Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

ফ্রান্স হামলা আর বাংলাদেশের হামলা এক নয়

আপডেট: ১৭ জুলা ২০১৬ | ০৮:০৭

13439098_1002300686555396_4248351440140427562_nমো. সাহেদ : ফের হামলা ফ্রান্সে। মাত্র আট মাসের মাথায় আরো একটি বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত ফ্রান্স। তবে এ হামলার প্যাটান ছিল অন্যসব হামলার চেয়ে ভিন্নতর। এবার বোমা বা চাপাতি  চালানো হয়নি। চালানো হয়নি গুলি বা গ্রেনেড। চালানো হয়েছে ট্রাক ! ভাবা যায় না। যা জঙ্গিদের এ যাবত কালের আক্রমনের ভিন্নতর কৌশল। এই ন্যক্কারজনক  হামলাকে দুনিয়ার কোনো  সভ্য মানুষ মেনে নিতে পারছে না। বাংলাদেশের মানুষও ফ্রান্সবাসীর সঙ্গে সমব্যথী।

পরিতাপের বিষয় অনেকে এই হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গি হামলার মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন। অনেকে বলার চেষ্টা করছেন গুলশান হামলা সঙ্গে ফ্রান্সের হামলার যোগসুত্র রয়েছে।  যারা মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন তাদের জানা থাকা দরকার, ফ্রান্সে হামলা করছে আইএস  এবং অন্য দেশের জঙ্গিগোষ্ঠি আর বাংলাদেশে হামলা করছে বাংলাদেশ বিরোধী একটি পক্ষ। যারা সোনার বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারের পরিচয় করিয়ে দিতে চাইছে। মরিয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতা দখলে। কিন্তু এ দেশের  মানুষ তা কখনো হতে দেবে না। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রমান করেছে বাংলাদেশে আইএস কিংবা কোনো জঙ্গিগোষ্টী আস্তানা গাঢ়তে পারবে না। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে জঙ্গিদমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার ইস্পাতসম মনোবল শত প্রতিকুলতা ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ এখন স্বল্প আয়ের দেশ নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে জঙ্গি দমনে ব্যাপক কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই  তিনি জঙ্গি দমন বিষয়ে কোনো না কোনো জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করছেন। নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। ধর্মী প্রতিষ্টানগুলো মনিটরিং করার নিদের্শ দিয়েছেন। দলীয় কর্মসুচীও পালন করছেন। যাতে গুলশান হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

গত ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় অভিজাত নিস শহরে হাজার হাজার মানুষের ওপর ৮০ কিলোমিটার বেগে চলা ১৯ টনের একটি ট্রাক তুলে দিয়ে অন্তত ৯০জনের বেশি লোককে হত্যা করেছে জঙ্গিগোষ্টি। যার দায়িত্ব স্বীকার করেছে ইসলামিক এস্টেট বা আইএস।সেদিনের হামলায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুই শতাধিক লোক। বাংলাদেশ এই হামলার তীব্র ঘৃণা জানায়।

জানা গেছে সরকারী ছুটি থাকায় বাস্তিল দিবসের উৎসবে যোগ দিতে এসব লোক শহরটির ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী  বিখ্যাত প্রমেনেদ দেজাঙ্গল চত্বরে জড়ো হয়েছিল। সেখানে মার্কিন, সুইস ও রুশ নাগরিক রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায়  ফ্রান্সজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। হামলাকারীর নাম মোহাম্মদ লাওয়েজ বুলেল বলে জানা গেছে। ৩১ বছর বয়সী বুলেল তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। হামলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। ট্রাকটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ দুইটি কালাশনিকভ রাইফেল, একটি বাইসাইকেল, বুলেট, গ্রেনেড, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু নকল অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ফরাসি পুলিশ বুলেলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে।

তবে এই হামলার কারন এখনও স্পষ্ট  নাহলে এটা যে সন্ত্রাসী হামলা তা নিশ্চিত হয়েছে ফ্রান্স। এই ঘটনার পর ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফ্রান্সের জরুরী অবস্থার মেয়াদ আরও তিনমাস বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলাঁদ, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মেরকেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও ভারতের  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি , বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরব নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন।  তবে দফায় দফায় ফ্রান্সের এ হামলার কারন খোঁজা দরকার। সেজন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে এক কাতারে আসা উচিত। বিশ্বব্যাপী জঙ্গিদমনে একটি শ্লোগান হওয়া উচিত। মনে রাখা দরকার এসব হামলায় সাধারণ মানুষকে  মারা হচ্ছে। তাই বের উচিত কে এই হামলার সঙ্গে জড়িত। আইএস না অন্য কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী। কারন এবং উৎস্য উৎঘাটিত হলে সন্ত্রাসীদের ধরা এবং দমন করা অনেকটাই সহজ হবে।

আর এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ কেন জঙ্গি হয়ে উঠছে তার কারনটিও জানা জরুরী।  ফ্রান্সের এই ঘটনা বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারন বর্তমান যুগে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ খুব একটা কঠিন নয়।


নতুন কাগজ | অনিল সেন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন