Natun Kagoj

ঢাকা, রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

পথ একটাই, মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরি

আপডেট: ২৬ নভে ২০১৬ | ১৮:৫৯

sajeda-1-374x365সাজেদা হক: শেষ কথা দিয়েই শুরু করি, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের পথ একটাই, মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করা।

আমি সহজ কথা বুঝি, আমার কাছে দেশ মানে একটি পরিবার। পরিবারে যেমন প্রধান কর্তা থাকেন। সেই প্রধানের দায়িত্ব হচ্ছে নিজের পরিবারকে লালন-পালন করা, সোহাগ ও শাসন করা, দায় এবং দায়িত্ব নেয়া।  প্রত্যেকটা পরিবারের নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করেন পরিবার প্রধান। নিজ পরিবারের ভেতর কখনও কখনও নির্যাতিত হন অনেকেই। কোন কোনো পরিবার প্রধানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও ওঠে। থাকে পারিবারিক ক্লেশ-বিদ্বেষ। এসব দেখে দেখেই আমরা প্রতিবেশী হিসেবে বাস করি একই সমাজে। তাই বলে কোন পরিবারে দ্বন্দ্ব-কলহ শুরু হলেই যেমন আমরা নাক গলাই না, বিচ্ছেদে উৎসাহ দেই না, নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে কেউ বেরিয়ে আসলে তাকে স্থান দেই না বরং সমঝোতার পরামর্শ দেই। খুব বেশি হলে সালিশ করি, আবারো একই পরিবারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেই। সে হোক, স্ত্রী-সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য কোন সদস্যের বেলায়।

ঠিক তেমনি মিয়ানমার তার পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে, দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে বলেই আমরা সেই পরিবারের সদস্যদের ঠাঁই দিতে পারি না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে স্থান দিতে পারি না। কেনো দেবো? আমাদের কি সেই দায়িত্ব নেয়ার কথা?

বরং রাষ্ট্র নামের এই পরিবারটির প্রধানকে তার পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে একত্রিত করে সালিশ ডাকতে পারে বাংলাদেশ, প্রয়োজনে শাসন এবং হুমকিও দিতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে আর্থিক ও সামাকিজ  সব রকম সম্পর্ক বিচ্ছেদের হুমকিও দিতে পারে। একঘরে করে দেয়ার ভয় দেখাতে পারে। বাংলাদেশ এইক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বনেতাদের একত্র করে এর একটা সুষ্ঠু সমাধানের প্লাটফরম তৈরি করার উদ্যোগ নিতে পারে। নিজ দেশের মানুষের প্রতি এমন মিয়ানমার এতোটা অমানবিক কোনভাবেই হতে পারে না- তা বোঝাতে পারেন বিশ্ব নেতারা। পারে বললে ভুল হবে, বিশ্বকে এই চাপটা দিতেই হবে। এর কোন বিকল্প নেই। তবে, কৌশল নিয়ে আরো আলোচনা হতে পারে।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাচাঁতে ও মায়ানমারের নাগরিকত্ব আদায় করতে বাংলাদেশকে পদক্ষেপ নিতে পারে। আলোচনা হতে পারে, সেসব পদক্ষেপ নিয়ে। সকলের সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ এ বিষয়টি জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে তোলা। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টিই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।  এছাড়াও এশিয়ান কান্ট্রিগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেও মিয়ানমারকে  চাপ দিতে পারে বাংলাদেশ।

কারণ রোহিঙ্গাদের স্থান দিয়ে সমস্যার আপাতত সমাধান কোনোভাবেই উচিত হবে না।  এছাড়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার সুযোগ বাংলাদেশের নেই, সাধ্যও নেই। বরং বিব্রত ও আতঙ্কিত হওয়ার অনেক কারণ আছে। বাংলাদেশের জন্য এক অনাকাঙ্খিত সমস্যা। বড় সমস্যা হলো, এ ঘটনাকে পুঁজি করে অনেক জঙ্গি সক্রিয় হতে পারে।  এর বাইরে সেখানে সক্রিয় থাকা জঙ্গি গোষ্ঠি এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে কি ধরনের অপতৎপরতায় মেতে উঠে তাও এক শঙ্কার বিষয়।

এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে জাতিগত দাঙ্গার ঘটনায় দু’দফায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। এরপর যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, তার কি কোন সমাধান হয়েছে? হয়নি। তাহলে একই বিষ আবারো পানের কোন কারণ আছে কি? পাগলও নাকি নিজের ভালো বোঝে, বোঝে না?


নতুন কাগজ | সাজেদা হক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন