রাজধানীতে সিটিং বাসের নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হবে কবে!

23

অমিত বণিক

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের নামে ৯৬ শতাংশ বাস চলছে দরজা বন্ধ করে। আসনের অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। অথচ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত! আর ৬২ শতাংশ যাত্রী বাস চলা অবস্থায় ওঠানামা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গতকাল প্রকাশ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পরিচালিত এক জরিপে এ বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠেছে। প্রকাশিত জরিপে বলা হয়েছে, গণপরিবহনে চলছে চরম নৈরাজ্য। এ ছাড়া মিটারের বদলে ৯৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে চুক্তির মাধ্যমে। ফলে পবিত্র রমজানেও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশ যাত্রী বলেছেন, প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো কাযর্করী তৎপরতা জরিপকালে দেখতে পায়নি যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সমিতির গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটির পাঁচটি দল ১৯ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ৬ দিন রাজধানীর ১৩টি জায়গায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ করেছে এ সময় ৩১০টি বাস এবং ২১৪টি অটোরিকশার ভাড়ার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ৫৫৭ জন বাসযাত্রী, ১৮৫ জন অটোরিকশা যাত্রী, ৫৬ জন ট্যাক্সি ক্যাব যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন জরিপকারীরা। জরিপের জায়গাগুলো হচ্ছে শনির আখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারা।

জরিপের ভয়াবহ চিত্র দেখে বুঝতে পারছি বর্তমানে ঢাকা শহরে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের পরিবেশ নেই। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিংবা পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মোটরযান আইন প্রয়োগ করা হয় তখন বাস মালিকরা বাস চালানো বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে থাকেন। বাস মালিকেরা বলেন, প্রতিটা বাসে ২০ শতাংশ আসন খালি নিয়ে চলবে-এমনটা ধরেই ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে আলাদা করে সিটিং সার্ভিস চালু রাখা বা আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

ঢাকায় শতকরা ৯৩ থেকে ৯৪ ভাগ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে পায়ে হেঁটে, বাসে বা রিকশায়। মাত্র ৬ থেকে ৭ ভাগ মানুষ প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করেন। প্রাইভেট গাড়িগুলো ঢাকার রাস্তায় শতকরা ৬৫ ভাগ দখল করে রাখে। ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করার ফলে দ্রুত প্রাইভেটকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু যানজটমুক্ত মহানগরীর জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার নৈরাজ্য দূর করা সময়ের দাবি।

যাত্রী সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে-বিদ্যমান মোটরযান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সময়োপযোগী মোটরযান আইন প্রণয়ন করা, রাজধানী ঢাকার গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন ধরনের নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমন্বিত পদক্ষেপ গৃহিত হলেই গণপরিবহনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আশা করা সম্ভব।

নক.সাআ.৩১.০২