Natun Kagoj

ঢাকা, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

নিত্য রক্ত বাংলাদেশে : প্রতিরোধের পথ কী?

আপডেট: ১৯ জুলা ২০১৬ | ১২:৪১

roneshmoitroরণেশ মৈত্র : প্রতিদিনই রক্ত ঝরছে বাংলাদেশে। প্রযুক্তি অসাধারণ উন্নতির ফলে সুদূর সিডনিতে অর্থাৎ হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও তাৎক্ষণিকভাবেই যেসব সুসংবাদ-দুঃসংবাদই যে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়- তা এর আগে লিখেছি । সুসংবাদ দেশে খুব কমই। কিন্তু দুঃসংবাদের আদৌ কোনো ঘাটতি নেই। মৃত্যু? না স্বাভাবিক মৃত্যুর আদৌ কোনো নিশ্চয়তা নেই। যখন-তখন, যেখানে-সেখানে, নারী-পুরুষ, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান, দেশি বা বিদেশি নিমেষেই মুত্যুর হিমশীতল কোলে আশ্রয় পেয়ে চলেছেন। চোখের সব অশ্রæই শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। এ কথা কারো একার জন্য সত্য নয়, সবার জন্যই। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশ হেরে যেতে বসেছে’- একথা বলছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নামক বিশ্বখ্যাত পত্রিকা। ইংরেজিতে ‘Bangladesh is Losing the Battle Against Terrorism’ শিরোনামে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে এ কথা লেখা হয়েছে। সাব-হেডিংটি হলো ‘For all her toughness, Sheikh Hasina has failed to wage a war of ideals’ অর্থাৎ তার কঠোর মনোভাবের প্রকাশ ঘটালেও শেখ হাসিনা শত্রুদের বিরুদ্ধে আদর্শিক যুদ্ধ চালাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের লেখক সদানন্দ ধুম গত ৭ জুলাইয়ের পত্রিকায় প্রকাশিত তার ওই লেখার এই ‘আদর্শিক বা যুদ্ধ’ ‘war of ideals’ বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন তা তার সমগ্র লেখায় স্পষ্ট করে বলেননি। তবে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ নিষ্ঠার সঙ্গে বিশ্বাসী, যারা আমরা ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সৈনিক হিসেবে পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের গোড়া থেকে বিরোধিতা করে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আজ ৮৪ বছর বয়সেও দৃঢ়তার সঙ্গে লালন করি তারা দেশীয় বাস্তবতায় আমাদের রাষ্ট্রের ইঞ্জিনটা যে লাইনচ্যুত হয়ে আছে বা তাকে লাইনচ্যুত করে রাখা হয়েছে সে দিকটা দেশীয় পত্রপত্রিকায় অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে বারংবার তুলে ধরছি। বিগত তিন বছরের সহিংস ঘটনাবলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর তাঁর নেতৃত্বে রচিত এবং তদানীন্তন সংসদে সার্বিক সমর্থনে এই নবীন রাষ্ট্রটি পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ঐতিহাসিক দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন, ১৯৭৫-এ তাঁকে হত্যাকারীরা বাহাত্তরের সংবিধান থেকে সেই দিকনির্দেশনাগুলোকেও নির্মমভাবে হত্যা করে দেশটাকে ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্টের পরবর্তী বা ততোধিক খারাপ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।
আদর্শিক বিচ্যুতির চরম ঘটানো হয়েছে- সাম্প্রদায়িকতাকে পুনরুজ্জীবিত করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে উধাও করা হয়েছে, গণতন্ত্রের বিকৃতি সাধন করা হয়েছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদকে অস্তিত্বহীন করা হয়েছে- সমাজতন্ত্রকে বিদূরিত করা হয়েছে। ফলে আমাদের যুবসমাজ সেই ষাট ও সত্তরের দশকেও আন্দোলন মুখর দিনগুলোতে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ও তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের যে স্বপ্ন দেখেছিল- আজ তা পুরাপুরি উধাও হওয়ায় যে আদর্শিক শূন্যতা দেখা দিয়েছে, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মবিশেষের রাষ্ট্রীয় লালন তাদের প্রতিক্রিয়ায় আদর্শে টেনে নিয়েছে। তাই তারা ধর্মীয় রাষ্ট্রেই আজ আর সন্তুষ্ট নয়- তারা চায় বিশেষ একটি ধর্মের দ্বারা পরিচালিত বিশ্ব। তাই তার আইএস বা ISIS কেই তাদের আদর্শিক প্রতিষ্ঠান বলে মনে করে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছেড়ে তারা ওই পথেই ধাবিত হওয়া শুরু করেছে- বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পাড়ি জমাচ্ছে। গুলশান হত্যালীলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের কাহিনী জানাজানি তো হয়েই গেছে। অজানা আরো কতজন আছে সে হিসাব কষা দরকার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় বড় দলের নেতাকর্মীদেরই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরাসরি বলেছে ঢাকার গুলশান ঘটনা, যেখানে জিহাদিরা ২২ জনকে একটি ক্যাফের অভ্যন্তরে হত্যা করল সেই ঘটনায় আজ বাংলাদেশ যে কত বেশি সন্ত্রাসবাদ কবলে পড়েছে এবং আর কত বেশি বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সেখান থেকে সুযোগ পেয়ে তারা প্রায় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ইসলামের ওই মতবাদ প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা গভীরভাবে ভাবার বিষয়।
সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এবং ধীরস্থিরভাবে চিন্তা করার বিষয় এই যে, দীর্ঘদিন যাবৎ যে কল্পিত অন্তঃসারশূন্য ধারণা বিশ্বব্যাপী দেয়ার মোটামুটি সব চেষ্টা করা হয়েছে যে, ইসলাম এবং বাঙালি সংস্কৃতি এমনটাই মিলেমিশে একাকার হয়েছে যে উগ্রতা নয়, সহনশীলতাই যে ইসলামের মূল কথা এবং একই সঙ্গে তা বাঙালি সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত বাণী এবং সেই হিসেবেই ইসলাম ও বাঙালি সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্যভাবেই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণাও দেয়া হতো যে বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বত্র জিহাদি কার্যকলাপ প্রসারের বিরোধী। সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণাতেও ফাটল ধরে গেল যে দারিদ্র্যই উগ্রবাদ প্রসারের মূল কারণ। বাস্তবে দেখা গেল, সচ্ছল এবং ধনী পরিবারের সন্তানরাই জেহাদি কার্যকলাপে প্রধানত লিপ্ত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই নিবন্ধে আরো বলা হয়, তিনটি বৃহৎ দক্ষিণ এশীয় দেশ- ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে এতকাল ধরে যা করে এসেছে তা প্রায়ই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। প্রতিটি দেশই জঙ্গিবাদের পৃথক পৃথক চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে ওই দেশ তিনটি নিজের একক চিন্তা অনুযায়ী জঙ্গি ও ইসলামি গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিজ নিজ কায়দায় পরিচালিত করতে থাকলে উন্মাদের মতো ততদিন তারা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতেই থাকবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌক্তিকভাবেই ইসলামি জেহাদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় কিছুটা দৃঢ়তার পরিচয় ইতোমধ্যেই দিয়েছেন যা এ অঞ্চলের নেতারা পারেননি। আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করেছেন। ১৯৭১-এ গণহত্যা পরিচলনার এবং তাতে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে বিগত কয়েক বছরে তিনি পাঁচজন নেতৃস্থানীয় জেহাদি জঙ্গি যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন। ওরা সবাই জামায়াতে ইসলামির শীর্ষস্থানীয় নেতা আর ওই দলটি জন্ম নিয়েছে দুর্ধর্ষ ইসলামিক স্টুডেন্ট মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের হিজবুল মুজাহেদিন। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে যেমন কার্যকলাপ পরিচালনা করে চলেছে তা এককালের আরব বিশ্বেও মুসলিম ব্রাদারহুডের অনুরূপ।
ইসলামি জঙ্গি নেতা লাহোরের মওলানা মওদুদি ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতে ইসলামের পণ্ডিত ব্যক্তি বলে বিবেচিত হতেন এবং সেই সুবাদে তিনি মুসলিমদের বিশ্বাস করাতে পেরেছিলেন যে, আল্লাহর আইন নির্বাচিত সরকার প্রণীত আইনের ঊর্ধ্বে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই কারণ সে দেশের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং সে দেশের কুখ্যাত গোয়েন্দা বাহিনী জেহাদের এক বড় প্রবক্তা ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে চলেছে ভারত, কাশ্মীর, আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে। আমেরিকাও আফগান ইস্যুতে অত্যন্ত সক্রিয় সামরিকভাবে। ২০১৪ সালে যখন পেশোয়ারে ১৩২ জন ছাত্রকে পাকিস্তানি তালেবানরা হত্যা করল তখন সেখানকার সেনাবাহিনী তাদের দেশে সন্ত্রাসবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। মাত্র সেদিন রমজান মাসে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠতা হাফিজ মোহাম্মদ সাঈদ এক জামাতে মুসলিমদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাস্তিকদের যেকোনো মূল্যে উৎখাত করতে হবে। ওই হাফিজের মাথায় বা তাকে ধরার বাবদ ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করা আছে ২০০৮ সালে মুম্বাই ম্যাসাকারের দায়ে। উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় ছয়জন আমেরিকানসহ ১৬৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অপরদিকে জয়সে মোহাম্মদ করাচিতে প্রকাশ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা বা মুষ্টি সংগ্রহ করেছে ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদে সহায়তার জন্য। আফগান তালেবান এবং হাক্কানি গোষ্ঠীও নিরাপদে পাকিস্তানে সংগঠিতভাবে কাজ করে চলেছে এবং আফগানিস্তানকে প্রতিনিয়ত অশান্ত করে রাখার লক্ষ্যে। বিগত ৩০ জুন কাবুলের বাইরে এক হামলা চালিয়ে তারা ৩৭ জন আফগান পুলিশ ক্যাডেটকে হত্যা করেছে।
শেখ হাসিনা জঙ্গিবিরোধী যুদ্ধে যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তা যতই প্রশংসনীয় হোক, ইসলামি উগ্র আদর্শের বিরুদ্ধে আদর্শিক যুদ্ধ চালাতে তিনি শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। বিগত তিন বছরে ইসলামি উগ্রপন্থীরা প্রায় ৫০ জন ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের চিহ্নিত ব্যক্তি, ব্লুগার, নাস্তিক, হিন্দু-বৌদ্ধ পুরোহিত প্রমুখকে নির্মমভাবে খুন করেছে। ওই নিহত ব্লুগারদের পক্ষে দাঁড়ানোর পরিবর্তে শেখ হাসিনা বরং প্রকাশ্যেই বললেন, তাদের ইসলাম বিরোধিতা প্রচারণা সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ তারা খুন হওয়ার মতোই অপরাধ করেছে এবং ওই খুন যুক্তিপূর্ণ। এই হত্যা তাদের কৃত অপরাধের জন্য তাদের প্রাপ্য। তদুপরি, শেখ হাসিনা শত সহস্রবার তার দেশে আইএস এবং আলকায়েদার অবস্থিতি অস্বীকার করেছেন এবং এখনো করছেন যদিও জঙ্গি অপরাধ সংক্রান্ত বিশ্বের পর্যবেক্ষকরা লক্ষ করছেন যে, ওই দু’টি ভয়াবহ জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাদের কর্মী ও সমর্থক সংগ্রহ করেই চলেছে। এ ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় বক্তব্য হলো তাবৎ সহিংসতা জঙ্গি কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে করছে স্থানীয় জঙ্গিরা, জামায়াতে ইসলামী, জামাতুল মুজাহেদীন ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। অপরদিকে আইএস ঢাকার গুলশান রেস্টুরেন্টের ঘটনায় তাদের এজেন্সি ‘তামাক’-এর মাধ্যমে আক্রমণকারী পাঁচজন জঙ্গির ছবি প্রকাশ করেছে আইএসের ব্যানার, লোগো, রাইফেল এবং লাল কালো কাফিয়াসহ। ব্যানারটি কালো রংয়ের।
পাকিস্তানের অবস্থা আরো ভয়াবহ। উগ্র ইসলামি জঙ্গিবাদ ভারতেও দিব্যি বিকাশ লাভ করে চলেছে। ওই দেশটির ১৩০ কোটি মানুষের প্রায় শতকরা ১৪ জন মুসলিম। গুলশান হত্যা লীলাকারীদের একজন তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে মুম্বাইয়ের অধিবাসী জাকির নায়েককে প্রশংসা করে এই বলে যে, তিনি সব মুসলমানকেই সন্ত্রাসী বা জিহাদি হতে আহ্বান জানিয়েছেন। ওই খুনির প্রস্তাব যে সমকামীদের এবং ইসলাম ত্যাগীদের অর্থাৎ বিধর্মীদের ফাঁসির বিধান আছে মর্মে বলা হোক। জাকির নায়েককে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তার সন্ত্রাসী প্রচারণা পৃথিবীব্যাপী প্রচারের সুবিধা পেয়ে যেতে পারে এই কারণে। নায়েক ভারতে একটি মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। সবশেষ ঢাকার গুলশানের খুনিরা আসলে তাদের প্রধান লক্ষ্যের কিছুটা লক্ষণ বা নমুনা দেখিয়েছে মাত্র। যতদিন বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সাঈদ ও নায়েকের এই সহিংস জঙ্গিবাদ প্রচারণা পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারবে ততদিন তাদের পক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই রোগের বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। তবে এই অভিমতই জঙ্গিবাদ উৎখাতের জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচনা করার কারণ নেই। আমরা ইতিহাস খুঁজলে দেখতে পারি, পৃথিবীতে এ যাবৎ যত নরহত্যা হয়েছে তার সর্বাধিক সংখ্যক হয়েছে ধর্মের নামে বা ধর্মকে কেন্দ্র করে। বিভাগোত্তর কাল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আজকের মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মের নামে কত লাখ মানুষকে প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে, নানা ধর্মে বিশ্বাসী কত নারীকে ধর্মের নামে অকথ্য নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হচ্ছে তার সংখ্যা যেদিন জানা যাবে, সেদিন পৃথিবী সর্বাধিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দেখবে যে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যে ভয়াবহ হত্যালীলা চালানো হয়েছে এটম বোমা মেরে তার চেয়ে কতগুণ মানুষ হত্যা ঘটাচ্ছে ধর্মের নামে। কল্পনাতীতভাবে এই হত্যালীলা দিনকে দিন বৃদ্ধিই পেয়ে চলেছে। তাদের প্রতিরোধ করতে মাসের পর মাস আকাশ থেকে নানা দেশে বোমা ফেলতে হচ্ছে। ফলে বহু জঙ্গি মারা যাচ্ছে বটে কিন্তু তাদের নিঃশেষ করা যাচ্ছে না। তারা গোটা পৃথিবীতেই এবং বিশেষত মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে এবং সেই দেশগুলোর কাছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিত্যনতুন রিক্রুটমেন্ট, প্রশিক্ষণ ও অপারেশন চালিয়ে নিরাপদেই উল্লাস প্রকাশ করছে।
সিডনি থেকে


নতুন কাগজ | অনিল সেন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন