Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ | ৪ মাঘ, ১৪২৪ | ২৯ রবিউস-সানি, ১৪৩৯

সুষমা-খালেদা বৈঠক: বিএনপির জন্য ফলাফল অশ্বডিম্ব !

মো: মাহমুদ হাসান: “সুষমা স্বরাজের সাথে খালেদার বৈঠকের ফলাফল হবে অশ্বডিম্ব” এ কথাটিতে বিকৃত রুচির গণমাধ্যম মোঘল, গণমাধ্যম কর্মী, টকার ও ছুতিয়া শীলেরা মনোকষ্টে আক্রান্ত হবেন। কিন্তু, বাস্তবতাট কি?

গুলশানে জঙ্গি হামলার পর খালেদা “ব্যর্থ অভ্যুত্থান” বলার পর এদেশের সাধারন মানুষ কোন পান্ডিত্যপূর্ণ বিশ্লেষণে যায়নি, খালেদার প্রতি কোন ঘৃণাও প্রকাশ করা মনে করেনি, সরাসরি মন হতে ডিলিট করে দিয়েছে, মানুষ এখন একটা কথা শুধু জানতে চায় ওনার শেষ ঠিকানা কি কাশিমপুর না কেরানীগঞ্জ। মানুষ সোজাসাপ্টা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, “খালেদা শুধুই জঙ্গিরাণী, এ কথার মাধ্যমে তিনি বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটিকে কবরে পাঠিয়ে দিয়েছেন”। এর বাইরে ওনার সব অতীত পরিচয় শুধুই পাকিস্তান, আমেরিকা ও বিশ্বব্যাঙ্কের নীলনকশায় এদেশের পাকিস্তান ফেরৎ সামরিক-বেসামরিক আমলাদের পাতানো অপখেলার ফসল মাত্র ছিলো, ওনার বা ওনার দলের কোন কৃতিত্ব ছিলো না।

তাহলে, প্রশ্ন আসে এখনো ভারত কেন তার পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে খালেদার সাথে বৈঠকে সম্মত হলো? বৈশ্বিক রাজনীতি “সকল মানুষের সূখ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য এক বিশ্ব এক সাথে কাজ করবে” এখনো এ পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। বরং, “কূটনৈতিক অপখেলা ও কূটকৌশলে একে অপরকে টেক্কা দিয়ে অধিকতর স্বার্থ আদায়ের হীন চেষ্টায় সীমাবদ্ধ”, যা মাঝেই মাঝেই অতিক্রম করে বর্বরতায় উঠে কিছু বর্বর রাষ্ট্রের আচরণে, যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিংস্র অপখেলা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে ভোগ করার লক্ষ্যে মার্কিনীদের সাথে পাকিস্তান, ইসরায়েল, তুরষ্ক প্রত্যক্ষভাবে ৫০০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা, ১০,০০০ এর বেশি বালিকা, কিশোরী ও নারী ধর্ষণ এবং সাড়ে পাঁচ লাখেরও মানুষ বিতাড়নের পর বাকী সাড়ে পাঁচ লাখতেও বিতাড়নের অব্যাহত চেষ্টা; এবং চীন, রাশিয়া, ভারত, সৌদী আারবের কার্যত নীরবতাই এ বর্বরতার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বীয় ব্যবসায়িক স্বার্থ আদায়ে লিপ্ত যার উদাহরন। আমিতো মনে করি, ভারত কাউকে অসন্তুষ্ট করতে চায় না, সবাইকে খুশী রাখার নীতি হতেই বাংলাদেশের বিকৃত রুচির গণমাধ্যম মোঘল, গণমাধ্যম কর্মী, টকার ও ছুতিয়া শীলেদের টিকিয়ে রাখা বিএনপির কঙ্কালটির নেত্রীর সাথে দেখা করতে রাজী হয়। কেননা, এসব বিকৃত রুচির গণমাধ্যম মোঘল, গণমাধ্যম কর্মী, টকার ও ছুতিয়া শীলেদের অর্বাচীন আলোচনা মূল বিষয়টির সাথে একটু আচার বা চাটনির স্বাদ জোগায় যে! তিন-চারদিন বাংলাদেশের সবার মুখে ভারত ও সুষমা স্বরাজ থাকুক না, ক্ষতি কি? এর বাইরে ভারতের আর কোন স্বার্থ বা সৎ/অসৎ উদ্দেশ্য খালেদার সাথে বৈঠকের মধ্যে নেই, তা এক কথায় বলা যায়।

সব কুল হারিয়ে ভারত-প্রীতি ও ভারত বন্দনায় কেন বিএনপি? এ প্রশ্নও গত সিাত/আট দিন যাবৎ মৃদুভাবে উঠছে। কিন্তু অতীত কি বলে? পাকিস্তানের পোষা ক্রীতদাস গোলাম আাযমের “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি” এর “বি-টিম” হিসেবে ১৮দফা বাস্তবায়ন পরিষদ (১৯৭৭), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল-জাগদল (১৯৭৭), জাতীয়তবাদী ফ্রন্ট (১৯৭৮), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি (১৯৭৯) এসবের প্রকাশ্য প্রতিষ্ঠাতা ও ৫০,০০০ মুক্তিযোদ্ধা খুনের নির্দেশদাতা জিয়া গোপনে ১৯৮০ সালে ভারতকে কলকাতা-গৌহাটি রেলপথ এবং বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস সরাসরি কলকাতায় প্রদানের মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসে তা মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের প্রস্তাব করলে কর্ণেল (অব:)  আকবর হোসেন ও মেজর জেনারেল (অব:) নূরুল ইসলাম শিশু ন্যাক্কারজনক ভাষায় বিরোধীতা করেন। “তুই কি জানোস না, বিএনপি ভারত বিরোধিতা করে ক্ষমতায় এসেছে ও ক্ষমতায় টিকে আছে, তোকে এই সাহস কে দিয়েছে যে, নি:শর্তভাবে ভারতকে রেলপথ ও গ্যাস দিবি?” মন্ত্রীসভা বৈঠকের এ খবরটি খুব ছোট করে (১ কলামে দুই ইঞ্চি) শুধুমাত্র সংবাদ পত্রিকায় আসে। এই ঘটনাই জিয়াকে সরিয়ে আরো বেশি পাকিস্তান ঘেঁষা কাউকে ক্ষমতাসীন করার পথ পরিষ্কার করতে জিয়া খুনের ষড়যন্ত্রে কাজ করে বলে মনে করা হয়। জিয়া জীবদ্দশায় বিএনপির একটি টুকরো পিএনপি গঠিত হলেও জিয়ার মৃত্যুর পর আরেক খুনী এরশাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নমুনা হিসেবে বিএনপিকে অনেকগুলি টুকরো করা হয়, আবারো এরশাদের নেতৃত্বে ১৮দফা বাস্তবায়ন পরিষদ (১৯৮২), জনদল (১৯৮৪), জাতীয়তবাদী ফ্রন্ট (১৯৮৫), জাতীয় পার্টি (১৯৮৫)। এর বাইরেও ব্র্যাকেটবন্দী অনেকগুলিও বিএনপি তৈরিও জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র দেখানোর নমুনা দেখানোর ডজন দুয়েক ব্র্যাকেটবন্দী মুসলীম লীগ তৈরির মতোই এরশাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র দেখানোর নমুনা ছিলো বিএনপি (সাত্তার), বিএনপি (খালেদা), বিএনপি (শাহ আজিজ), বিএনপি (হুদা-মতিন-টিএইচখান); আবার সবচেয়ে মজার ছিলো নীলুর নেতৃত্বে পিএনপি-র চিকা-পোষ্টার, লিফলেটের সংখ্যা ছিলো ১৯৮৩-৮৫তে অন্য সব বিএনপিগুলির চেয়ে অনেক বেশি।

খুনী এরশাদের পতনের পর গোলাম আাযমের “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি” এর “সি-টিম” পাকিস্তান ফেরৎ সামরিক-বেসামরিক আমলারা অতি উৎসাহী আওয়ামী লীগারদের “কালো তালিকা”র প্রতিশোধ নিতে এম কে আনোয়ারকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৯১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম কে আনোয়ার দুটি রাজনৈতিক দল হতে একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন চায়। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো তার কাছে: “আসলে আপনি সদ্য অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা, এখন কোন দলটি করতে চান? বা, আগে থেকেই কোন দলের সাথে গোপনে জড়িত ছিলেন কিনা? আপনি তো এরশাদ সাহেবের সবচেয়ে অনুগত আমলা ছিলেন।” এম কে আনোয়ার চমৎকারভাবে জবাব দিয়েছিলেন, “দেখুন এরশাদ সাহেব আমার চেষ্টাতেই ক্ষমতায় ছিলেন, এখন আমার কথাতেই পদত্যাগ করেছেন, আমি দুই নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইলাম, যিনি আমাকে দরকার মনে করবেন, তিনি আমাকে মনোনয়ন দেবেন”। এম কে আনোয়ার কি চীজ, আর গোলাম আাযমের “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি” এর “সি-টিম” পাকিস্তান ফেরৎ সামরিক-বেসামরিক আমলারা কি করতে পারেন, আর ১৯৯১ এর নির্বাচনে কি করেছিলেন, তা আজো বের করতে পারেনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, নাকি বের করার চেষ্টা করেনি! খালেদাকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাঙ্কের প্রকাশ্য নির্দেশনায় দুই মেয়াদের সরকারের আমলে (অবশ্য আরো ১১দিনের একটি মেয়াদও ছিলো) ভারত তার ব্যবসায়িক স্বার্থ আদায় করেছে শতভাগ, বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়টি বারবার ভুলে গেছেন খালেদা। এ অবস্থায় আতঙ্ক হতেই পারে, ২০০১ এর সালসা নির্বাচনের মতোই কি আইএসআই ও ভারতের চোরাচালানীদের সিন্ডিকেট লতিফুরের মাধ্যমে আমলাদের যে ১০০ কোটি রুপী + ১০০ কোটি রুপী দিয়েছিলো, সে অপখেলাটি কি বাংলাদেশে ঘটতে যাচ্ছে?

আমি মনে করি, জবাব হলো হ্যাঁ, দু:স্বপ্নটি তেমনই। দুদু-র “বাংলাদেশে এমন আন্দোলন হবে যে, যা বিশ্বের মানুষ দেখেনি” এসব প্রলাপের কিছু না কিছু ভিত্তি অবশ্যই ছিলো। কিন্তু মুশকিল হলো যে, সেসব উন্মাদীয় প্রলাপের সব ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রই ভেস্তে গেছে। এ ক্ষেত্রে পর্দার অন্তরালের খেলাগুলি যা যা ঘটতে যাচ্ছিলো সব ভেস্তে গেছে, এখন পাকিস্তান ফেরৎ কোন সামরিক-বেসামরিক আমলা আর প্রশাষনে অবশিষ্ট নেই বলে। এখন আর প্রশাষনে মাহবুবুল আলম চাষী ও খুনী জিয়ার মতো কোন জাতীয় বেয়াদব নেই। যেসব পাতি বেয়াদবগুলি আছে, তার চেয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিকের সংখ্যাটা প্রশাষনে অনেক বেশি। বেশি কথা বলা কিন্তু সত্য কথা বলা “কামরুল” একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও নিবেদিত প্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মী, যে কোনদিনই আওয়ামী লীগের সাথে বিন্দুমাত্র গাদ্দারি করে নাই। সেই কামরুলকে আদালতে ক্ষমা চাওয়া ও জরিমানা দেয়ার নির্দেশের পর কামরুলের আদালতের প্রতি অভিযোগের ভিত্তিটি কি ছিলো, তা তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত ধীরে সুস্থে হতে থাকায় ষড়যন্ত্রকারিরা অন্ধকারে থাকলেও কামরুলের রাজনৈতিক অভিভাবকরা ঠিকই কামরুলের অভিযোগটি যে সত্য ছিলো, তা বের করেন। সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছায় কামরুলের অভিযোগের সূত্র ধরেই-এটা বোঝার সাধ্যও আমাদের সমাজের উপরতলার দাবীদারদের অনেকের নেই, যারা প্রতি মূহুর্তেই দু:স্বপ্ন দেখছেন, শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেছে, আমি পাকিস্তানী পতাকা হাতে রাস্তায়। তো এসব দু:স্বপ্নওয়ালাদরে নতুন দু:স্বপ্ন ভারত যেহেতু তিস্তা চুক্তি করে নাই, সুতরাং ভারত আওয়ামী লীগকে চায় না, ভারত আমাদের অপেক্ষায় আছে। এরপর ভারতকে লাত্থি মেরে আবারো তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম, ফেনী, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় উলফা ঘাটি গড়ে তুলবো, ভারতকে দেখাবো মজা! তাহলে কি ভারত নির্বোধ? ভারত তার সেভেন সিস্টার্সকে আবারো অশান্ত করে তুলতে চায়? বাস্তবতা হলো, ভারত তা চায় না, কিন্তু, শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেত্রীর আসনে, ভারত রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা এটা মুখে হাসি রেখে প্রশংসা করলেও মন হতে মানতে তাদেরও কষ্টই হয়; তাই একটু ধাক্কা দেয়া যে, আমরা তো নিরপেক্ষ, অন্ধ আওয়ামী লীগ প্রেমী নই। আর শেখ হাসিনা কি এই কূটনৈতিক চালটি বোঝেন না, এমন ভাবতে পারেন, জাতীয় আহাম্মকেরা, আমাদের মতো সাধারন মানুষ তা ভাবে না। শেখ হাসিনার ভাবনা ও পাকিস্তানপন্থীদের অপখেলার জবাবে কৌশলী খেলাটাও খুবই চমৎকার! দুটি বিষয় মিলিয়ে দেখুন: (১) খালেদা গ্রেফতারের ভয়ে ফিরছেন না, তাকে ফেরার পথ উন্মুক্ত করে দেয়া হলো, ভারত সুষমা স্বরাজের সাথে খালেদার একটি বৈঠকে সম্মত জেনে; (২) খালেদাকে আবারো জামিন পেতে আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবিদের আপত্তি না করা। তাহলে আওয়ামী লীগ কি চায়?

আওয়ামী লীগ এ মূহুর্তে এটাই প্রমান করতে চায় যে, আওয়ামী লীগ বাইরের কারো দয়ায় কোনদিনই ক্ষমতায় আসে নাই, ভবিষ্যতেও চায় না, চাইবে না। বরং, আাওয়ামী লীগ বিরোধীতাকারিরাই যখন যাদের সাথে সুবিধা মনে করে, তাদের কাছেই নতজানু হয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে ও দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। বড় বড় অপখেলাগুলি আমাদের ছোট ছোট মাথায় নাও আসতে পারে; খুব ছোট বিষয়টি ভাবুন: “জিয়া, এরশাদ, খালেদার শাষনামলে এমনকি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম শাষণামলে (১৯৯৬-২০০১) দেশের সকল বিষয়েই বিশ্বব্যাঙ্কের নির্দেশনা ছিলো ও তা মানতে হতো”। বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদের শাষণামলে এ ফাজলামোটুকু বিশ্বব্যাঙ্ক করার ঔদ্ধত্য দেখাতে পারেনি। শেখ হাসিনা ২০০৯ এ ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথে কোন অলৌকিক যাদুমন্ত্রবলে দেশের পূর্বাঞ্চল হতে একযোগে ৫০০এর বেশি ঘাঁটি ঘুটিয়ে উলফা চলে যেতে বাধ্য হলো, এ প্রশ্নটির উত্তর না খুঁজে যারা ২০১৭ সালে রাজনীতি করেন ও রাজনীতি নিয়ে কোন কথা বলেন ও লিখেন, হয় তারা উন্মাদ নয় শিশু বলেই আমি মনে করি। ১৯৭৬ হতে ২০০৮, এই ৩২ বছরের ঘাঁটিগুলি বাংলাদেশের মাটি হতে তিনদিনে ঘুটিয়ে গেলো কেন? এক কথায় এর উত্তর হলো, “শেখ হাসিনার শুধু বাংলাদেশের জনগণের উপর নির্ভরতা”। ধান ভানতে শিবের গীত মনে হয়েছে কারো কারো কাছে, যারা এ পর্যন্ত্য পড়েছেন, হতেই পারে। তো মূল কথাটিতে আাসা যাক!

সুষমা-খালেদার প্রত্যাশিত বৈঠকে বিএনপি চাইবে: (১) সুষমা স্বরাজ “শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নয়, এমন একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করে দেবেন”, যা বিএনপি বলছে সহায়ক সরকার; (২) তারেক-খালেদা সহ সকল জামাত-বিএনপি নেতা-কর্মীর মামলাগুলি নি:শর্তভাবে প্রত্যাহার করাবেন সুষমা স্বরাজ। এ দুটিই থাকবে বিএনপি নামের কঙ্কালটির পক্ষ হতে সুষমা স্বরাজের প্রতি মূল আবেদন, এমনটি আমার ধারনা। তো, সুষমা স্বরাজ এগুলি হাসিমুখে শুনবেন ও বৈঠক হতে বের হয়ে নির্ঘাত ভুলে যাবেন। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক যেসব অমীমাংসিত বিষয় গত পৌনে নয় বছরে সমাধান হলো, তার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানানোর সৌজন্য ও ভদ্রতাটুকু বিএনপি দেখাবে না। কোন আলোচনার শুরুটাই যদি প্রতিপক্ষের মন জয় করে শুরু করতে না পারেন, তো আপনাদের কোন দাবী বা আব্দার সুষমারা শুনবেন কেন? দীর্ঘ ৩৩টি বছর আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন, জাতির পিতাকে হত্যা করেছেন, এখনো বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তো এখন আপনারা বারবার ভুল করবেন আর শেখ হাসিনা কি বিএনপির উপদেষ্টা নাকি যে, আপনাদের ভুলগুলি বারবার সংশোধন করে দেবে? বরং, আপনাদের কূটনৈতিক ভুলগুলি যাতে আরো বেশি করে করতে পারেন, দেশী বিদেশী সবার কাছে হাসির পাত্র হয়ে উঠেন, তা দেখতে পেলে শেখ হাসিনার নীরবতা পালন ছাড়া উপায় কি? যদি কোন দূর্ঘটনা না ঘটে, তবে, কোন কোন মন্ত্রীর সাথে সুষমা স্বরাজের বৈঠক বাতিল হতে পারে, সময়ের সাথে সমন্বয় না করতে পারার জন্য। কিন্তু খালেদার সাথে সুষমা স্বরাজের বৈঠকটি যাতে নিশ্চিত হয়, সুষমা স্বরাজও যেনো ভবিষ্যতে মার্কিনীদের কোন অনুরোধে বিএনপিকে কোন সুযোগ করে দেয়ার জন্য কেন রাজী হতে পারবেন না, তা আগেভাগে বিএনপির চাওয়ার ধরন দেখে এখন উপলব্ধি করে গেলে মন্দ কি?

আশা করি সুষমা ও খালেদার বৈঠকের আজকের ২২.১০.২০১৭ তারিখ রাতের সম্ভাব্য বৈঠকটির ফলাফল শুধু যে বিএনপি নামক কঙ্কালটির জন্য “অশ্বডিম্ব প্রাপ্তি” হবে, তা এ লেখাটিতে ফুটে উঠেছে।

আমাদের সবার বোধোদয় হোক, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন থাক। আগামী দিনে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে আদর্শিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়ে উঠুক, এই প্রত্যাশা আমাদের মনে জাগরিত হোক, সকল অশুভ শক্তি নিজেদের ভুলের মাধ্যমেই নিপাত যাক।

মো: মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), ঢাকা, তারিখ-২২.১০.২০১৭, সময়-বিকাল-০২.১০।


নতুন কাগজ | রুদ্র মাহমুদ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন