Natun Kagoj

ঢাকা, শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৭শে সফর, ১৪৩৯ হিজরী

সাওতালদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন কেন?

আপডেট: ১৬ নভে ২০১৬ | ১৯:৫৫

%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a7%a7

এইচ এম জালাল আহমেদ ।। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগছে। সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করতে হবে কেন! সাওতালরা কী বাংলাদেশের নাগরিক নন?গাইবান্ধায় সাঁওতালদের নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে এতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও নির্দেশের অপেক্ষা কেন? সবই যদি তার নির্দেশের অপেক্ষা করতেই হয়, তাহলে এতোগুলো সংস্থা ও বাহিনীসহ এমপি মন্ত্রী রাখার প্রয়োজন কী? সোজাসাফটা কথা সাওতালরাও এদেশের নাগরিক। তারা দেশের প্রচলিত আইন মানতে বাধ্য। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্টের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে যার যে কাজ সে তা করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা না করে সবই এমন কথা বলছেন, যেন কাজে ও অঘটনের দায় প্রধানমন্ত্রীর একার। এমনটিই ওনারা প্রকাশ করছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট করেই অনেকে বলছেন, নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপানোর চেষ্টার সামিলের মতই কথা বলছেন দায়িত্ববানরা। এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃষ্টি দিবেন বলেই সচেতন মহল মনে করেন।

সাওতালরা কী বাংলাদেশের নাগরিক নয়? তারা যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে কী তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যাবস্থা নেয়া উচিত নয়? আবার যারা সাওতালদেরকে নিয়ে বিদ্যমান ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা যেই হোক এবং অন্যায় বা অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাদেরকে কী আইনের আওতায় আনা বড়ই কঠিন কাজ? তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতেও কী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে হবে? সব যদি প্রধানমন্ত্রী করেন, তাহলে এতো ব্যায়বহুল প্রশাসন এবং সংস্থা রাখার প্রয়োজনটাইবা কী? প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী করে জিকির তুলে নিজেদের দায় দায়িত্ব ও কর্তব্য এড়ানো কী কোনোভাবেই সম্ভব? প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে হবে কেন? প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হচ্ছে না কেন? ওনাদের থেকে যারা অনুরূপ কথা বলেন, তাদের থেকে প্রধানমন্ত্রী এমন জবাবই নেবার প্রয়োজনীয় সময় কী হয়নি? বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী এমন জবাবই নিবেন বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করেন।

%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a7%a8

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ভূমিহীন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছে। রিটে সাঁওতালদের জানমালের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য নির্দেশনা চেয়েছেন। কর্তৃত্ববলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালিয়েছে এ প্রশ্নেও রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। ১৬ নভেম্বর বুধবার বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং ব্রতী সমাজকল্যাণ সংস্থা হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও সাহেবগঞ্জ সুগারমিলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে প্রতিপক্ষ করা হয়েছে। রিটে আরো বলা হয়েছে, সাঁওতালরা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা নিতান্তই অসহায়। এতটাই অসহায় যে তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। সাঁওতালদের পূর্ব পুরুষরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। আজ  তাদেরকেই ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জে আই খান পান্না বলেছেন, স্থানীয় বিশেষ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির ইন্ধনে সংখ্যালঘু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদেরকে তো বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া যাবে না। তাদের জানমালের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র বাধ্য এবং দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি ১৬ নভেম্বর বুধবার সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ভূমিহীন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় ঘরবাড়ি বানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, নাসিরনগরের ঘটনায় বেশ কয়েকটি তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদনগুলো হাতে পাওয়ার পর সবকিছু জাতির কাছে পরিষ্কার হবে। যে দোকান থেকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ছবি পোস্ট করা হয়েছিল সেই দোকান মালিককে সরকার তথা তদন্তকারী সংস্থা খুঁজছে এবং তাকে ধরার অভিযান চলছে। তাকে পেলেই ঘটনার সব কিছু পরিষ্কার হবে, কে বা কী উদ্দেশ্যে এ হামলা করেছে। তিনি যা বলেছেন, তা একেবারেই তার নিজের অবস্থান থেকে বলেছেন।

কিন্তু সাধারন নাগরিকদের প্রশ্নটা একটু ভিন্ন বোধ হয়। তারা জানতে চাচ্ছে দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই রাজনৈদিক নেতানেত্রী, দায়িত্ববান সংস্থা এমপি ও মন্ত্রী সবাই এক কথায় বলে আসছেন এটা প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আপরাধীকে ধরতে যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তিনি রাষ্ট্রের জন্য এতো সংস্থা, কর্মচারী-কর্মকর্তা ও এমপি মন্ত্রী রাখছেন কেন? এদেরকে দিয়ে প্রধান মন্ত্রীর কাজইবা কী? ওনারা যে ভাষায় কথা বলেন, তাতে সাধারণ নাগরিকদের কাছে পরিস্কারভাবে ইঙ্গিত বহন করছে, প্রধানমন্ত্রী না বলা পর্যন্ত কারো কিছু করার নেই। এমন মন মানসিকতা নিয়ে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছে বলেই দেশে লাগামহীন একের পর এক অঘটন ঘেটে যাচ্ছে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা মনে করেন এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃষ্টি দিবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।


নতুন কাগজ | এডমিন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন