Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

দারিদ্র্য থেকে অস্কার

আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৭ | ২০:২০

বিনোদন ডেস্ক : ভায়োলা ডেভিস। এবারের ৮৯তম অস্কারের শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী। পরেন সুন্দর পোশাক, গয়না। চড়েন দামি গাড়িতে। কিন্তু শুরু থেকেই এমন অবস্থা ছিল না তাঁর। জন্ম আর বেড়ে ওঠা দক্ষিণ ক্যারোলাইনায়, দাদির খামারবাড়িতে। ভায়োলার জন্মের কিছুদিন পর তাঁরা চলে যান রড আইল্যান্ডে। ইঁদুরের কামড়ের ভয়ে গলায় ন্যাকড়া পেঁচিয়ে ঘুমাতেন। তাঁর শৈশবের স্মৃতিতে অনাহারে কাটানো দিনের সংখ্যাও কম নয়। বাড়ির ফ্রিজটা খালিই পড়ে থাকত। পিপল আর এন্টারটেইনমেন্ট উইকলিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন দুঃখভরা তথ্যই দিয়েছেন ভায়োলা।

তিনি জানান, তাঁর বাড়িতে পানি ছিল না, কোনো গোসলখানা ছিল না। সেটা ছিল একটা আউট হাউস। কিন্তু তাঁর মা নাকি বলেছেন, তাঁর জন্মের পর সব আত্মীয় তাঁদের বাড়িতে এসেছিল। সবাই অনেক খাওয়াদাওয়া করেছিল, ফুর্তি করেছিল। কিন্তু তাঁদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বেশির ভাগ সময় বিদ্যালয় থেকে পাওয়া দুপুরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হতো তাঁকে। তিনি বলেন, ‘যখন আমি বলেছি আমাদের কিছুই ছিল না, তার মানে সেটা শূন্য।’
তিনি জানান, তাঁদের বাড়িতে বেশির ভাগ সময় গরম পানি থাকত না, সাবান থাকত না। পড়াশোনায় ভালো হলে কী হবে? বিদ্যালয়ে যেতে হতো গায়ে দুর্গন্ধ নিয়ে। দুই মুঠো খাবারের জন্য কী না করেছেন?

ভায়োলা বলেন, ‘আমি খাবার পাওয়ার জন্য সবকিছু করেছি। খাবারের জন্য আমি চুরি করেছি।’ আবর্জনার স্তূপের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন খাবার খুঁজতে। প্রতিবেশীর বাড়িতে মা তিনবেলা খাবার রান্না করতেন, কিন্তু ভায়োলার পরিবারকে না খেয়ে বা আধপেটা থাকতে হতো। প্রতিবেশী বন্ধুরাও আস্তে আস্তে তাঁদের সঙ্গ ত্যাগ করছিল। ভায়োলা জানান, তিনি খুব লজ্জাজনক শৈশব কাটিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি এমন কঠিন পরিবেশে বড় হয়েছি, আমি কখনো মেনিকিউর, পেডিকিওর করতে পারিনি, গাড়িতে চড়িনি। কিন্তু আমি এখন একটি দারুণ বাড়িতে বাস করি। আমি চেয়েছিলাম, প্যাঁচানো সিঁড়ি, বিছানায় পরিষ্কার চাদর, চেয়েছিলাম যেন স্নান করতে পারি।’ তিনি এখন এর সবকিছুই পেয়েছেন। কিন্তু শৈশবের সেই স্মৃতি এখনো দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়ায় এই ‘ফেন্সেস’ তারকাকে।

সূত্র : উইকিলিকস্ ও পিপল।


নতুন কাগজ | আহমেদ শাহেদ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন