Natun Kagoj

ঢাকা, রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৩রা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

নাসিরপুরের ৭ জঙ্গির দাফন সম্পন্ন

আপডেট: ০৪ এপ্রি ২০১৭ | ১৫:৫২

নতুন কাগজ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত সাতজনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় চিকরবাড়ি কবরস্থানে তাঁদের লাশ দাফন করা হয়েছে। মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল আজ মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে সাতজনের লাশ শনাক্ত করতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে নিয়ে আসা হয় আবু বকর সিদ্দিককে। নিহত সাতজন হলেন দিনাজপুরের লোকমান হোসেন, তাঁর স্ত্রী শিরিনা আক্তার এবং তাঁদের পাঁচ মেয়ে। আবু বকর সিদ্দিক নিহত লোকমান হোসেনের শ্বশুর। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তিনি মেয়ে, মেয়ের স্বামী ও নাতনিদের শনাক্ত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, লাশ গ্রহণে আবু বকর সিদ্দিক অস্বীকৃতি জানালে পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় গতকাল রাতে সাতজনকে দাফন করা হয়।

গতকাল পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, নাসিরপুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা একটি পারিবারিক ছবি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে দেখানো হলে তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করেন, ছবির লোকজনই এই বাড়িতে ছিলেন। সেই ছবিটিই দিনাজপুর থেকে আসা আবু বকর সিদ্দিকসহ তিনজনকে দেখালে তাঁরা ছবির লোকজনকে তাঁদের আত্মীয় বলে নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে শিরিনা আক্তার তাঁর বাবাকে যে নম্বর থেকে ফোন করেছিলেন, সেই ফোনের অবস্থান নাসিরপুর এলাকার। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহত সাতজনের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে।

লাশ শনাক্ত করার পর আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, লাশ দেখে চিনতে পারিনি। ছবি দেখে চিনতে পারছি। আমি লাশ নেব না। এরা দেশের শত্রু, সবার শত্রু। জনগণের শত্রু। লাশ নেওয়া লজ্জার ব্যাপার হয়ে গেছে। তিনি জানান, লোকমান তাঁর স্ত্রী শিরিনা আক্তার (৩৫) ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন। পাঁচ মেয়ে হলো আমেনা খাতুন (২১), সুমাইয়া (১২), মরিয়ম (১০), ফাতেমা (৭) ও খাদিজা (৭ মাস বয়সী)।

গত ২৯ মার্চ বুধবার ভোরে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানাটি ঘেরাও করে পুলিশ। ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নাম দিয়ে সেখানে অভিযান চালায় সোয়াট ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগ। ৩৪ ঘণ্টা পর ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এরপর সেখান থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

 


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন