কাঁচামরিচ ধনেপাতা স্বাভাবিক, বেগুনের গায়ে আগুন!

0
26

নতুন কাগজ ডেস্ক :  কয়েক দফা বেড়ে বেগুন কেজিতে ৯০ টাকায় পৌঁছে গেছে। আর এভাবেই লাফিয়ে লাফিয়ে রাজধানীর বাজারে বেগুনের দাম বেড়ে চলছে।আপাত: দৃস্টিতে মনে হয় এসব দেখার বা মনিটরিং করার জন্য কেউ নেই। প্রতিবা্রই রমজানকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর এ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

এতে সাধারণ ক্রেতাদের দূভোর্গ  বেড়ে যায় কয়েক গুণ। রোজার মাসে কোনভাবেই এ উত্তাপ যেন কমে না। তবে অতীতের প্রথা ভেঙে দামের ক্ষেত্রে এবার এগুতে পারেনি কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা। মাসের অধিক সময় ধরেই এ দুটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল। এমনকি কাঁচামরিচ-ধনেপাতায় রোজার উত্তাপের প্রভাব এখনো পড়েনি। রোজায় বেগুনে আগুন লাগলেও এখনো এ মাসের চাহিদা বৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতায় তার প্রভাব না পড়ায় ক্রেতারা শুকুরিয়া আদায় করছেন।

রোজা দুয়ারে কড়া নাড়লেও দুই মাস আগের দামে বিক্রি হচ্ছে এ দুটি পণ্য। বাজার ভেদে আড়াইশ গ্রাম কাঁচামরিচ ১০-২০ টাকায় ও ধনেপাতা ২৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি  ৩০-৩৫ টাকা ও ধনেপাতা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, হাতিরপুল, উত্তরা, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়।

কথা হয় ব্যবসায়ী, ক্রেতাদের সঙ্গে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরু থকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। এপ্রিল মাসে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম মে মাসের শুরুতেই এক লাফে বেড়ে হয় ৭০ টাকা। দ্বিগুণ বাড়ার পরও এ সবজিটির দামের উল্লম্ফন থামেনি। আরও কয়েক দফা বেড়ে এখন অনেক বাজারেই ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবাসয়ীরা প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করছেন। গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

কিছুদিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।এ রির্পোট করার সময় জনৈক ক্রেতা এ প্রতিবেদকের নিকট হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজ আপনারা লিখবেন কাচা মরিচ ্ও ধনেপাতার দাম স্বাভাবিক, কালই দেখা যাবে এ দুটো‘র দাম বাড়াতে সক্রিয় হয়ে ওঠবে সিন্ডিকেট।আসলে সব জ্বালা আমাদের মত গরীবদের।‘

হাতিরপুল বাজারে দেখা যায়, প্রতিকেজি গোল বেগুন ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর লম্বা বেগুন ৭০-৮০ টাকায়। বেগুনের দামের বিষয়ে এ বাজারের ব্যবসায়ী মো. অকিল উদ্দিন বলেন, এপ্রিল মাসে লম্বা বেগুন প্রতিকেজি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এখন সেই বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। মূলত রোজার কারণেই বেগুনের এমন দাম। চলতি মাসের শুরু থেকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। আমরা আশা করছি রোজা চলে গেলেই বেগুনের দাম আবার কমে যাবে।

কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কেনেন মো. ইব্রাহিম প্রিন্স। তিনি বলছিলেন, গত শুক্রবার যে দামে বেগুন কিনেছি, আজ তার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেশি দামে কিনতে হলো। এক কেজি লম্বা বেগুনের দাম রেখেছে ৭৫ টাকা। যেভাবে বাড়ছে তাতে রোজা শুরুতে দেখব এক কেজি বেগুনের দাম শত টাকা হয়ে গেছে।

বেগুনের এমন দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী অলিউল্লাহ মিয়া বলেন, রোজার সময় বেগুনের দাম কিছুটা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এখন তো ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তার মতে রোজায় বেগুন না খেলেইতো আর দাম বাড়বে না। এতে বিস্মিত হওয়ার কী আছে? পাবলিক রোজার মধ্যে বেশী বেগুন খায় বলেই দাম বাড়ছে।

রোজায় বেগুনের দাম বাড়ার কারণ কী- এমন প্রশ্নে এই ব্যবসায়ী বলেন, রোজার সময় বেগুনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রোজার এক মাসে যে পরিমাণ বেগুনের চাহিদা থাকে, তা দিয়ে বছরের চার-পাঁচ মাসের চাহিদা মেটানো যায়।

শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন। তিনি বলেন, রোজা উপলক্ষে এবার কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার দাম এখনো বাড়েনি। প্রায় দুই মাস ধরে আড়াইশ গ্রাম কাঁচামরিচ ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়াইশগ্রাম ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। অথচ অন্য বছরগুলোয় রোজা শুরু হওয়ার আগেই এ দুটি পণ্যের দাম বেড়ে যেত।তবে কখন বেড়ে যাবে তা বলা মুশকিল।

উত্তরা কাচা বাজারে সবজি কিনতে আসা মিজান-বিন নূর বলেন, অনেকদিন ধরেই এক পোয়া কাঁচামরিচ ১০ টাকায় কিনছি। আজও এক পোয়া কাঁচামরিচের দাম ১০ টাকা রেখেছে। এক পোয় ধনেপাতা কিনেছি ২৫ টাকায়। তবে ধনেপাতা আমি নিয়তিম কিনি না, তাই এর দাম আগে কেমন ছিল তা বলতে পারছি না।

চলতি সপ্তাহে বেগুন, শশা ও চিনির দাম খুব বেড়েছে। এক কেজি বেগুনের দাম সপ্তাহের মধ্যে বেড়েছে প্রায় ৪৫ টাকা। কিছুদিন আগেও যে চিনির দাম ছিল ৫৪ টাকা, তা এখন ৬৩ টাকা। শশা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।আর এক্ষেত্রে লেবুর দাম রয়েছে স্বাভাবিক।এছাড়া সব ধরনের কলা, ফল ও মুড়ির দাম বেড়েছে। অস্বাভাবিক ভাবে একদিনের ব্যবধানে বেড়ে গেছে সব রকম মাছের দাম। বেড়েছে আখের গুড়ের দামও।

এমকে(007)17-05/07.