দুনিয়া কাঁপানো ১০ ভালোবাসার সিনেমা

0
14

নতুন কাগজ ডেস্ক:

প্রেম, মানুষের এক অনিবার্য অনুভূতি। যুগে যুগের প্রেম আখ্যান নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গল্প আর উপন্যাস। প্রেম-ভালোবাসার গল্প নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়েছে চলচ্চিত্রে।
দুনিয়া কাঁপানো ১০টি প্রেমের সিনেমায় চোখ রাখা যাক।

কাসাব্লাঙ্কা : অনবদ্য এক প্রেমের ছবি কাসাব্লাঙ্কা। ড্রামা,রোমান্স এবং সাসপেন্স সবমিলিয়ে ছবিটি পরিপূর্ণ একটি ক্লাসিক বিউটি। আফ্রিকার দেশ মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহরকে কেন্দ্র করে মুভিটির কাহিনী গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথমদিকে আমেরিকান সাবেক মুক্তিযোদ্ধা রিক ব্লেইন ( হামফ্রে বোগার্ট) পালিয়ে আসেন কাসাব্লাঙ্কায়। এখানে তিনি গড়ে তোলেন শহরের সবচেয়ে নামকরা নাইট ক্লাব। যেখানে শহরের সব নামিদামি ব্যক্তিরা আসেন। এক সময় রিক বিস্ময়ের সঙ্গে আবিস্কার করেন যে ভিক্টর লাজলো একজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন যার নাম এলসা ( ইনগ্রিড বার্গম্যান) । রিকের সাবেক প্রেমিকা এলসা। যার সঙ্গে প্যারিসে চমৎকার সময় কেটেছিল তার । যখন তিনি চলে আসার জন্য ট্রেনে উঠছিলেন ঠিক সে সময় এলসা চিঠির মাধ্যমে তার অপারগতার কথা জানান। ১৯৪২ সালের এই মুভিটি সেরা মুভি, সেরা ডিরেক্টর এবং সেরা কাহিনী ও চিত্রনাট্যের অস্কার পুরস্কার জিতে নেয়। এর বাইরে আরো আটটি ক্যাটেগরিতে অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল মুভিটি। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন হ্যামফ্রে বোগার্ট এবং ইনগ্রিড বার্গম্যান।

রোমান হলিডে: এই ছবি সাদাকালো হওয়ার পরেও আজও মানুষের মনে চির রঙিন। সম্পূর্ণ শুটিং ইটালিতে হওয়া প্রথম আমেরিকান মুভি এটি। এটাতে শুধু রোমান্টিক সিনেমা বললে ভুল হবে, এতে রয়েছে কমেডির যথেষ্ট উপাদান। এক সামান্য পত্রিকা রিপোর্টারের সাথে রোম নগরীর সম্ভাব্য সিংহাসনের উত্তরাধিকারিনীর প্রেমে জড়িয়ে পড়া, যে প্রিন্সেস আবার নিজের রাজ্য দেখতে ঘর পালিয়ে গিয়েছিলেন। এই ছবিতে রিপোর্টারের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন গ্রেগরি পেক এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী ব্রিটিশ অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন। হেপবার্ন এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার লাভ করে ছিলেন।

টাইটানিক: বিশ্বসেরা দর্শকপ্রিয় ভালোবাসার সিনেমার নাম নিলে নব্বই দশকে নির্মিত মহান নির্মাতা জেমস ক্যামেরুনের ‘টাইটানিক’-এর কথা বলতেই হবে। ১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া পৃথিবীতে নির্মিত সবচেয়ে বড় জাহাজ ‘টাইটানিক’। যে জাহাজকে কেন্দ্র করে ছবিটিতে যে জ্যাক ও রোজ নামের দুই প্রেমিক-প্রেমিকার কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তা মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে বহুদিন থেকে। ছবিটি টাইটানিকের সাথে এই দুই প্রেমিক প্রেমিকার ঘটনাও শেষ হয় বিরহ আর ট্রাজেডির মধ্য দিয়ে।

বিফোর সানরাইজ: এক আমেরিকান তরুণ ও একজন ফরাসি যুবতীর ভিয়েনার ট্রেনে পরিচয় এবং পরবর্তীতে ভিয়েনা শহরে সারারাত ঘুরে বেড়ানো এবং একে অপরকে জানার দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে সংলাপ-নির্ভর চলচ্চিত্র ‘বিফোর সানরাইজ’। নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে নির্মিত আমেরিকার অন্যতম রোমান্টিক চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত ছবি এটি। শুধু কি তাই! প্রেমের সিনেমা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে সেরা সিনেমা হিসেবে উচ্চারিত ‘বিফোর সানরাইজ’। রিচার্ড লিংকলেটার ও কিম ক্রিযান রচিত ছবিটি নির্মাণ করে রিচার্ড লিংকলেটারই। ছবিতে অভিনয় দিয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন ইথান হক ও জুলি দেলপি।

দ্য নোটবুক: ১৯৪০ সালের প্রেমের গল্প ‘দ্য নোটবুক’। নোয়া ক্যালহউন এবং অ্যালে হ্যামিলটন নামে দুজন তরুণ-তরুণির প্রেমে পড়ার কাহিনী নিয়ে নির্মিত এই ছবি। এই দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমের গল্প বর্তমান থেকে পেছেনের দিকে একজন নেপথ্য সংলাপের মাধ্যমে বয়ান করেন। নিকোলাস স্পার্কস রচিত একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি পরিচালনা করেছেন নিক ক্যাসাভেটস। অভিনয়ে ছিলেন রায়ান গসলিং, রেকল ম্যাক অ্যাডামস, জেমস গার্নার, গেনা রোনাল্ডসের মত তারকারা। লিন হ্যারিস এবং মার্ক জনসন প্রযোজিত চলচ্চিত্রটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আরন জিগম্যান। ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৪ সালের ২৫ জুন।

বারান: মাজিদ মাজিদি ইরানি ছবির অন্যতম একজন নির্মাতা। তার নির্মিত ‘বারান’ ছবিটি অন্যতম শ্রেষ্ঠছবিগুলোর একটি। এটিকে পৃথিবীর নিঃশব্দ ভালোবাসার ছবি বলে মনে করা হয়। ইরানিয়ান সিনেমার দর্শক মূলত কাহিনীর সাথে নিজেদের আবদ্ধ করে ফেলেন,মিলে মিশে একাকার হয়ে যান সিনেমার গল্পের সাথে; ইরান সিনেমার দর্শকদের বোঝার দরকার হয় না লাইট, সেট আর ক্যামেরার কারিকুরি। সিনেমা নির্মাণকারীও কোন ধরণের মাতব্বরি না করে সাধারণ একটি গল্পকে অসাধারণ করে চিত্রায়িত করে ফেলেন। এই অর্থে নির্মাতা মাজিদ মাজিদির এক অসাধারণ চিত্রায়ন বলা যেতে পারে ‘বারান’কে।

প্রিটিওম্যান: প্রিটি ওম্যান সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিচার্ড গিয়ারএবং জুলিয়া রবার্ট। ভালবাসা যেকোন সময় মনের কোণে এসে উঁকি দিতে পারে। প্রিটি ওম্যান ছবিতে এক সম্পদশালী পুরুষের কাছে তাই প্রেম হয়ে এসেছিল বন্ধনহীন প্রেমহীন এক নিশীথচারিনী। ১৯৯০ সালে নির্মিত ভীষণ সাবলিল সুন্দর এক প্রেমের ছবি প্রিটি ওম্যান।

রোমিও জুলিয়েট: বিশ্ববিখ্যাত লেখক উইলিয়াম সেক্সপিয়ারের কালজয়ী ট্র্যাজেডি গল্প অবলম্বনে ১৯৯৬ সালে নির্মিত হয় রোমিও জুলিয়েট। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিকাপ্রিও এবং ক্লেয়ার ডেনিস। এর আগেও অনেকবার এই প্রেমকাহিনী নিয়ে ছবি নির্মিত য়েছে। দুটি ভিন্ন পরিবারের পূর্ববর্তী রেষারেষি এবং আভিজাত্যের অহংকারকে পেছনে ফেলে দুজন মানুষ প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যায়। নানা রকম টানাপোড়েনের পর তাদের বিয়ে হয় এবং তথ্যগত ভুলের কারণে জীবনে একসময় নেমে আসে প্রেম উপাখ্যানের ট্র্যাজেডি।

ব্রেথলেস: ১৯৬০ সালে বিশ্বচলচ্চিত্রের ধারা বদলে দেয় ব্রেথলেস সিনেমাটি। হলিউডের স্বর্ণযুগের সূর্য তখন অস্তগামী। ফ্রান্সে ঠিক তখনই ‘ব্রেথলেস’ দিয়ে নির্মাতা জ্যঁ-লুক গদার তৈরি করেন নতুন এক চলচ্চিত্রধারার, যা আজ নিউ ওয়েভ সিনেমা নামে পরিচিত। সিনেমাটির গল্প এক ছিঁচকে চোরকে নিয়ে, যে দুর্ঘটনাবশত এক পুলিশকে মেরে ফেলে। এর মধ্যে সে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এক মার্কিন তরুণীর সঙ্গে। শাস্তির ভয়ে তাকে নিয়ে ইতালি পালাতে চায় সে।

মুঘল এ আজম: ১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুঘল এ আজম’ ছবিটি হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সর্বকালের সর্বসেরা একটি চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কে আসিফ পরিচালিত এ ছবির বিভিন্ন দৃশ্য এবং ঘটনাবলী নিয়ে দর্শক এখনও নষ্টালজিক আলোচনায় মুখর হলেও একটি অলটাইম ক্ল্যাসিক লাভস্টোরি হিসেবে অতীতের মতো আগামীতেও দর্শক হƒদয়ে মুগ্ধতার পরশ বুলিয়ে যাবে বিখ্যাত এই ছবিটি। আর এ ছবির গানগুলো আজও সবাইকে আবিষ্ট করে তোলে। দিলীপ কুমার, মধুবালা, পৃথ্বিরাজ কাপুর অভিনীত ‘মুঘল এ আজম’ ছবিটি  এক কালজয়ী সৃষ্টি।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন