন তিনি।এই নারী মানবসেবাকে পেশা হিসেছে বেছে নিয়েছিলেন। ছিলেন রাজধানীর বেসরকারি একটি বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের নার্স।
এর আগে গত বছর ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে চালক-হেলপারদের লালসার শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিল রূপা নামের আইনের এক ছাত্রীকে। কেবল গণপরিবহনেই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক গণ্ডি- কোথাও নিরাপদ নন নারী। বিষয়টি সরকারকে ভাবতে হবে গভীরভাবে।
ফেনীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেয়ায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয় নুসরাত জাহান রাফিকে। এসব ঘটনা থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট তা হল- নিজের শিক্ষক থেকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির গণপরিবহন কর্মী, কারও কাছেই নিরাপদ নন নারীরা।
এ জন্য নিপীড়নবিরোধী নীতিমালার আলোকে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।
শাহিনুর আক্তার তানিয়া নামের ওই নার্স বাবার সঙ্গে প্রথম রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সোমবার রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে কটিয়াদীগামী স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসে কয়েকবার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা হয়। রাত ১০টার মধ্যে তার পৌঁছার কথা গন্তব্যে। কিন্তু বাসটি নিজের স্টেশনের পৌঁছানোর আগে সব যাত্রী নামিয়ে দিয়ে তানিয়াকে গণধর্ষণ ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পবিত্র রমজানের প্রথম রাতে গত বছর মা হারানো তানিয়ার এমন নির্মম গণধর্ষণ-হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গা শিউরে ওঠার মতো।
খুনি-ধর্ষকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার মাধ্যমেই কেবল এর কিছুটা প্রতিকার হতে পারে।
চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ গণপরিবহনে যাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা, ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ও যাত্রীদের জিম্মি করাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা পরিবহন শ্রমিকরা করছে না।
কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় গণপরিবহনে নারী নির্যাতন-ধর্ষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
নরপিশাচদের লালসার শিকার তানিয়ার কথাই ধরা হোক না কেন, নিজের ও পরিবারের সমৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে অবদান রাখছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেবা গ্রহণের সুযোগ অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়া হল।

আর কোনো তানিয়া, রাফি ও রূপার ভাগ্যে যেন এমন পরিণতি না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হত্যাকারী-ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই।