Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

হার্টে ব্লক বাণিজ্য: বিশেষজ্ঞ-হাসপাতাল- রিং সরবরাহকারীদের সম্মিলিত সিন্ডিকেট

আপডেট: ৩১ মার্চ ২০১৭ | ১৫:১৩

আকীল আকতাব

১.

বাংলাদেশে হৃদরোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। বিগত কয়েক বছরে হৃদরোগের চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল, চিকিৎসক ও রিং ও জরুরী ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মিলে তৈরী হয়েছে ভয়াবহ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট দিব্যি সুস্থ মানুষকেও রোগী বানিয়ে ফেলছে, রিং পরানো হচ্ছে যার প্রয়োজন নেই তাকেও।

জনাব হাসান একটি বেসরকারী ব্যাংকে কর্মরত। বয়স ৩৫ বছর।  বুকে প্রচণ্ড ব্যাথা নিয়ে ঢাকার একটি  অভিজাত হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমেই ইসিজি করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তাকে জানান এনজিওগ্রাম না করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। জরুরী এনজিওগ্রাম করতে হবে। এনজিওগ্রাম পরীক্ষার পরে জানানো হয় যে, হার্টে দুটো ব্লক আছে এবং রিং পরানো জরুরী।

হাসানের পরিবার বিশেষজ্ঞ এবং হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান রিং পরানোর মত টাকা তারা সাথে আনেন নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মায়া হয়- তারা জানান রিং পরানোর সম্পূর্ণ টাকা এখনই পরিশোধ করতে হবেনা। আপাততঃ ৫০% পরিশোধ করলেই হবে। অবশিষ্ট অংশ সার্জারির পরে রোগি রিলিজের সময়ে পরিশোধ করলেই হবে।

হাসানের পরিবার হাসপাতাল কর্তপক্ষ আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদন্যতায় যখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তখন হাসানের একজন চিকিৎসক বন্ধু হাজির হলেন। তিনি ইসিজি রিপোর্টে কোন সমস্যা পেলেন না। আর এনজিওগ্রামের লিখিত রিপোর্ট না পেয়ে কৌতূহলী হলেন। এবার বেরিয়ে এলো প্রকৃত চিত্র। সত্যিকার্থে হাসানের বুক ব্যাথা ছিলো গ্যাস ফর্ম জনিত, তার হার্ট সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সবল আছে।

অতঃপর ঐ হাসপাতালে হাসানের উত্তেজিত কিছু বন্ধুবান্ধব মিলে সামান্য ভাঙচুর করে, ততক্ষণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বন্ধু হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছেন, তাকে আর সেদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভাঙচুর করার কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলা করবেনা এই মর্মে হাসানের পরিবার থেকে মুচলেকা নেয়া হয় যে ঘটনাটি নিয়ে তারাও মামলা করবেনা। হাসানের মধ্যবিত্ত পরিবার প্রভাবশালী হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাহস করেনি।

 

২.

উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম- হাসানের চিকৎসক বন্ধু হাজির না হলে এবং শক্ত ভূমিকা না নিলে কি হতে পারত। তিনি নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে জানালেন- দুটো ঘটনা ঘটতে পারতো-

প্রথমত: হাসানকে সার্জারি করে রিং না লাগিয়েই রিং-এর টাকা আদায় করা হত। এক্ষেত্রে দাবীকৃত ছয় লাখ টাকার মধ্যে অর্ধেক পেতো হাসপাতাল এবং বাকী অর্ধেক পেতেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

দ্বিতীয়ত: নিম্নমানের একটি রিং লাগিয়ে দেয়া হত। যদিও আদায় করা হতো দুটো রিং-এর টাকা। এক্ষেত্রে প্রথম রিং-এর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতাল নির্ধারিত কমিশন পেত আর দ্বিতীয় রিং-এর ক্ষেত্রে পুরো টাকার একটা অংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেত আর বাকী টাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতালের মাঝে সমানভাবে ভাগ হত।

ইঞ্জিনিয়ার আরশাদুজ্জামান দীর্ঘদিন চিকিৎসা সরঞ্জাম/যন্ত্রপাতি সরবরাহের ব্যবসা করেছেন। বর্তমানে একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে কনসালটেন্সি করছেন। পেশাগত কারনেই খুব কাছে থেকে হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অন্ধকার দিকটা দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি কোনো সংকোচ না করেই বলেন, বুকে ব্যাথা নিয়ে গেলেই হার্টে ব্লক আছে এবং রিং পরানো জরুরী- এটা এখন ওপেন-সিক্রেট বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো হাসপাতালে নির্দেশ দেয়া থাকে যে বুকে ব্যাথা নিয়ে হাজির হলে রোগির আর্থিক অবস্থা এবং সচেতনতা পর্যবেক্ষণ করে জরুরী রিং পরানোর পরামর্শ দেবার জন্য।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত হার্টের কোনো বড় রক্তনালি ৭৫ শতাংশ ব্লক থাকলে এবং রোগীর অবস্থা ভালো হলেই শুধু রিং পরানো যেতে পারে। আবার রিং পরানোর পরও কিছু ওষুধ এক বছর  আর কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন বা সারা জীবন খেতে হয়। ওষুধে সুস্থ হবার মত রোগীসহ বুকে সাধারণ ব্যাথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীকেও রিং পরানোর প্রেসক্রিশন করা হয়। যে সমস্যা মাত্র ১৫ হাজার টাকার বেলুন থেরাপিতে সমাধান সম্ভব সেক্ষেত্রেও রিং পরাতে প্রলুব্ধ করা হয়।

এপোলো হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানালেন, রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বেসরকারী হাসপাতাল এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চুক্তি থাকে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিমূল্যের বাইরে হাসপাতাল কর্তপক্ষ নিজেদের নির্ধারিত উচ্চমূল্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নামেই রোগীর কাছে রিং বিক্রি করে। প্রতারণার এখানেই শেষ নয়, উচ্চমূল্য দিয়ে যে রিং কেনা হয়েছে সে রিং রোগীর দেহে লাগানো হয়েছে কি না- তার নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ, উচ্চমানের রিং-এর দাম পরিশোধ করলেও রিং সিন্ডিকেট মিলে রোগীর দেহে নিম্নমূল্যের রিং পরাচ্ছে। কারন, রিং পরানোর পরে কোন কোম্পানী বা কত মূল্যের রিং পরানো হয়েছে তা বের করা সহজ নয়। অন্যদিকে, যে কয়টা রিং পরানোর কথা চিকিৎসকরা বলেছেন সে কয়টা রিং পরানো হয়েছে কি না সেটাও নিশ্চিত নয়। কারন, রিং না পরিয়েও রিং-এর টাকা আদায় অথবা দুইটা ব্লকে রিং পরানোর কথা বলে একটা রিং পরিয়ে অন্য রিং-এর টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ায় ঘটনা নতুন কিছু নয়।

 

৩.

হার্টে ব্লক ও রিং বাণিজ্য চক্র প্রতিরোধে নেই কোনো উদ্যোগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে রিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে লড়ছেন। তার অনেক সহকর্মী বারবার প্রকাশ্যে এই লড়ায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কারন অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদ যে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়ছেন যে সিন্ডিকেটের অংশ তারাও। চৌধুরী মেশকাত আহমেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালে হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসকদের একটা অংশ এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সম্মিলিত একটি চক্র অবৈধ রিং বাণিজ্য পরিচালনা করে। বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে চিকিৎসক- রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আর হাসপাতাল মিলে পরিচালনা করে রিং বাণিজ্য।

তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, রিং সিন্ডিকেটের কারনে গরিব ও অসহায় রোগীদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে রিং কিনতে হচ্ছে। উচ্চমূল্যের কারণে হার্টের রিং লাগানোর সামর্থ্য অনেক রোগীর নেই। অথচ এই রিংয়ের দাম অনৈতিকভাবে দ্বিগুণ, তিনগুণ বেশি রাখা হচ্ছে। নৈতিকতার প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তিনি বিষয়টি একাধিকবার লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

এদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি সত্বেও প্রশাসনের নির্লিপ্তার সুযোগে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে রিংয়ের দাম। আমেরিকার বোস্টন সায়েন্টিফিকের তৈরি প্রোমিউস প্রিমিয়ার নামে হার্টের যে রিং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রোগীর কাছে বিক্রি করা হয় দেড় লাখ টাকায় সে রিং বেসরকারি অ্যাপোলো হাসপাতাল বিক্রি করে প্রায় ২লাখ টাকায়। আবার যুক্তরাষ্ট্রের জাইনেক এক্সপিডিশন নামের প্রতিষ্ঠানের তৈরি যে রিং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয় বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতাল সে রিং বিক্রি করে আড়াই হতে পৌনে তিন লাখ টাকায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. একিউএম রেজা জানান, বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে  আলোচনা করে রিংয়ের মূল্য নির্ধারণ করায় এমন পার্থক্য তৈরি হয়।

অবশ্য রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি জানান, সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে একটি রিং বিক্রি করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। কমিশনের অর্থ কেউ নগদ, আবার কেউ বিদেশ ভ্রমণে স্পন্সরের জন্য নিয়ে থাকেন। এছাড়া হাতেগোনা যে ক’জন চিকিৎসক কমিশন নেন না, অবস্থা এমন যে তাদের ওয়ার্ডে রিং পরানো রোগীরা ভর্তিই হতে পারেন না।

 

৪.

রিং পরানো নিয়ে কমিশন বাণিজ্যের চক্র খুব ছোট নয়। শতাধিক চিকিৎসক ও ২৫ রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে হার্টের রিং বাণিজ্য। দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরই রিং বিক্রি হয়। সরকারি হাসপাতালে রোগীকে একটি রিং পরানো বাবদ ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দেন ব্যবসায়ীরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন একশ্রেনীর চিকিৎসক, অভিজাত বেসরকারি হাসপাতালগুলো এবং হার্টের রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কার্ডিয়াক সল্যুয়েশন, করোনারি কেয়ার অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসেস, মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড, কার্ডিয়াক কেয়ার, ওমেগা হেলথ কেয়ার, ওরিয়েন্ট এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি, দ্য হার্টবিট, জিন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লিমিটেড, ইউনিমেড, বায়োভাসকুলার, গ্লোবাল করপোরেশন,অ্যাডভান্সড মেডিটিস, বিজনেস লিঙ্ক, ইপিক টেকনোলজিস, হার্ট কোয়াক, জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইসিট এমএফজি, এশিয়া প্যাসিফিক মেডিকেলস, দ্য স্পন্দন লিমিটেড, বিভা ইন্টারন্যাশনাল, আমিন সার্জিক্যাল, আর্টিকুলার, অ্যালায়েন্স মেডিকেল, লাইফ লাইন ইন্টারন্যাশনালের যোগজাসশে দীর্ঘদিন ধরে রিং বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পেসমেকার, বেলুন গাইডওয়্যার, ক্যাথেটার, ভাল্ব, অক্সিজেনেটর ইত্যাদি নিয়েও অবৈধ বাণিজ্য চলছে। এক বছর আগেই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট সরকারিভাবে ৩৪ হাজার টাকা দরে ৪৮টি এবং ৩৬ হাজার টাকা দরে ১০২টি হার্টের রিং কিনেছিলো প্রায় ৫৪ লাখ টাকায়। কিন্তু এসব রিং নির্ধারিত সময়ে রোগীদের না পরানোয় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কমিশন পাওয়া যাবেনা বিধায় বিনামূল্যের এসব রিং দরিদ্র রোগীদের দেওয়া হয়নি। অন্যান্য হাসপাতালের চিত্রও কমবেশী এরকমই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ভেতরে ক্যাথল্যাবের আশপাশে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিরা ঘুরে বেড়ান। কিন্তু রিং বিক্রির জন্য সরাসরি রোগী বা তাদের স্বজনদের সঙ্গে তারা কথা বলেন না। রিং-এর দরদাম নির্ধারণ করে দেন চিকিৎসক। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে দাম চূড়ান্ত হলে বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোগীর আত্নীয় স্বজনদের সাক্ষাৎ করিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এর পরেই চিকিৎসকের নির্ধারিত মূল্যে রিং বিক্রি করা হয়।

 

৫.

হার্টে ব্লক ও রিং বাণিজ্য নিয়ে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। রিং বাণিজ্য বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে বলেন, এই বাণিজ্য বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং জড়িতদের শাস্তি আওতায় আনা হবে। কোনো চক্রকেই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য করতে দেয়া হবেনা।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন এ বিষয়ে বলেন, ‘সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং আমদানিকারকদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন হবার পরে ভ্যাট-ট্যাক্স অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।’ তাকে জনস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত হওয়ায় কার্ডিয়াক রিং আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক মওকুফ করেছে জানালে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব ফখরুল আলম বলেন, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত এমন জরুরী পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমদানির পরে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে এমন তথ্য রাজস্ব বোর্ডের জানা নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনে সচেষ্ট থাকবেন বলে জানান।

 

৬.

হৃদরোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। ন্যাশনাল হেলথ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে কেবল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের বহির্বিভাগে হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন। এছাড়া ভর্তি ছিলেন ৬৩ হাজার ৩৯০ জন। ২০১৪ সালে  হাসপাতালটির বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন ২ লাখ ৫৩৩ জন হৃদরোগী ও ভর্তি হন ৫৯ হাজার ২৮৩ জন। এছাড়া ২০১৩ সালে এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন ১ লাখ ৭২ হাজার ২৬৯ জন। ওই বছর ভর্তি ছিলেন ৪৩ হাজার ৩৪১ জন হৃদরোগী।

 

আকীল আকতাব, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।


নতুন কাগজ | শাওন চৌধুরী
 বিজ্ঞাপন