Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

নিপীড়ন শেখায় যে সংস্কৃতি

আপডেট: ১৭ মে ২০১৭ | ১১:০১

বিনোদন ডেস্কঃ শিল্প-সংস্কৃতি হলো সমাজের প্রতিচ্ছবি। সমাজে যখন অবক্ষয় দেখা যায়, একই দৃশ্য ফুটে ওঠে এর প্রতিচ্ছবিতেও। অনেক সময়ে ওই প্রতিচ্ছবি সমাজের মানুষের পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।

সংস্কৃতি সমাজের ওপর কতোটা ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? অনেকের মতে, সংস্কৃতি যেমন মানুষের জীবনকে বিকশিত করে, মহৎ করে তেমনি অপসংস্কৃতি জীবনে আনে বিকৃতি। অপসংস্কৃতি জীবনের সুস্থ, স্বাভাবিক বিকাশকে রুদ্ধ করে, ধ্বংস করে মূল্যবোধ ও চিত্তকে করে কলুষিত। সাময়িকভাবে অপসংস্কৃতি মোহনীয় হতে পারে কিন্তু এর ফলাফল হয় দীর্ঘমেয়াদি।

সংস্কৃতির মূল দুটি মাধ্যম হলো নাটক ও চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের নাটক নিয়ে কিছু কথা বলাই বাহুল্য। অনেকে মনে করেন নাটকে কিছু সংলাপ ব্যাবহার না করলেই নয়। এটাই সমাজের চল। যেমন নাটকে ব্যবহৃত একটি সংলাপ থেকে নেওয়া ‘লিটনের ফ্ল্যাট ‘শব্দটি। যা খারাপ ইঙ্গিত দেয় যুব সমাজকে।

গত ঈদে প্রচারিত ইমরাউল রাফাত পরিচালিত নাটক ‘রুম ডেট’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। সাধারণত বাংলা নাটকে যেসব দৃশ্যের কথা দর্শক কল্পনাও করতে পারে না, তেমন কিছুই ছিল এই নাটকে। ফলাফল হিসেবে প্রচারের আগেই আলোচনায় চলে আসে ওই নাটক। নাটকের মধ্যে ছিল অশালীন অঙ্গভঙ্গি আর ইঙ্গিতপূর্ণ সব সংলাপ। প্রচারের পর সমলোচনাও কম হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। অনেকের মতে, নাটকের নামে এ ধরনের যৌন সুরসুরি দেওয়া রুচিহীন উপস্থাপনা আর যাই হোক নাটক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। নাটকে রুচিহীনতার এমন উদাহরণ কম নয়। এমন রুচিহীন নাটক প্রকারান্তরে নারী নিপীড়নকেই উসেকে দিচ্ছে।

সিনেমার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের অতীত, বর্তমান ভবিষ্যতকে দেখতে পাই। নিজেকেই নিজে যেন অন্য অবস্থান থেকে দেখা। তবে অনেক চলচ্চিত্রে লোভ-লালসা, ভোগ-বিকৃতির মাধ্যমে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেখে প্রশ্ন জাগতে পারে এমন সিনেমা আসলে কাদের জন্য তৈরি হচ্ছে। হয়তো কিছু কুরুচিপূর্ণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে অর্থনৈতিক ফায়দা লুটতে।

বিশ্বায়নের যুগে আমাদের দেশে ভিনদেশি সংস্কৃতির ছাড়পত্রহীন অনুপ্রবেশ ঘটেছে, যা প্রভাবিত করছে আমাদের সমাজকে। এর ভালো দিক অবশ্যই আছে। কিন্তু খারাপ দিকটাই আজকে সমাজকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। সস্তা বিনোদনমূলক সিনেমা তরুণ প্রজন্মকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। সিনেমার কাহিনি, নাচ-গান, পোশাক-আশাক ইত্যাদি এমনভাবে সন্নিবেশিত থাকে যে, তাতে তরুণ সমাজ সস্তায় এবং সহজে আমোদ-প্রমোদের উপাদান খুঁজে পায়। তরুণ-তরুণীরা সিনেমার উদ্ভট ও অবাস্তব কাহিনিকে বাস্তব মনে করে মারাত্মক ভুল করে এবং অন্ধভাবে সেগুলো অনসরনের চেষ্টা করে।

বাংলাদেশের তথাকথিত মূলধারার অধিকাংশ সিনেমা অশ্লীল গালি সহ নানা কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য সস্তা বিনোদনের জন্য দেখিয়ে থাকে। এমনকি ভিন্নধারায় ‘পিপড়াবিদ্যা’র মতো সিনেমা ইশারা ইঙ্গিতে সমাজকে যেমনটা শেখায়। হিন্দিতে ‘মার্ডার’ কিংবা মজার ছলে ‘গ্রান্ড মাস্তি’ সিনেমাও তেমনটা শেখায়। হলিউডে রয়েছে নানা ধাঁচের সিনেমা। মূল ধারার সিনেমার মধ্যে ‘ফিফটি শেডস অফ গ্রে ‘এর উদাহরনই টানা যায়। গার্লফ্রেন্ডকে পাশবিক নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। কিছুদিন আগে বলিউডে মুক্তি পাওয়া ‘পিংক’র পর্দায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে। সেই গল্প বাস্তবেই বাংলাদেশে ঘটে গেছে বনানীর দুই ছাত্রীর নিপীড়নের মধ্য দিয়ে। এমন সংস্কৃতি থেকে নারী নিপীড়নে যে কেউ প্রভাবিত হতে পারে। প্রশ্ন হলো যারা সমাজে এমন প্রচার রুখবেন তারা কোথায়?


নতুন কাগজ | রুমানা পারভিন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন