Natun Kagoj

ঢাকা, রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

বাংলাদেশ হারল ৭৭ রানে

আপডেট: ২৬ ডিসে ২০১৬ | ১২:৫৮

%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%be

ক্রীড়া ডেস্ক: প্রথম ওয়ানডেতে ক্রাইস্টচার্চে আজ সোমবার বাংলাদেশকে ৭৭ রানে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের রেকর্ড ৩৪১ রান তুলেছিল কিউইরা। আর এই পাহাড়সম রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২৬৪ রানে। এর ফলে তিন ম্যাচের এই সিরিজে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। ১৩৭ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন টম ল্যাথাম।

শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন। অন্যদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজাও বোলিং দিয়েই সফরের প্রথম ম্যাচ শুরু করতে চেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের চাওয়ার প্রতিফলন পড়ল না নিজের বা দলের বোলিংয়ে। অন্যদিকে সতীর্থদের ব্যাটিংয়ে কিউই অধিনায়কের মুখের হাসি সময়ের সাথে সাথে আরো চওড়া হয়ে ওঠেছে।

মার্টিন গাপটিল বা উইলিয়ামসনকে নিয়েই ভয় ছিল বেশি। কিন্তু অতীতের আরও অনেকবারের মত বাংলাদেশকে ভোগালেন আড়ালের একজন। কদিন আগেই ভারতের বিপক্ষে আদ্যন্ত ব্যাটিংয়ের নজির গড়েছিলেন ল্যাথাম। এদিনও শুরুতে নেমে খেললেন প্রায় শেষ পর্যন্ত। ৪৮তম ওভারে যখন ফিরলেন, নামের পাশে ১২১ বলে ১৩৭ রান। দাঁড়িয়ে তখন হ্যাগলি ওভালের প্রায় সব দর্শক। এর আগে ১৫৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু পঞ্চম জুটিতে ল্যাথামের ১৩৭ খেলা থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে।

এই জুটির আগ পর্যন্ত কিছুটা হলেও ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। গাপটিলকে স্লোয়ারে ফেরান মুস্তাফিজ। দারুণ শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি উইলিয়ামসন। সাকিবের বলে মাহমুদউল্লাহর হতে জীবন পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি ৬ বছরেরও পর ওয়ানডেতে ফেরা নিল ব্রুম। স্কিড করা বলে ব্রুমকে এলবিডব্লিউ করার পর একই ভাবে জিমি নিশামকেও ফেরান সাকিব।

উইকেট হারালেও কিউইদের রানের গতি ছিল ভালো। ল্যাথাম আর মানরোর জুটি আকারেও হয় বড়, বাড়ে রানের গতি। তাসকিনকে পুল করে গ্যালারিতে ফেলে ঠিক ১০০ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ল্যাথাম। সেঞ্চুরির পর হয়ে ওঠেন আরও ভয়ঙ্কর। শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের স্লোয়ারে ফেরেন ১৩৭ রানে। সাকিবের বলে তার আগেই ফেরেন মানরো। তবে ফেরার আগে দুজনের ১৫৮ রানের জুটি যে কোনো উইকেটেই বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ।

শেষ ১০ ওভারে রান আসে ১০৩। ৭ উইকেটে ৩৪১ রান বাংলাদেশের বিপক্ষে কিউইদের সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ৩৩৮ ছিল সেই ১৯৯০ সালে শারজায়, দুদলের যেটি ছিল প্রথম দেখা! এই হ্যাগলি ওভালেরও এটি সর্বোচ্চ রান।

উইকেট বোলারদের জন্য কঠিন ছিল। তবে নিজেদের কাজটাও করতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। পেসারটা শর্ট বল করেছেন অনেক, লাইন-লেংথ হারিয়েছেন প্রায়ই। স্পিনারদের জন্য পিচে ছিল না কিছুই। রান বেশ গুণলেও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে সাকিব তবু নিতে পেরেছেন ৩ উইকেট।

বোলারদের বিবর্ণ দিনে আলো ছড়তে পারেনি ব্যাটিংও। কটবিহাইন্ড হয়েও বিস্ময়করভাবে রিভিউ নিয়ে ফিরলেন ইমরুল কায়েস। আস্থার প্রতিদান দিতে আরও একবার ব্যর্থ সৌম্য। দীর্ঘক্ষণ উইকেটে থেকেও ছন্দ পেলেন না তামিম।

মাঝে সাকিব অর্ধশতক করলেন দারুণ কিছু শটে। তবে গতিময় লকি ফার্গুসনকে পুল করে ছক্কা মারার পরের বলেই একই চেষ্টায় আউট। মুশফিক চেষ্টা করছিলেন ব্যবধান কমাতে। কিন্তু রান নিতে গিয়ে ডাইভ দিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ৪২ রানে।

শেষ দিকে দারুণ কিছু শটে মোসাদ্দেক হোসেন পেয়েছেন প্রথম অর্ধশতকের স্বাদ। তবে তার ইনিংসটায় পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমেছে। এই যা সান্তনা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৪১/৭ (ল্যাথাম ১৩৭, গাপটিল ১৫, উইলিয়ামসন ৩১, ব্রুম ২২, নিশাম ১২, মানরো ৮৭, রনকি ৫, স্যান্টনার ৮*, সাউদি ৭*; মাশরাফি ০/৬১, মুস্তাফিজ ২/৬২, তাসকিন ২/৭০, সাকিব ৩/৬৯, সৌম্য ০/২৫, মোসাদ্দেক ০/৪০)।

বাংলাদেশ: ৪৪.৫ ওভারে ২৬৪ (তামিম ৩৮, ইমরুল ১৬, সৌম্য ১, মাহমুদউল্লাহ ০, সাকিব ৫৯, মুশফিক ৪২ (আহত অবসর), সাব্বির ১৬, মোসাদ্দেক ৫০*, মাশরাফি ১৪, তাসকিন ২, মুস্তাফিজ ০; বোল্ট ০/৪৩, সাউদি ২/৬৪, ফার্গুসন ৩/৫৪, নিশাম ৩/৩৬, স্যান্টনার ১/৬১)

 


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন