লাশ হস্তান্তরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলো ইউএস বাংলা

1
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতরানেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকাল ১১টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই আশঙ্কার কথা জানান ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম। লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) থেকে নেপালে লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে লাশ শনাক্তে কিছুটা জটিলতা দেখা দিতে পারে। কারণ বেশিরভাগ লাশই আগুনে পুড়ে গেছে। তাই শানাক্তকরণ প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ। ১৫ পাতার একটি ফর্ম পূরণ করতে হয়। সেটা দেখে লাশ শনাক্ত করতে না পারা গেলে ডিএনএ টেস্ট করার প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির স্বজন সেখানে উপস্থিত থাকা জরুরি। তা না হলে ডিএনএ টেস্টও সম্ভব হবে না। ফলে লাশ হস্তান্তরে একটি দীর্ঘ সময় ব্যয় হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিমানমন্ত্রী সেখানে আছেন। নেপালের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া দ্রুত করবেন বলে আশা করছি। এ বিষয়ে আমরা তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কিছুটা অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, আমাদের প্রশাসনের লোকজন যেভাবে কাজ করে নেপালের প্রশাসন সেভাবে কাজ করে না। আমাদের হাতে যথেষ্ট ফ্লাইট আছে। শনাক্তকরণ হলে আমরা দ্রুত লাশ দেশে নিয়ে আসতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে আহতদের অন্য দেশে সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও আমরা করবো।
সোমবার চারজন ক্রু ও ৬৭ যাত্রী সব মিলিয়ে ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত আটজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।