দ্বিতীয় দিনেই জমজমাট বইমেলা

33

নিজস্ব প্রতিবেদক: অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনেই বেশ জমে ওঠেছে। ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার দুপুরের পর অসংখ্য মানুষ মেলায় ভিড় জমান। সকালে মেলায় ছিল ক্ষুদে পাঠকদের ভিড়, কারণ সকালটা ছিল বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর।

শুক্রবার সকাল ১১টায় বই মেলার দ্বার উন্মোচনের পরপরই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রচুর লোকসমাগম হতে থাকে। মেলায় এসে কেউ বই দেখছেন, কেউ বই কিনছেন। কেউ আবার বিভিন্ন নান্দনিক স্টলের সাথে ছবি তুলছে। একই অবস্থা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে। সেখানে ও প্রচুর লোকের সমাগম হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। পূর্ব আকাশের সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়তেই বইমেলার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল দেখতে পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় দিন হলেও বইমেলা এখনো পুরোপুরি গোছানো হয়নি। দীর্ঘপ্রস্তুতি শেষেও এখনও অব্যবস্থাপনা রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। এখনও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে প্রবেশ পথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় এখনও স্টল নির্মাণের অবশিষ্ট বালু ও মটির স্তুপ পড়ে আছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা। তবে আবর্জনার পরিষ্কারের কার্যক্রমে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে দ্বিতীয় দিনে। চালু হয়নি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশের তথ্যকেন্দ্র। সময় গড়ানোর সঙ্গে সেসব সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বাংলা একাডেমি।

অবশ্য মেলার নীতিমালা অনুযায়ী স্টল নির্মাণের কাজও শেষ করেছে প্রকাশনা সংস্থাগুলো। বাংলা একাডেমি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বইমেলার দ্বিতীয় দিন ৬১টি নতুন বই মেলায় এসেছে।

এবারের মেলায় যারা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বই বের করেছেন, তাদের জন্য জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র বই বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের বই বিক্রি করে টাকা দিয়ে দেয়া হয়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ব্রেইল প্রকাশনী নামে অন্ধদের একটি স্টল রয়েছে। সেখানে দেখা যায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বই দেখছেন।

প্রকাশকরা জানিয়েছেন, এখনও মেলায় আশানুরূপ বিক্রি হয় নি। সবাই এখনও বই দেখছে, কিনছে না।’ তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে বিক্রি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।