Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

সুনামগঞ্জ-১: মনোনয়ন লাভে এগিয়ে ‘কাছের মানুষ’ এমপি রতন

আপডেট: ১৩ জুন ২০১৭ | ১৭:৪৮

নতুন কাগজ ডেস্ক: তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি। সুনামগঞ্জের ধরমপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর এ তিন উপজেলার নির্বাচিত অভিভাবক তিনি। ধর্ম-বর্ণ-ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার ‘কাছের মানুষ’ এমপি রতন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমপি রতন ছিলেন অনেকটা অগোচরেই।দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর সাধারণ মানুষের প্রতি অপিরসীম ভালবাসা দ্রুতই তাকে টেনে আনে রাজনীতির অঙ্গনে।

এমপি রতন গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বাঘা বাঘা ত্যাগী নেতাকে পরাস্ত করে মহাজোটের টিকেটে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন।রতনের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রচন্ড ভালবাসা দেখে দলীয় হাইকমান্ডও এড়াতে পারেনি তাকে।বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সাধারণের ‘নির্বাচিত অভিভাবক’ হয়ে ওঠেন এমপি রতন।

আবার আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।আগামী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে  সুনামগঞ্জের মানুষ ইতিমধ্যেই এমপি রতনের কথা বলছেন বিকল্প কোন চিন্তা না করেই।সাধারণ মানুষের এককথা ‘সুনামগগঞ্জ-১ আসনের এমপি পদে এমপি রতনকে দেথতে চাই’।

এদিকে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ও সুনামগঞ্জের  রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থী হিসেবে এমপি রতনের প্রতি সাধারণ মানুষের যে ভালবাসা রয়েছে, দলীয় হাইকমান্ডও সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল।দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে সারাদেশের মত সুনামগঞ্জ-১ আসনেও অত্যন্ত গোপনে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনীপ্রার্থী জরিপ করা হয়। সেই জরিপেও একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ওঠে এসেছে এমপি রতনের নাম।সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিও আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছেন রতনকেই।সবমিলিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি পদে মনোনয়নের দৌড়ে এমপি রতন অনেক এগিয়ে।

আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা ও আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনায় ঈর্ষাণ্বিত হয়ে এমপি রতনের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে দূর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী একটি গোষ্ঠী।আওয়ামীলীগার হয়েও বিএনপি-জামাতঘেঁষা এই গোষ্ঠিটি এমপি রতনের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।শুধু তাই নয়, অপপ্রচার চালিয়েও কিছুই করা যাচ্ছে না দেখে ওই গোষ্ঠিটি সুনামগঞ্জ জেলা শহরের মল্লিকপুরে এমপি রতনের বাসভবনে হামলা করে।

তবে সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ ন্যাক্কারজনক এই হামলার প্রতিবাদে জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও তাহিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।

এদিকে ব্যাপক অপপ্রচার চললেও. গত ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জের শাল্লায় বোরো ফসলহারা ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীদের মাঝে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন এমপি রতন।এর আগে ১৭ এপ্রিল রাষ্টপতি মো: আব্দুল হামিদ হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সমাধানে সুনামগঞ্জে শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা সংদের প্রতিনিধি এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিসয় কথা বলেন। এই মতবিনিময় সভায়ও এমপি রতন হাওর আঞ্চলের মানুষের দু:খ দূর্দশার কথা বলেন।মূলত হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অবর্ণনীয় কষ্টের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন এমপি রতন।যেভাবে পেরেছেন এগিয়ে গেছেন।এমপি রতনের এই কর্মকান্ড নজর কেড়েছে স্থানীয় মানুষ ও দণীয় হাইকমান্ডের।

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের নওদা গ্রামে জন্ম মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের। তার পিতা মৃত আবদুর রশীদ ওরফে দারোগা আলী ছিলেন একজন সাধারণ কৃষক। তার ৪ ছেলে ৩ মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।

১৯৮৮ সালে বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে  দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাস করেন রতন। পরে কর্মমুখী শিক্ষার জন্য তিনি সিলেট পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হন। ১৯৯৩ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং (পাওয়ার টেকনোলজি) পরীক্ষা পাস করেন। পরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বিআরটিএ’র টেলিফোন বিভাগে চাকরি শুরু করেন।

কিন্তু মাটি আর মানুষের প্রতি এমপি রতনের ভালবাসা ও অঙ্গীকার চাকরির বেড়াজাল থেকে তাকে টেনে আনে রাজনীতির ময়দানে। আরো বড় কিছু করা, আরো বেশি করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার জন্য।এমপি রতন তাই করে যাচ্ছেন পুরস্কারের প্রত্যাশা না করেই।

 


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন