Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিচারকের মামলা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

আপডেট: ১৭ জুন ২০১৭ | ১০:৪৮

এ্যাড: সিরাজ প্রামাণিক: একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগ্রন্থ সে দেশের সংবিধান। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার হলো ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী’। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর অমানুষিক বা লাঞ্ছনারকর দন্ড দেয়া যাবে না কিংবা কারো সঙ্গে কোনোরুপ নির্দয় আচরণ করা যাবে না।

আইনানুযায়ী ছাড়া জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না কিংবা কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে এমন কাজ করা যাবে না। পাঠকের কাছে প্রশ্ন, সে সংবিধান লংঘন করে কোন বিচারক বিশেষ সুবিধা লাভ করতে পারে কি-না? একজন অসুস্থ শিশুর হাসপাতালে যাওয়ার পথ আটকে রেখে বিচারকের বাসার আসবাবপত্র স্থানান্তর হতে পারে কি-না? এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হতে পারে কি-না? এ সকল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিককে শায়েস্তা করতে বিচারক নিজেই বাদী হয়ে মামলা করতে পারে কি-না?
পাঠক এবার আসল কথায় আসি।

গত ১১ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘একটি অসুস্থ শিশু, বিচারকের ট্রাক ও একটি মামলা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যাতে মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাড়ি বদলের কারণে একটি অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পথ আটকে যাওয়ার কথা বলেন স্থানীয়রা। ওই বিচারকের মানিকগঞ্জ শহরের রিজার্ভ ট্যাংকি এলাকার বাড়ি বদলানোর সময় মালামাল পরিবহনের ট্রাক ওই এলাকার এক অধ্যাপকের অসুস্থ শিশুর হাসপাতালে নেওয়ার পথ আটকে ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তখন দুই পক্ষের বাক বিত-াও হয়। এই ঘটনা নিয়ে মানিকগঞ্জের আদালতের এক কর্মচারী ওই শিশুটির মামা এবং স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন, যে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম মুজতবা ধ্রুব একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর ১৩ জুন বিচারক মাহবুবুর রহমান মানিকগঞ্জ সদর থানায় গোলাম মুজতবা ধ্রুবর বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। একটি ঘটনা থেকে দুটি মামলার জন্ম হয়। এদিকে ৫৭ ধারার দায়ের করা বিচারকের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আগামী রবিবার তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে তরুণ সাংবাদিকরা।

১৯৯৩ সালে সলিম উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র মামলায় আদালত বলেছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত। আদালতের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হলে তাঁকে তা মেনে নিতে হবে। [সূত্র: ৪৪ ডিএলআর (এডি) (১৯৯২) ৩০৯]। সংবিধানের ৩৯ (২) (খ) অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দানের কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক। তাই গণমাধ্যম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের এই ধারা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকবেন।
একজন বিচারকদের দায়িত্ব কোনো মামুলি দায়িত্ব নয় বরং গুরু দায়িত্ব। বিচারকের কাজের সঙ্গে চিকিৎসকের কাজের তুলনা করলে ভুল হবে না। ২০০৭ সালে মহামান্য হাইকোর্ট আদালত অবমাননা আইনের মামলায় রায় প্রদানকালে মন্তব্যে বলেন, প্রতিটি চিকিৎসক জীবন্ত মানুষের হৃদয়ে, মস্তকে বা শরীরের অন্যান্য বিশেষ অপরিহার্য ও সংবেদনশীল অঙ্গে অপারেশন করার সময় তার সম্পূর্ণ মনোযোগ শুধু অপারেশনে নিয়োজিত করে থাকেন।

কেননা তিনি জানেন তার মনোযোগের সমান্যতম বিঘœ ঘটলে রোগীর প্রাণহানি ঘটতে পারে। যদি কোনো কারণে সে চিকিৎসক সমালোচনার সম্মুখীন হন কিংবা ভীত হয়ে যান তবে তার পক্ষে যেমন অপারেশন করা দুরূহ হয়ে পড়বে ঠিক তেমনি বিজ্ঞ বিচারকরা যদি সমালোচনার ভয়ে ভীত হয়ে পড়েন তবে তা হলে বিচারকার্য অবিচারে পর্যবসিত হতে পারে। ফলাফল হিসেবে বিচারক সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সুদূর প্রসারিভাবে রাষ্ট্রের আপামর জনসাধারণ অপরিসীম ক্ষতির স্বীকার হতে পারেন। সে দিক বিবেচনায় কোনো বিচারক সম্পর্কে কোনো প্রকারের অভিযোগ সৃষ্টি হলে প্রথমে তাকে সে অভিযোগ সম্পর্কে জ্ঞাত করা অপরিহার্য। পরবর্তী সময়ে তার ঊর্ধ্বতন নিয়ন্ত্রণকারী মহামান্য বিচারক মহোদয়কে বিষয়টি জ্ঞাত করা দরকার। যদি প্রয়োজন হয় তবে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত করা যেতে পারে। কারণ, কোনো অসৎ বিচারককে কোনো পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগে নিয়োজিত রাখা উচিত নয়।

১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট অব কেরেলা বনাম প্রিতিশ নন্দি (ক্রিলজা-১০৬৩) মামলায় মহামান্য বিচারপতি বলেন, বিচারকের বদান্যতা এতখানি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে না যে, সে কথা ও কার্যকে উৎসাহিত করবে যা জনসাধারণের বিচার প্রণালীর প্রতি আস্থা নষ্ট করবে, কোনো রকমের অনুগ্রহ বা ভীতি ছাড়া তাদের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে। মুক্ত সমালোচনায় সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও অর্পিত ভূমিকা রাষ্ট্রের স্বীকার করে নিতে হবে। মন্তব্য, সমালোচনা, তদন্ত ও গ্রহণের যুগে বিচার বিভাগ যৌক্তিক ও অনিষ্টবিহীন সমালোচনার হাত থেকে নিরঙ্কুশভাবে অব্যাহতি দাবি করতে পারে না। কিন্তু সমালোচনাটি শোভন ভাষায় নিরপেক্ষ, অনুভূতিপূর্ণ, সঠিক ও যথাযথ হতে হবে। সম্পূর্ণভাবে যেখানে সমালোচনার ভিত্তি হচ্ছে সত্যবিকৃতি ও পুরো বানোয়াট এবং বিচারকের ন্যায়পরায়ণতার ওপর কটাক্ষপূর্ণ ও বিচার বিভাগের সম্মান খাটো করা ও জনগণের আস্থা ধ্বংস করে দেয়া এটা উপেক্ষা করা যায় না। যেহেতু আইনের মহার্ঘতা অবমাননাকারীদের দ্বারা কালিমা লিপ্ত করার অনুমতি দেয়া যায় না।
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কতৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষনা পত্র গৃহীত হয়। সে ঘোষনার ধারা-১৯ এ বলা হয়েছে, প্রত্যেকেরই মতামত পোষন করা ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া মতামত পোষন করা এবং যে কোনো সংবাদ মাধ্যমের ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত চাওয়া, গ্রহণ করা ও জানাবার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভূক্ত।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। দেশের প্রতিটি সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা বিধানের ঢেকুর তোলে। কিন্তু বাস্তবতা অনেক নির্মম। প্রায় প্রতিদিনই কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে লাঞ্ছিত-নিগৃহীত হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। প্রতিটি সরকারের সময়ে, সব ধরনের পরিস্থিতিতে। কখনো শারীরিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন, কখনো শিকার হচ্ছেন হয়রানির। কখনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে, কখনো রাষ্ট্রের হাতে। স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেই গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নেমে আসে খড়গ। হামলা, মামলা, আর হয়রানিতে দুর্বিষহ করে তোলা হয় জীবন। গণমাধ্যমের এ আক্রান্ত অবস্থায় দেশের গণতন্ত্র যে রুগ্নতম সময় পার করছে তা অনুমেয়। কেননা, গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র অবস্থানের দিক থেকে একই সুতোয় গাঁথা।

একইভাবে রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিকের সম্পর্ককে আখ্যায়িত করা হয়- জল ও মাছের সম্পর্কে। কিন্তু যতই বস্তুনিষ্ঠ হোক, নিজের বা নিজ গ্রুপের বিপক্ষে গেলেই প্রতিপক্ষ হয়ে পড়েন রাজনীতিবিদরাও। তারাও হুমকি-ধমকি দেন, কর্মক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের ‘উপহার’ দেন বেকারত্ব। নিজস্ব সুবিধাবাদীদের দিয়ে মামলায় জড়িয়ে দেন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। আমলারা করেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নানা হয়রানি। কিন্তু সাংবাদিকতার নৈতিকতায় সাংবাদিকরা কারো স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু হতে পারে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে তাকে দাঁড়াতেই হয়। ফলে সাংবাদিকরা হয়ে পড়েন অপছন্দের পাত্র। তাদের গলা টিপে ধরতে সচেষ্ট হয়ে ওঠেন সবাই। অথচ অপছন্দের কথাগুলো তুলে ধরতে হয় দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের সময়েই সাংবাদিকদের ওপর নেমে এসেছে নির্যাতনের খড়গ। বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি বাদে বন্ধ করে সব পত্রিকা। বেকারত্বের পাশাপাশি নিগৃহীত হন বহু সাংবাদিক। এরশাদ সরকারের সময়ে দেশ ছেড়েছেন অনেক সাংবাদিক, বন্ধ হয়েছে সংবাদপত্র। জিয়া ও এরশাদ সরকারের মার্শাল ল’ কোর্টে হয়রানির শিকার হয়েছেন বর্তমান বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অনেকেই। নব্বইয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বড় ভূমিকা ছিল গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের। ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় আমাকেও সত্য বলার অপরাধে ৪৮ ঘণ্টা জেলে থাকতে হয়েছিল।

এবার আসি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিচারকের দায়েরকৃত মামলা বিষয়ে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারার যেকোনো একটি ধারায় অপরাধ করলে সর্বনিম্ন সাজা হবে ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ সাজা হবে ১৪ বছর। তার মধ্যে ৫৭ ধারা হলো সবচেয়ে ভয়ংকর। ৫৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তা হলে তার এই কাজটি অপরাধের অন্তর্গত হবে। এখানে উপরোক্ত ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে, কি কি কারণে, কোন কোন সময়, কার বা কাদের বিরুদ্ধে, কোন ধরণের কর্মকা- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এ ধরণের অপরাধ বলে গণ্য হবে। যার কারণে আইনটিতে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এখানে দ-বিধির মতো সংঘটিত অপরাধের কোন উদাহরণও দেয়া হয়নি। কেউ কিভাবে, কি দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হবে তার কোন উল্লেখ নেই।

যেহেতু প্রকাশের দ্বারা কার মানহানি হচ্ছে, কার অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে কিংবা অন্য কোন ক্ষতি কিভাবে কতটুকু হয়েছে তা পূর্ব থেকে বুঝা সম্ভব নয় বিধায় প্রকাশকারী নিজের অজান্তেই এমন কোন লিখা বা চিত্র সরল বিশ্বাসে ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে পারে যার কারণে সে এই আইনে ফেঁসে যেতে পারে। কেউ ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে ইন্টারনেটে কারো সাধারণ কোন প্রকাশনাকেই তার জন্য মানহানিকর বা ক্ষতিকর বলে মামলা করতে পারে। আর প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কম পক্ষে ৭ বছর জেলে থাকতে হবে।

এ আইনের কারণে জনগণ তাদের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার, মতামত ও ভাব প্রকাশের অধিকার দ্বিধাহীনভাবে প্রয়োগ ও প্রকাশ করতে পারবে না। এছাড়াও সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে নাগরিকদের সমালোচনা করার যে অধিকার রয়েছে তাও খর্ব হবে। সুতরাং রাষ্ট্রের নাগরিকদের মত প্রকাশের ক্ষমতা কোন কিছুতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। হোক না সে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিক বিষয়ে। সরকার অনলাইনে ক্ষতিকর মত প্রকাশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতেই পারে কিন্তু তার জন্য এতোটা কঠোর আইন প্রণয়ন করার কারণে সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে জামিন অযোগ্য বিষয়টি শিথিল করে আদালতের পছন্দের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের সময়কাল রঞ্জিত হয়েছে সাংবাদিকের রক্তে। অথচ শিল্প হিসেবে সংবাদমাধ্যমের বিকাশ ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় প্রতিটি সরকারই থাকেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু কোনো সরকারের হাতেই প্রণীত হয়নি একটি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন। এমনকি দেশে একের পর এক সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটলেও কোনো খুনের বিচার প্রক্রিয়াই সুষ্ঠুভাবে এগোয়নি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি একটিরও।

একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সাংবাদিকতা পেশা ক্রমাগতই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ঘটনায় প্রথাগত দুঃখপ্রকাশ ও হামলাকারীদের শাস্তির আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের পেশায় এ চলমান ঝুঁকি কমাতে রাষ্ট্র কি কোনো উদ্যোগ নেবে? দূর ভবিষ্যতে কি কোনো উজ্জ্বল আলো অপেক্ষা করছে?

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন গ্রন্থ প্রণেতা ও মানবাধিকার সাংবাদিক।
seraj.pramanik@gmail.com


নতুন কাগজ | news editor

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন