Natun Kagoj

ঢাকা, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

ফরহাদ মজহার অপহরণ নাটকের ৪টি ষড়যন্ত্র

আপডেট: ১৩ জুলা ২০১৭ | ১৯:২১

কবীর চৌধুরী তন্ময়:

দেশে ভিতর অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা
আমার ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, যাচাই-বাচাই, বিচার-বিশ্লেষণে এটাই ওঠে এসছে, এখানে অর্চনা রানীকে ব্যবহার করা হয়েছে বা অর্চনাকে কেন্দ্র করে এখানে নাটকটা সাজানো হয়েছে।

আপনারা একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, ফরহাদ মজহার কিন্তু পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষে সব সময়ই তার অবস্থান পরিস্কার করেছে। শুধু তাই নয়, দেশে বোমা মারা হচ্ছে খুব কম! আরও বেশি হওয়ার কথা বা মারা উচিত-এই ধরনের কথা মাধ্যমে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে ফরহাদ মজহার শুধু স্বীকৃতিই দেয়নি; বরং উসকে দিয়েছে। আরও নানান বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এগুলো না হয় উল্লেখ করবো অন্য সময়।

এবার দেখুন- ফরহাদ মজহার অপহরণের নাটক তৈরির পর সামাজিক যোগাযোগসহ কাঁরা-কাঁরা মাঠে-ময়দানে এবং সংবাদ সম্মেলন করে সরকার, সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেছিল? ফরহাদ মজহারের গুম-অপহরণ নাটককে কেন্দ্র করে যাঁরা দেশ ও জনগণের মাঝে আতঙ্ক ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার হুমকি-ধামকি দিয়েছিল- তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকান্ড আপনার জানা না থাকলে, আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখীত।

সরকার ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে বিতর্কিত করা
বন্ধুরা, একটু খেয়াল করে দেখুন- অন্যকিছু নয়, এখানে শুধু ২১শে আগস্টের কথাটা মনে করার চেষ্ঠা করুন। তখন একমাত্র শেখ হাসিনাকেই টার্গেট করা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত ইসলাম পরিকল্পিতভাবে শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বশূণ্য বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিল। কারণ অর্জিত সাহসে আর দীপ্ত পথে অবিচল থাকার একমাত্র নেতা শেখ হাসিনা। যা এই শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলেই পাকিস্তানী ছায়া রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না এটা বিএনপি-জামায়াত ভালো করেই জানে।

সেই পুরনো ষড়যন্ত্র আজও চলমান রেখেছে। এখানে যাঁরা প্রকাশে বলেছিল-বঙ্গবন্ধু’র হত্যার বিচার হলে হাতের তালুতে পশম গজাবে! আজ তাঁদেরও বিচার করেছে এই শেখ হাসিনা। যাঁরা বলেছিল-দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার নেই! আজ তাঁদেরও বিচার করেছে এই শেখ হাসিনা। যাঁরা দেশটাকে পিছিয়ে দিয়েছিল! আজ সেই বাংলাদেশকে মর্যাদার সহিত বিশ্বে তুলে ধরেছে এই শেখ হাসিনা। বিএনপি-জামায়াতের পাকিস্তানী ছায়া রাষ্ট্র থেকে মুক্তিযদ্ধের আদর্শে রাষ্ট্র-দেশ গঠন-পরিচালনা করে যাছে এই শেখ হাসিনা। আর ফরহাদ মজহার সেই তাঁদেরই লোক, যাঁরা সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগসহ মাঠে-ঘাটে নানান ধরনের মিথ্যাচার করে সেই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

আন্তর্জাতিক মহলে কুদৃষ্টি অর্জন করা
শুধু শেখ হাসিনাকে বিতর্কিত করতে, ক্ষমতা থেকে বাইরে রাখতে দেশের মাটিতেই ফরহাদ মজহারসহ এই ধরনের বুদ্ধিজীবীদের কু-বুদ্ধি জনগণের মাঝে দিনের পর দিন বিলিয়ে দেওয়ার সাথে-সাথে আন্তর্জাতিকভাবেও শত-শত কোটি টাকার লবিষ্ট নিয়োগ করে নানান সময়ে নানান ধরনে বক্তব্য প্রচার-প্রকাশ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অনুসারীরা সেমিনার-আলোচনা সভাগুলো গরম রেখেছে। স্পন্সর করে ফেসবুকগুলোতে সাধারণ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের হাতে-হাতে পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছিল।

ফরহাদ মজহারের অপহরণ নাটকটিও সেই রকম একটা প্ল্যান ছিল। আপনারা দেখেছেন নিশ্চয়ই- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো টাকার লোভে ইসরাইল-ফিলিস্তিনির দিকে না তাকিয়ে যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি যাতে না হয় সে ব্যাপারে বেশ তৎপর ছিলো। শেখ হাসিনার অর্জিত সাহসে পথ চলার কারণে যেখানে সব রকমের ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ হয়েগেছে, এখন ফরহাদ মজহারের মতন কু-বুদ্ধিদাতা বুদ্ধিজীবীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কু-দৃষ্টি অর্জন করে কিছুটা নকল স্বাক্ষর সংগ্রহ করে বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়ার একটা অপকৌশল গ্রহণ করেছি।

ভারতকে নিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা
শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে এসেছে এটা খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে মিডিয়ায় বলেছে। জামায়াত সেই ৭১-থেকেই বলে আসছে, এই দেশ হিন্দুর দেশ হয়ে যাবে। মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে। শেখের বেটি শেখ হাসিনাও হিন্দু ইত্যাদি-ইত্যাদি। আবার বিএনপি-জামায়াত পরিকল্পনা করেই বলছে, র-এর লোক দেশ নিয়ন্ত্রণ করে। গুম-খুন ভারতের র-এর লোকগুলো করে থাকে।

বিএনপি-জামায়াত দেখেছে- মুর্খ কিছু জনগণ তাঁদের কথায় আবার বিশ্বাসও করে। যেভাবে বিশ্বাস করিয়েছে সাঈদীকে চাঁদে দেখা গিয়েছে। তাই তাঁরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে চা-পানি পান করার মতোই অপপ্রচার সব সময় করে যাচ্ছে। এখানে মুল স্বার্থটা হচ্ছে- এই ভারত ৭১-সালে আমাদের সহযোগিতা না করলে আমরা স্বাধীনতার সাধ পেতাম না। এক কোটি মানুষকে আশ্রয় না দিলে তখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতো। সেই রাগ-ক্ষোভ আর পাকিস্তান রক্ষা না করার কষ্ট থেকেই বিএনপি-জামায়াত ও তাঁদের বুদ্ধিজীবী বলেন আর ব্লগার-অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট বলেন; পরিকল্পিতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে সব সময় একটা অপপ্রচার স্পন্সর করে হলেও করে যাচ্ছে।

বন্ধুরা, ফরহাদ মজহারের অপহরণ নাটকটি আমাদের অনেকের চোখ খুলতে সাহায্য করেছে। কিছু মানুষকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সেটা রাজনীতিবিদ হোক, সংবাদকর্মী বা সংবাদ মাধ্যম হোক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বা ব্লগার হোক, সমাজকর্মী বা মানবাধিকারকর্মীসহ কিছু মানুষের পর্দার আড়ালে থাকা চেহারাটা পরিস্কার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

 

লেখক: কবীর চৌধুরী তন্ময়
সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)।


নতুন কাগজ | সাজেদা হক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন