Natun Kagoj

ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

সঠিক সময়ই স্থায়ী কমিটি গঠন করবেন নেত্রী

আপডেট: ২৪ মে ২০১৬ | ০৪:২৫

দেশের জনপ্রিয় দলের মধ্যে অন্যতম একটি দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। প্রায় দু’মাস আগে এ দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিধি মোতাবেক অনুষ্ঠিত কা্উন্সিলেই জাতীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করার কথা। কিন্তু সেদিন শুধুমাত্র চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে এবং স্থায়ী কমিটি বা দলের নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত করা হয়নি। কারন উপস্থিত সব ডেলিকেটের ভোটে দলের চেয়ারপারসনকে একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার সুবিধামত সময়ে দলের স্থায়ী বা দলের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করবেন। বৈধ সে ক্ষমতা বলেই দলের চেয়ারপারসন যাচাই বাছাই শেষে কমিটি ঘোষণা করতেই পারেন। যখন তিনি সময়ই পেয়েছেন, তখন তড়িঘড়ি করে দলের স্থায়ী কমিটি গঠন করার প্রয়োজন কী। কোন প্রয়োজন নেই বলেই অনেকে মনে করেন। কারন যারা ঘোষিত জাতীয় কমিটিতে স্থান পাবেন তাদের ওপর নির্ভর করবে দলের ভবিষ্যৎ। এ কারনেই কোন চক্রের পরার্শে বিএনপি স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করে নিশ্চয়ই দলের চেয়ারপারসন অত্মহত্যার মতো কোন কাজ করবেন না। অবশ্যই তিনি এরূপ কোন কাজ করবেন বলে কেউই মনে করেন না। সঠিক নেতা বাচাই করতে দলের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চেয়ারপারসনের আরো সময় নেয়া খুবই প্রয়োজন। চাকরবাকরের মনোনিত ব্যক্তিদের স্থায়ী কমিটিতে স্থান দিয়ে দলকে কোনভবেই ধ্বংসে দিকে ধাবিত করবেন না বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতি নির্ভর নেতা দ্বারাই তিনি স্থায়ী বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করবেন। তিনি যদি সঠিক সিদ্ধান্তই নেন তাহলে নিশ্চয়ই সংস্কারবাদী তালিকা ছোট করতে হবে। নতুন পুরানো নেতাদের মধ্যে থেকেই সঠিক নেতাদের বাছাই করতে হবে। বাছাইকৃত নেতা দিয়ে স্থায়ী কমিটি গঠনের সময় বিরাজ করছে। বিষয়টি নিশ্চয়ই বিএনপির চেয়ারপারসন অনুধাবন করছেন এব সময় হলেই তিনি স্থায়ী কমিটি গঠন করবেন।

সময়ের প্রয়োজনে না বললেই চলে না। নির্বাচন হলে ভোট দিবেন ভোটররা। তারা তাদের পছন্দ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিবেন। যারা নির্বাচনী প্রতিযোগীতায় নামবেন তাদের মধ্যে কে কাকে ভোট দিবেন তা নির্ধারন করবেন একমাত্র ভোটাররা। ভোট প্রদানের  আগে বিএনপির নেতারা আসন সংখ্যা উল্লেখ করেন কী ভাবে? তাদের আসন সংখ্যা নির্ধারন করে দেয়া বক্তব্য কোন মানুষই শোনতে চায় না। সাধারন মানুষ শুনতে চান সরকারের ব্যর্থতা কোথায় এবং কীভাবে কতোটা ব্যর্থ। এ নিয়ে মন্ত্রনালয় ভিত্তিক বিএনপির নেতাদের বক্তব্য দেয়া প্রয়োজন। এ গুলো ব্যাপারে রাজনৈতিক ভাষায় বক্তব্য শুনতে চান সাধারন মানুষ। তারা শুনতে চায় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ ও জাতির জন্য কি করবে। যা করার অঙ্গিকার করবে তার ওপর জনগণ কীভাবে আস্থাশীল থাকবেন। সে বিষয়টি পরিস্কারভাবে জানতে চায়। বিএনপির নেতাদের সে বিষয়টি পস্কিারভাবে জানোর দায়িত্ব। কিন্তু তারা জনগণের চাহিদার বক্তব্য না দিয়ে হালকা ও অপ্রয়োজনীয় কথা বক্তব্যে বলছেন। বর্তমানে যারা নেতা বণে গিয়েছেন তাদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যাপারে চোখে আঙ্গুল দিয়ে কোন কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের ব্যাপারে চেয়ারপারসন নিজেও অনেক কিছু জানেন এবং বুঝেন।

জাতির সামনে আরো পরিস্কার করা প্রয়োজন, বিএনপিসহ তাদের অনুসারী বিরোধী দলগুলো কেন নতুন নির্বাচন চাচ্ছে এবং সরকার আগাম নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে কেন। এ বিষয়টি সাধারন মানুষকে বোঝাতে হবে। যেমনটি ৮০ দশকে বিএনপির নেতারা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলো। সক্ষম হয়েছিলো ৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। তখন যারা বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতা ছিলেন, তারা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছতে পারছিলেন। তারা সাধারন মানুষকে বোঝাতে পারছিলেন, কেন সরকার পরিবর্তন প্রয়োজন এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে হবে। সেরকমটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সাধারন মানুষকে বোঝানোর জন্য কোন ইঙ্গিত তুলে ধরতে পারেননি। তারা সামনের দিনগুলোতে কতোটা বোঝাতে সক্ষম হবেন সে ব্যাপারেও অনেকের সন্দেহ রয়েছে। বিএনপি রাজনৈতিক অঙ্গনে পুনরায় ঘুড়ে দাড়াতে চাইলে নিশ্চয়ই তাদের তুলে ধরতে হবে সরকার কী করছে এবং তাদের কী করার কথা। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের প্রয়োজনীয়তা কেন। জনগণের জনার বিষয়ে বিএনপির নেতারা কথা না বলে তারা বক্তব্য দিচ্ছেন ঢালাওভাবে। কাজের কোন ইঙ্গিত সাধারন মানুষকে তারা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে দিত সক্ষম হননি এবং এ ভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালালে ভবিষ্যতেও পারবেন বলেও সচেতন মহল মনে করেন না। এ কারনেই বলা হয়েছে এতো তড়িঘড়ি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করার প্রয়োজন কী। চেয়ারপারস নিশ্চয়ই বিদেশ নির্ভরশীল নেতাদের পরিবর্তে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার মতো যোগ্য রাজনীতিবিদদের নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটি গঠনে করে বিএনপিকে নতুন ভাবে স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পুনরায় জাতির সামনে দাড় করাবেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিএনপির প্রাণ বলতে যে সব নেতা ছিলেন এবং রয়েছেন তাদেরকে আবারো দলে স্থান দেয়া খুবই প্রয়োজন। আগে অনেক নেতাকেই সাধারন মানুষ বোঝত তারা বিএনপির প্রাণ। জাতির সামনে আবারো সে সব নেতাদের দাড় করানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ সব নেতাদের বেশীরভাগই যে কোন কারনেই হোক সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দলের বাইরে রয়েছেন। তবে যারা এ ভাবে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই দু’ভাবে পরিস্থিতির শিকার। এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে বিএনপি যে সব নেতারা সে সময় কাজ করেছেন তাদের উত্তর সুরীরাই বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনকে ঘিরে রেখেছেন। তারা বিশেষ এক চক্রের ছক মোতাবেক বারবার বিএনপিতে অনৈক্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তারাই এ সব নিবেদিত নেতাদেরকে ভিন্নভাবে তুলে ধরছে। তারা চেয়ারপারসনকে বারবার বোঝাতে চাচ্ছে, সংস্কারবাদী এবং সরকারের এজেন্ট হিসেবে ওনারা চিহ্নিত। এদেরকে দল থেকে ছিটকে ফেলে দেয়া প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভুল সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হয়েছেন। সামনের দিকেও একই ভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এ মহলটি। আপষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিব্রত করার জন্য তারা খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তারা চাচ্ছে, চেয়ারপারসন তড়িঘড়ি করে তাদের দেয়া তালিকা মতে বিএনপির স্থায়ী কমিটি গঠন করে ঘোষণা দিক। নেত্রী যাতে বিব্রত হন সে জন্য তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য মিডিয়ায় দিয়ে একটা আস্থার সংকট দলের ভেতর সৃষ্টি করার চক্রান্ত করে অনেক দুর এগিয়েছে। এ কারনেই বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে চেয়ারপারসনকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য একটু ভাবতেই হবে এবং এ জন্য কিছুটা সময় তার প্রয়োজন রয়েছে।

স্পষ্ট করে বলার প্রয়োজন রয়েছে, যাদেরকে সংস্কার পন্থি হিসেবে চিহ্নিত করে একটি মহল দলের বাইরে রাখার চেষ্টা করছেন তাদের ব্যাপারেও খোজখবর নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সংস্কারবাদী হিসেবে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে চিহ্নিত কয়েকজনকে নিশ্চয়ই দলে স্থান দেবার মোটেই সুযোগ নেই। তাদেরকে পুনরায় দলে নেয়া মোটেই উচিত নয়। বিশ্বাসঘতক ব্যক্তিদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তারা সংখ্যাং কম হলেও তাদের অনুসারীদেরকে বিএনপিতে ভাল অবস্থানে বসাতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপিতে বিশ্বাসঘতকদের অনুচরদের সংখ্যা কম হলেও তারা বহালতবিয়তে রয়েছেন এবং তাদের প্রভাব অনেকের চেয়ে বেশী। বিশ্বাসঘাতকেদের যেমন দলে নেয়া অসম্ভব, ঠিক দলের মধ্যে যারা এখনো রয়েছে, তাদেরকেও দলে রাখা বিপদ। তাই এ চক্রকে সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়াও জরুরি হয়ে পড়ছে। কথায় বলে সাবধানের কোন মাইর নেই। ঠিক বিএনপির ক্ষেত্রে সেরূপ অবস্থা বিরাজ করছে। সুতরাং বিএনপি পুর্ণরগঠন করতে হলে অনেক সাবধানতা মেনে এগুতে হবে। নিশ্চয়ই বেগম খালেদা জিয়া সে পথেই যাবেন। বলাবাহুল্য এবং লক্ষণীয় বিষয় যাদেরকে সংস্কারবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে দলের বাইরে রাখা হয়েছে, তাদের কার কী অবস্থান তা খোঁজ নিলেই সব পরিস্কার হবে। যারা বিব্রান্তিতে পড়ে সংস্কারপন্থিদের সাথে থাকতে হয়েছিলো তারা কেউই কী অন্যকোন দলে যোগ দিয়েছেন কীনা? তারা জরুরীবিধি সরকার থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত কোন সরকার তাদের দিয়ে নতুন দল করাতে পারছে কীনা? বিএনপির অনেক নেতা রয়েছেন যারা জরুরীবিধি সরকারের সময় পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তারা সে থেকে এখন পর্যন্ত রাজনীতি থেকে হাতগুটিয়ে চুপ করে রয়েছেন। যারা বিশেষ চক্রের তারা তখন থেকেই নতুন দল গঠন বা এখানে সেখানে ছোটাছুটি করছেন। এ মহলটি শুধু বিএনপি থেকেই ছিটকে পড়েননি, তারা রাজনৈতিক মাঠ থেকেই ছিটকে পড়েছেন। তাই তারা কোথাও ঠাই পাচ্ছেন না। তারা এখন রাজনৈতিক বিবেচনায় পাগলের ন্যায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে বেরাচ্ছেন।

আবার বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে যাদেরকে দল থেকে বাইর হয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিলো তাদের মধ্যে কতেকে নতুন দল করলেও অনেকে নিরব রয়েছেন। যারা দল করেছেন এবং যারা নিরব রয়েছেন তাদের অধিকাংশই জিয়া পরিবারকে মন থেকে ভালবাসেন। তারা এখন চান বিএনপি সামনের দিকে এগিয়ে যাক এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ কান্ডারী সময়মত দলের হাল ধরুক। তারা এখনো বিএনপির নেতাশুণ্যতায় ধুকেধুকে কাঁদছেন। তাদের কান্না হয়তো কারো চোখে পড়ছে না। তবে তাদের বিভিন্ন কথাবার্তায় তাদের মনের ভাবনাটা ফুটে ওঠছে। নিশ্চয়ই বিএনপির চেয়ারপারসন এ বিষয়টি এতোদিনে উপলদ্ধি করতে ভুল করেননি। কোন লোভে তারা সারা দেননি, শুধু মাত্র বিএনপির শুভদিনের আশায়। তারা সব সময়ই মনে করেন বিএনপির চেয়ারপারসন অবশ্যই একদিন সঠিক বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন এবং চিনতে পারবেন বিশ্বাসঘতকেরা কেমন করে তাকে ঘিরে রেখেছে। নেত্রী সময় পেলে নিশ্চয়ই বিএনপিকে আবার নেতা নির্ভর বিশাল কর্মীর একটি রাজনৈতি দলে পরিনত করে শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল নিয়ে রাজপথে আসবেন এবং সামনের দিকে এগুবেন। তিনি বারবার সেদিকে যেতে অগ্রহসর হলেই বিশেষ মহলটির দ্বারা বাধাগ্রহস্থ হচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সেদিকে যেতে চাইলেই বিশেষ চক্রের এজেন্ডের গন্ডিতে আটকে যাচ্ছেন। যে ভাবেই হোক এ গন্ডি থেকে তার বের হতেই হবে এবং তিনি অবশ্যই সে পথ খুজছেন। এ গন্ডি থেকে বের হয়ে তিনি নিশ্চয়ই একটি গ্রহনযোগ্য এবং শক্তিশালী জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করবেন। দলে যেমন তরুনদের তারুণ্য প্রয়োজন তেমনি প্রবীনদের পৌড়ত্বের প্রয়োজনীয়তা কোন ভাবেই খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই।

বিএনপিতে যদি রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান প্রবীন নেতা থাকত এবং যারা রয়েছেন তারা সামনের কাতারে থাকতেন, তাহলে হয়তো বিদ্যমান পরিস্থিতি দলে বিরাজ করত না। এ ভাবে ঢালাও বক্তব্য দিয়ে সাধারন ম্সুষের কাছে হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরী করত না। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসনকে ভুল ব্যাখ্যা দেবার সুযোগ পেতো না। সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে মন্ত্রনালয় ভিত্তিক বক্তব্য নিয়ে জনগণের দোড়গোড়ায় দাড়াতেন। তাদের পৌড়ত্বকে কাজে লাগিয়ে আজ তরুনেরা তাদের তারুণ্যকে আরো সানিত করতে পারতো। নেতা কর্মীরা উদজীবিত রাজপথে উত্তপ্ত থাকতো শুণ্য হতো না। নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজ পথে নামলে সরকার কারো রক্ত ঝড়াতে সাহস পেতো না যেমনটা এখন পায়। সরকার কতো নেতাকর্মীর শরীরের রক্ত ঝড়াতো। পুলিশ কতোজনকে গুলি করে মারতে পারত। কে কাকে গুলি করত। ৯০ তে তখনকার সরকার দেখামাত্র গুলি করার নিদ্দের্শ দিয়েছিলো। পুলিশ বা অইন শৃংখলা বাহিনী কাউকে গুলি করেছিলো? না তখন কাউকেই তারা গুলি করেনি। কারন তখন আওয়ামীলীগ বিএনপি রাজনৈতিক নেতা নির্ভর দল ছিলো এবং তারা রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলতেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে পালন করেছেন এবং তারা কর্মীদে সামনে থাকতেন। প্রবীন রাজনৈতিক নেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে বেয়াই বেয়াইনের বাড়ীতে গিয়ে অত্মগোপণ করেননি। তারা রাজপথে রয়েছেন বলেই পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য বা কর্মকর্তা তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের টিগারে আঙ্গুল নিতে সাহস করেননি। ভয়ে নয়, তখন তারা চাকরীর চেয়ে সম্মানবোধকে সামনে নিয়ে আসছেন। এখনকার যে কোন কর্মসূচিতে টোকাইদের রাজপথে চোগোপ্তা কর্মকান্ড চোখে পড়ছে। পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যখন তাদেরকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে রাজপথে দেখেন তখন তাদের মাথায় রক্ত চেপে বসে এবং ঘৃর্ণায় আগ্নেয়াস্ত্রের টিগারে ইচ্ছের বাইরে আঙ্গুল চলে যায়। এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে নেতা শুণ্যতার কারনে।

যে সব নেতরা সরকারের গ্রেফতার ও নির্যাতনের ভয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করে বেয়াই বেয়াইনের আচলে আশ্রয় নিয়েছেন, সে সব নেতারা কী ওখানে আশ্রয় নিয়েও গ্রেফতার এড়াতে পারছেন। রক্ষা কী পেয়েছেন পুলিশী নির্যাতন থেকে? না রক্ষা পাননি এবং পাবার কোন সম্ভাবনাও নেই। কারন তাদেরকে টোকাইর সরদার মনে করে এদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বা পুলিশ। যদি তারা রাস্তায় নেমে কর্মীদের সামনে থেকে পুলিশী নির্যাতনে শিকার হতেন, তাহলে কর্মীদের মধ্যে আত্মমর্যাদার ক্ষোভ সৃষ্টি হতো এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজপথ উত্তপ্ত হতো। পুলিশের মধ্যে একটা ভয় কাজ করতো সিনিয়র নেতাদের ওপর হাত দিলে পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। তখন তাদের মধ্যে সম্মানবোধ সৃষ্টি হতো। বিএনপি বিগত ৭/৮ বছরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং বিশেষ একটির চক্রের প্রতিনিধিদের বেস্টুণীতে অবদ্ধ হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনকে দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ২০১৩/১৪ তে যদি বিএনপির নেতারা রাজপথে নামতেন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতেন তাহলে ভোটারবিহীন নির্বাচন এ দেশে অনুষ্টিত হতো না। বিএনপির ভুলের কারনে পরিস্থিতি হঠাৎ করে পাল্টে যায়। ঘরে বসে বিদেশী ফরমূলায় রাজনীতি চলে না। রাজপথে এসে রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলতে হয়। এরূপ সাহস নেয়ার কোন নেতা বিএনপিতে এখন রয়েছে বলে কেউ মনে করেন না। এমন নেতা বিএনপি নেই বলেই জেলা পর্যায়ে সফল আন্দোলন হলেও ঢাকার ব্যর্থতার কারনে সরকার অনড় অবস্থান নিয়ে সুযোগের সদব্যাবহার করেছে। বেয়াই বেয়াইনের বাড়ী আশ্রয় নেয়া নেতারা যখন সরকারের এজেন্ট ও সংস্কারপন্থি হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে কথা বলেন তখন কারো কিছু বলার থাকে না। পরিশেষে এ কথা স্পষ্ট করেই বলা যায় সময় এসেছে বিএনপির চেয়ারপারেসনের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার এবং বিএনপি ভবিষ্যৎ কান্ডারির রাজনৈতিক মাঠে দাড়াবার শক্তি সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেয়ার। যারা গুলশান অফিস টু বাসার রাজনীতি করে তাদেরকে চিহ্নিত করুন। তাই বলা হছে, স্থায়ী কমিটি গঠন করতে তড়িগড়ি করতে হবে কেন? তড়িগড়ি করার কোন প্রয়োজন নেই। ঠান্ডা মাথায় স্থীরভাবে বিএনপি প্রিয় ও নিবেদিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে জাতীয় নির্বাহী বা স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করার পদক্ষেপ নিক বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এটা শুধু বিএনপির নেতাকর্মীর নয় শান্তিপ্রিয় ষব মানুষের। নিশ্চয়ই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন আপোষঞীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দিবেন।


নতুন কাগজ | এডমিন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন