Natun Kagoj

ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

আপনি ফিট কিনা জেনে নিন

আপডেট: ৩১ আগ ২০১৭ | ১৭:০৪

লাইফস্টাইল ডেস্ক: আর দশজনের মতোই হয়তো আপনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। কিন্তু আপনার শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তি হয়ত ক্রমশ বাড়ছে। যার ফলে আপনার শারীরিক কিছু লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনি দুর্বল বা আনফিট হয়ে পড়ছেন।

অনেকেই মনে করেন, ফিট থাকা মানেই হালকা-পাতলা হওয়া। আসলে কিন্তু তা নয়। ‘শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা মানেই ফিট থাকা।’ এমনটাই বলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই শারীরিকভাবে ফিট না থাকলে শুধু এমন ক্লান্তি নয়, শরীরে নানা রোগ-বালাই ও জটিলতা দেখা দেবে।

নীচেআনফিট শরীরের কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হলো:

১. দ্রুত ক্লান্ত হওয়া: অল্প কিছু কাজ করলেই ক্লান্তবোধ করা। মনে হয় অনেক কাজ করেছেন, ব্যাপক শারীরিক পরিশ্রম করেছেন।

২. শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা: শরীর আনফিট হলে স্বাভাবিকের চেয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক দ্রুত হবে। হাঁপানি রোগীদের মতো ঘনঘন শ্বাস নেবেন আপনি।

৩. কথায় অমনোযোগী: কেউ যখন কথা বলবে, তখন সেখানে একটানা মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন না। মন বিক্ষিপ্তভাবে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করবে। নিজে কথা বলার সময় প্রায় খেই হারিয়ে ফেলবেন, অন্যমনষ্ক হবেন। ফলে যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন, দ্রুতই পাল্টে ফেলছেন সেই কথার বিষয়।

৪. স্মৃতিশক্তি হ্রাস: ছোটবেলার কথাও আপনি এক সময় সব বলতে পারতেন। তাই আপনার স্মৃতিশক্তির সুনাম করতো সবাই। কিন্তু হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, কিছুদিন ধরে দেখছেন গতকাল কী ঘটেছে বা সকালে পত্রিকায় কী পড়লেন তা মনে পড়ছে না বা খেয়াল করতে পারছেন না। সুতরাং এটা পরিষ্কার আপনি আনফিট হয়ে পড়ছেন।

৫. কাজে মন না বসা: কোনো কাজ করতে ভালো লাগছে না বা সবকিছুতেই বিরক্তি লাগছে। কারো কথা শুনতে ভালো লাগছে না। অস্থিরতা লাগছে। এতে বুঝবেন, আপনি আনফিট হয়ে পড়ছেন।

৬. ঘুমের সমস্যা: আপনি আনফিট হয়ে পড়েছেন কিনা, তা বুঝার আর একটি উপায় হলো- হয় ঘুম খুব বেশি হচ্ছে অথবা ঘুম একেবারেই আসবে না।

৭. পুশ আপ করতে না পারা: পুশ আপ বা বুকডন করতে না পারার অর্থ আপনার দেহের ফিটনেস মোটেই ভালো নয়। সঠিকভাবে বুকডন করার জন্য আপনার দেহকে সোজা রেখে হাতের ওপর ভর দিয়ে দেহকে ওঠানামা করতে পারবেন। ৫০ বছরের কম বয়সী যে কোনো ফিট ব্যক্তিরই পাঁচ থেকে ১০ বার বুকডন করতে পারা উচিত। আপনি যদি এ কাজটি না পারেন তাহলে বুঝতে হবে আপনার শরীর দুর্বল। সঠিকভাবে কারণ নির্ণয় করে শারীরিক অনুশীলন করে কিংবা অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে এ দুর্বলতা কাটাতে হবে।

৮. হৃৎস্পন্দন কমার হার: শারীরিক অনুশীলনের সময় মানুষের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। এটি বেড়ে গিয়ে মিনিটে ১৪০ থেকে ১৯০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনুশীলন বন্ধ করলেই তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মিনিটে ২০ বিট করে কমতে থাকবে। তবে আপনি যদি দুর্বল হন তাহলে হৃৎস্পন্দন কমতে এর চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগবে।

৯. কোমরের মাপ: দেহের অন্যান্য অংশের তুলনায় আপনার ভুঁড়ি কিংবা কোমরের প্রস্থ যদি বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফিটনেসের সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে দেহের চর্বি বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এটি আপনার হৃৎস্পন্দন, কিডনি, লিভার, হজমতন্ত্র ও অগ্ন্যাশয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে, যা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। আপনার যদি এ লক্ষণ দেখা যায় তাহলে শারীরিক অনুশীলন ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে কোমরের পরিধি সঠিক মাত্রায় আনতে হবে।

১০. সিঁড়িতে ক্লান্তি: আপনার যদি সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পর অক্সিজেনের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায় কিংবা ক্লান্তিবোধ হয় তাহলে সতর্ক হোন। এটি শারীরিক দুর্বলতার প্রমাণ। আপনার শরীরের এ অবস্থা ঠিক করার জন্য ব্যবস্থা নিন। প্রয়োজনে প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে জগিং করুন।

১১. চিনির প্রতি দুর্বলতা: শারীরিক অনুশীলনের পর মিষ্টি পানীয় বা মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। তবে এটি অপর্যাপ্ত অনুশীলনের পরই বেশি দেখা যায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত শারীরিক অনুশীলন করা হলে মিষ্টি পানীয় ও খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যাবে। তাই আপনার চিনির প্রতি আকর্ষণ লক্ষ্য রাখুন।

১২. সব সময় ক্লান্তি: সারাদিন কাজের সময় আপনার কি সর্বদা ক্লান্তি ভর করে? পরিশ্রমের পরে ক্লান্তি লাগলে তা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু অতি সামান্য পরিশ্রমে কিংবা বিনা কারণে যদি দেহ ক্লান্ত হয়ে যায়, তাহলে তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে আপনার দুর্বলতা রয়েছে বলে ধরা যেতে পারে।

১৩. বিশ্রামের সময় হৃৎস্পন্দন: শান্ত হয়ে বিশ্রামের সময়ে আপনার হৃৎস্পন্দন কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনার যদি বিশ্রামের সময়েও হৃৎস্পন্দন ৬০ থেকে ১০০ না থাকে তাহলে তা অস্বাভাবিক। এক্ষেত্রে শরীরের শুধু দুর্বলতা নয়, অন্য কোনো সমস্যাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে চিকিৎসকের সহায়তা নিয়ে এর কারণ নির্ণয় করে তা দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হলে আপনার শরীর নিয়ে ভাবুন। কেবল ভাবলেই হবে না; যথাযথ যত্ন নিন। যত্ন বলতে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত বিশ্রাম ও ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তির দিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন