Natun Kagoj

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৭শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

সবজির চড়া মূল্যের নেপথ্যে

আপডেট: ০৯ সেপ্টে ২০১৭ | ১৯:১৩

শাহাদৎ স্বপন: ঈদের পর রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া মুল্যে সবজি কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এর ফলে ঈদে যারা গ্রামের বাড়ি যাননি এমনকি ঈদ আনন্দ শেষে যারা দ্রুতই রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন তারা অনেকটা বিপাকেই পড়েছেন।

সরেজমিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর ৬ নাম্বার, মিরপুর ২ নাম্বার, মোহাম্মাদপুর কৃষি মার্কেট, কচুক্ষেত ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি পটল ও লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে। যা সাধারণত প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। প্রতিকেজি সিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। মিষ্টি লাউ ও ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে। যা অন্য সময় মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে।

সবজির দাম এতো বেশি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে শেওড়াপাড়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ঈদের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাইওয়েগুলোতে ভারি যান চলতে দেয়া হয়নি। ফলে ঢাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে কোন কাচাঁমাল ঢুকতে পারেনি। তাই সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির মূল্য বেড়েছে।

যেসব কাঁচামাল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব কিভাবে রাজধানীতে আসছে এমন প্রশ্নের জবাবে কচুক্ষেত বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, দেখুন কিছু কিছু সবজি ঢাকার বাহির থেকে পিকআপ যোগে আসছে, তাছাড়া ঢাকার অদূরে সাভার, আশুলিয়া, গাজিপুর, মানিকগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকেও প্রতিদিন ভ্যানযোগে সবজি ঢুকছে। তবে ব্যাপকভাবে সবজি রাজধানীতে না আসায় দাম বড়েছে বলে েএই ব্যবসায়িও মতপ্রকাশ করেন।

এদিকে সবজির পাইকারি মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে খুচরা বিক্রেতাদের সবজির দাম হাকাতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ২৫ টাকা দরে পাইকারী ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। বেগুন প্রতিকেজি ২৫ টাকা দরে ক্রয় করে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে খুচরা ব্যাবসায়ীরা।

মিরপুর ৬ নাম্বার বাজারে পাইকারী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমরা যে দরে সবজি পাইকারী বিক্রি করি তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা বিক্রেতারা সবজি বিক্রি করলে বাজারে সবজির মূল্য নিয়ে কারো অভিযোগ থাকতো না। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা পরিস্থিতি ও এলাকা বুঝে নিজেরাই বেশি মূল্য বিক্রি করছে।

কাজীপাড়া বাজারের সবজি ক্রেতা সাবেক সরকারী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান নতুন কাগজের কাছে বলেন, এভাবে বাজার চলতে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনধারণ করতে পারবেন না। সরকার বা যথাযথ কতৃপক্ষ যদি খুচরা বাজারগুলো মনিটরিং না করেন তাহলে বাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নেবে। ঈদের দোহাই দিয়ে সবজির মুল্য এভাবে বাড়ানোর কারনে ঈদ পরবর্তী সময়ে দাম কতটা কমবে তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই সরকারী কর্মকর্তা।


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন