Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

মিয়ানমারকে প্রচন্ড চাপে ফেলতে হবে

আপডেট: ১৩ সেপ্টে ২০১৭ | ১৪:৩১

মো: সাহেদ : লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।এর ফলে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সমাধানের জন্য মিয়ানমার সরকারের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু এই চাপ শুধূ বাংলাদেশের করলে হবে না। করতে হবে জাতিসংঘকে এবং সেটা শুরু করতে হবে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে।কারন আজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধানের বক্তব্য দিয়ে শুরু করতে হবে-এ দাবি।কারন তিনি বলেছেন, জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বলতে যা বোঝায়- রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাদের আক্রমণে ঠিক তাই ঘটছে।আজ সময় এসেছে গোটা বিশ্বকে মানবতার পক্ষে দাড়াবার।

যদিও নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাধারী স্থায়ী সদস্যদের অন্যতম চীন ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছে-যে তারা মিয়ানমারের সরকারের তাদের ভাষায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পদক্ষেপকে পুরোপুরি সমর্থন করে।রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের মনোভাবও অনেকটা চীনের কাছাকাছি।

এমন অবস্থায় নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।তারপরেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উঠছে, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।যে পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।একমাত্র জাতিসংঘই পারে এ সমস্যার সুস্ঠু সমাধান করতে।

হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া বিশ্বের সব দেশের এই মুহুর্তের দাবি এ সংকটের সমাধান জরুরী।
জাতিসংঘ যেহেতু বলছে-পাঠ্যবইয়ে ‘জাতিগত নিধনের’ উদাহরণ হয়ে উঠছে এই ঘটনা।আর যেহেতু জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছে নিরাপত্তা পরিষদকে আলোচনায় বসতে।তার মানে রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিকীকরণ হয়ে গেছে।তাই এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু ভেটো ক্ষমতাধারী স্থায়ী সদস্য চীন যখন মিয়ানমারের সরকারকে স্পষ্টভাবেই সমর্থন দিয়েছে, ফলে বিষয়টি এখন জঠিল হয়ে গেছে।

এর আগে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা উঠেছিল তখন চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। চীনের আজকের অবস্থানও স্পষ্ট।

কিন্তু জাতিসংঘে কোনো প্রস্তাব পাস না হলেও আলোচনাটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা স্পষ্ট হচ্ছে এ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের এককভাবে যতটুকু করার তারা করছে বটে, এ অবস্থায় গোটা আন্তর্জাতিক সমাজের একটা ভূমিকা আছে।
তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে।কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে।কথা বলতে হবে আসিয়ানের সঙ্গে।বাংলাদেশ যে মানবিক ভূমিকা নিয়েছে সেটা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।


নতুন কাগজ | অনিল সেন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন