Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

মোবাইল প্রতারণা: আইনশৃঙ্খলাবাহিনী থেকেও শক্তিশালী চক্র!

আপডেট: ২২ জুলা ২০১৭ | ১৯:৩৯

আবু সাঈদ আহমেদ

বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে মোবাইল প্রতারণা ও মোবাইলের অপব্যবহার রোধ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দু:খজনক সত্য যে, মোবাইলে প্রতারণা এবং মোবাইল দিয়ে চাঁদাবাজীসহ অন্যান্য অপব্যবহার কমেনি। এরই মাঝে ট্রুকলার নামক একটি এ্যাপস’ও অপরাধীদের বন্ধুর ভূমিকা পালন করছে।কারণ ট্রুকলার এপসের মাধ্যমে সিমের রেজিস্ট্রেশনকারীর নামসহ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য দেখা যায়। অথচ ব্যক্তিগত তথ্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ব্যাতিত অন্যদের কাছে পৌছে দেয়া অপরাধের শামিল এবং নিরাপত্তার পরিপন্থি।

আজ বিকাল ৪টা ৪১মিনিটে আমার ব্যবহার করা বাংলা লিঙ্ক নাম্বারে ০১৯৪৯৯৬৫৪৮০হতে একটি কল আসে। কলটি রিসিভ করার পরে দক্ষ কল সেন্টার অপারেটরের নিজেকে বাংলা লিঙ্কের কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজার ফয়সাল হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান যে, বাংলা লিঙ্কের একযুগ পূর্তি আর আড়াইকোটি গ্রাহক পূর্ণ হওয়া উপলক্ষ্যে আয়োজিত ড্র-তে আমার নাম্বারটি সপ্তম স্থানে বিজয়ী হয়েছে। আমি আগামী তিনমাস ৩০০০মিনিট ফ্রি টকটাইম, ওয়ালটনের পক্ষ থেকে একটি প্রিমিও মোবাইল সেট, বাংলা লিঙ্কের সহযোগি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫লাখ টাকার সমপরিমাণ গিফট, একটি এপেল এস৭ মোবাইল সেট পেয়েছি। এখানেই শেষ নয়, তিনি জানান যে, তিনি যে সত্যিই বাংলা লিঙ্ক কলসেন্টার থেকে ফোন করেছেন তার প্রমাণ হিসেবে এখনই ৩০০০মিনিট ফ্রি টকটাইম বুঝিয়ে দিতে পারেন, তিনি লাইনে থাকাবস্থায় আমাকে শুধু *১২১*২*৩*১*২*১# বাটনে প্রেস করতে হবে। ঐ নাম্বারে প্রেস না করলে তিনি আরও দুবার ফোন দিয়ে অনুরোধ করেন। তৃতীয়বার জানান যে, আমি যেনো বাংলা লিঙ্ক অফিসের সাথে যোগাযোগ করে উপহার বুঝে নেই।

উপরের তথ্যগুলো থেকে সচেতন মানুষমাত্রই বুঝতে পারবেন যে কলটি পুরোই প্রতারণামূলক, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে ব্যাক্তি কল করেছেন তিনি প্রথমেই নিচের তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে দিয়েছেন-

১. সিম রেজিস্ট্রেশনকারীর নাম ও জন্মতারিখ, পিতার নাম।

২. সিম রেজিস্ট্রেশনের তারিখ ও স্থান

৩. সিম রেজিস্ট্রেশনকারীর পেশা (যা ফর্মে উল্লেখিত)

অর্থাৎ সিম রেজিস্ট্রেশনের সকল তথ্য এই প্রতারকচক্রের কাছে রয়েছে। এই তথ্য বাংলা লিঙ্ক থেকে পাচার হয়েছে একথা বলতে পারছিনা, কারণ একইতথ্য সিমের নাম্বারে বিকাশ একাউন্ট করার সময়েও প্রদান করেছিলাম। যৌক্তিকভাবেই এই প্রতারক চক্রের হাত বাংলালিঙ্ক বা ব্রাকের বিকাশ ডাটাবেজ পর্যন্ত বিস্তৃত। আর, *১২১*২*৩*১*২*১# প্রেস করলে হয়তো আমার সিম ক্লোন হতো, বা নাম্বার কপি হতো বা বিকাশ একাউন্ট হ্যাক হতো।

বিবেচ্য বিষয় যে, বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের পরে মোবাইল ফোনের প্রতারণা আর স্মার্ট হয়েছে এবং বেড়েছে। কারন গতমাসে আমি রবি নাম্বারে এমন দুইবার কল পেয়েছি। আমার পরিচিতদের মাঝে অন্তত ছয়জন এমন কল পেয়েছেন। বাংলালিঙ্ক, রবি এবং এয়ারটেল কলসেন্টারে যোগাযোগ করলে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেবার মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে জানান তারা বিষয়টি দেখছেন। কিন্তু আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়না, আপডেট চাইলে জানানো হয় যে আপডেট দিতে তারা অপারগ।

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, মোবাইল ফোন প্রতারকচক্র কি এতোটাই শক্তিশালী এবং প্রযুক্তিগতভাবে এতোটাই অগ্রসর যে দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাই এফিসিয়েন্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও এদের কাছে অসহায়!

 

 

 

 

 

 

 

আবু সাঈদ আহমেদ, সাংবাদিক, লেখক ও এক্টিভিস্ট।


নতুন কাগজ | শাওন চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন