Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

বিএনপির তত্বাবধায়ক সরকার দাবী রাবিশ-অর্থমন্ত্রী

আপডেট: ০৫ সেপ্টে ২০১৭ | ১৪:০৭

শাহাদৎ স্বপন: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের জন্ম সিলেট জেলায়। তিনি ১৯৫১ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৫৪ সালে ওিই বিষয়ে প্রথম শ্রেণী পেয়ে কৃতকার্য হন এবং একই বিষয়ে ১৯৫৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। বিদেশে চাকুরীরত অবস্থায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন তিনি। অতঃপর ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমপিএ ডিগ্রী লাভ করেন।

পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হিসেবে ছিলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। অর্থনৈতিক পরামর্শক হিসেবে  ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৎকালীন পাকিস্তান দূতাবাসে যোগদান করেছিলেন। চাকুরীরত অবস্থায় পাকিস্তান কর্মপরিকল্পনা কমিশনের প্রধান ও উপ-সচিব ছিলেন। ওই সময় তিনি পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্য প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরেন ও পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসে পেশ করেন।

পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। এছাড়াও, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুহিত।

১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি চাকুরীজীবন থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর তিনি ফোর্ড ফাউণ্ডেশনের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন সংস্থা বা ইফাদেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৮২-১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন মুহিত। পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মনোনয়নে সিলেট-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে জনতার রায়ে তিনি ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে নির্বাচিত হন। ৬ জানুয়ারী, ২০০৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় দফায়ও তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করেন।

বৈবাহিক সূত্রে তার স্ত্রী সৈয়দা সাবিয়া মুহিত একজন ডিজাইনার। তাদের সংসারে দুই পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছে। সামিয়া মুহিত একজন ব্যাংকার এবং মুদ্রা নীতি খাতের একজন বিশেষজ্ঞ। তাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহেদ মুহিত একজন বাস্তুকলাবিদ এবং কনিষ্ঠ পুত্র সামির মুহিত একজন শিক্ষক।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে দৈনিক নতুন কাগজের বিশেষ প্রতিনিধি শাহাদৎ স্বপনে’র সাথে চলমান নানা ইস্যূ নিয়ে কথা বলেন তিনি। তার সাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

নতুন কাগজ: বিএনপির তত্বাবধায়ক সরকারের দাবীকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ণ করবেন?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: রাবিশ, শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান থাকবেন এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবেন। নির্বাচনকালীন হাসিনা সরকারই কেয়ারটেকার গভমেন্টে রুপ নেবে।

নতুন কাগজ: আপনি কি ইলেকশনের দাড়াবেন?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: না, আমার ইচ্ছে নেই। তবে আমার পার্টি যদি মনে করে আমাকে ইলেকশন করতে হবে তাহলে করবো। আমি দাঁড়াতে চাইনা আমার এই অনুরোধ যদি পার্টি গ্রহণ করে তাহলে দাড়াবো না।

নতুন কাগজ: আপনার ভাইয়ের কথা শোনা যাচ্ছে তিনি ইলেকশনে অংশ নেবেন?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন, তিনি অলরেডি ইলেকশনের জন্যে ক্যাম্পেইন করছেন। ফলে সে যদি পার্টি থেকে চুড়ান্ত হয় তাহলে ন্যাচারালি আমার সাপোর্ট থাকবে তার জন্যে। আর যদি আমার আসনে খালেদা জিয়ার মতো প্রার্থী কমপিটিশন করতে চান তাহলে আমিই সেখানে ইলেকশন করবো।

নতুন কাগজ: আপনি কি এমন কোন তথ্য পেয়েছেন যে আপনার আসনে খালেদা জিয়া ইলেকশন করবেন?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: না-না, লোকে বলে আরকি। নানান জনে বলেন। তবে ডেফিনেট কোন ইনফরমেশন পাইনি। বিএনপির লোকজনই বলেন, দে হ্যাভ এ ভেরি গুড কেন্ডিডেট।

নতুন কাগজ: আপনার আসনে তারেক রহমানের স্ত্রীর কি ইলেকশন করার সম্ভাবনা আছে?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: আই ডাউট ভেরিমাচ। হার ফ্যামিলি ইজ ভেরি প্রমিনেন্ট ফ্যামিলি নো ডাউট এ্যাবাউট ইট। তারা বাবা সিলেটের আইসিএ অফিসার ছিলেন। তবে বর্তমানে সিলেটে তাদের পরিবারের কোন এক্টিভিটিস নেই।

নতুন কাগজ: স্যার রেহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু বলবেন কিনা?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: আমরা তো যতদুর সম্ভব সহযোগীতা করছি। বাট ইট ইস নট ফেয়ার। আমরা এখানে সব রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিবো এটা হয় না। আমরাও অনেক সময় ইন্ডিয়ার সহযোগীতা নিয়ে থাকি। তাই আমরা এসব উব্বাস্তুদের তারাতে পারিনা। তবে রোহিঙ্গারা সেইদেশের নাগরিক। ফলে তাদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

নতুন কাগজ: রোহিঙ্গাদের সহযোগীতার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অর্থনৈতিক হেল্প চাইবেন কিনা?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: না, এই মহুর্তে এটা নিয়ে কোন সাহায্য চাইনা। কত হাজার রোহিঙ্গা এসেছে সেটা আগে দেখতে হবে। আসলে তারা একটা হিংশ্র জাতি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো শান্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত মহিলা তিনি এসব অত্যাচারকে সমর্থন করেন।

নতুন কাগজ: ইতোপূর্বে এদেশের জাতীয় ইলেকশন নিদ্রিষ্ট সময়ের আগে হওয়ার রেকর্ড আছে। এবার হচ্ছে কিনা?

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত: আমার মনে হয়না নিদ্রিষ্ট সময়ের আগে কোন ইলেকশন হবে। আমার চিন্তামতো ইলেকশন ডিসেম্বরেই হবে। আগষ্ট মাসে ইলেকশন কমিশন প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন আর ইলেকশন অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরেই এটা ইলেকশন কমিশনের সিদ্ধান্তও।

নতুন কাগজ: আগামী ইলেকশন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে বলে আপনি মনে করেন?

আবুল মাল আব্দুল মুহিত: ইট উইল বি ভেরি গুড ইলেকশন। আমি শিওর যে, বিএনপি ইলেকশনে পারটিসিপেট করবেন। তারা ইতোমধ্যে ইলেকশনে অংশগ্রহণের জন্য পার্টি রিপিয়ার করছে। বিএনপিও জানে ফেয়ার ইলেকশন একমাত্র আওয়ামীলীগের আমলেই হয়।

 

 

 

 


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন