Natun Kagoj

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪ | ২৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

হয়রানির জেরে আলাউদ্দিন খুন

আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৭ | ১৪:৫৮

নতুন কাগজ প্রতিনিধি: বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও হয়রানির জের ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো: আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. আবদুল ওয়ারীশ।

আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানানো হয়। খুনের ঘটনায় এক তরুণীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রাউজান এবং ভোলার লালমোহন এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চারজন হলেন ইয়াসমিন আক্তার, তাঁর স্বামী ইকবাল হোসেন, ইকবালের সৎভাই মো. তৈয়ব ও মো. হেলাল।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারীশ বলেন, একসময় ইয়াসমিনের সঙ্গে আলাউদ্দিনের সম্পর্ক ছিল। পরে ইকবালের সঙ্গে ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ইয়াসমিনকে হয়রানি করতেন আলাউদ্দিন। এর জেরে আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়।

২২ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজীদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদনগর এলাকায় ভাড়া নেওয়ার কথা বলে একটি বাসায় ঢোকেন এক তরুণীসহ চারজন। বাসা পছন্দ হয়েছে বলে তাঁরা বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে জানান এবং ওই দিন থেকেই সেখানে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে রাজি হন তত্ত্বাবধায়ক। এর তিন ঘণ্টার মধ্যে একে একে বাসা থেকে বের হয়ে যান তরুণীসহ তিনজন। চতুর্থজনের (আলাউদ্দিন) লাশ পাওয়া যায় বাসার টয়লেটে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়।

নিহত আলাউদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়তেন। এ ঘটনায় আলাউদ্দিনের বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে ২৩ মার্চ রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে বায়েজীদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীর ফতেপুরে পারিবারিক কবরস্থানে আলাউদ্দিনের লাশ দাফন করা হয়।

আজ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপস্থিতিতে ইয়াসমিন আক্তারের ভাষ্য, নিহত আলাউদ্দিনের কাছে তিনি প্রাইভেট পড়তেন। এ সুবাদে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। আরেকজনের সঙ্গে বিয়ের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। গত বছরের জুলাই মাসে ইকবালের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আলাউদ্দিন তাঁকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন। বিষয়টি স্বামী ইকবালকে জানানো হলে পরিকল্পনা করে আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়।

পুলিশকে কেন বিষয়টি জানানো হয়নি—জানতে চাইলে ইকবাল বলেন, বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে। মাথায় এত কিছু ছিল না। স্ত্রীর ইজ্জত বাঁচাতে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছি।

 


নতুন কাগজ | রুদ্র মাহমুদ
 বিজ্ঞাপন