Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ | ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

জঙ্গিবাদের পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত

আপডেট: ১৩ জুন ২০১৭ | ১১:৩৩

মোঃ সজিব খানঃ আমরা বাঙালীরা শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে পরিচিত। দাঙ্গা-হাঙ্গামা অশান্তি এইসব আমাদের একদমই পছন্দ নয়। এছাড়া এদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী হওয়ায় সর্বোত্ত শান্তি বিরাজ করছে। তার উপর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এদেশে গতিশীল উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দরিদ্রের হার কমেছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থাসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ চলছে। শেখ হাসিনার হাত ধরে এই দেশ যখন দিনকে দিন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে, যখন এ দেশে রাজাকারদের বিচার হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হচ্ছে। ঠিক তখনি একটি কুচক্রি মহল নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ, সমষ্টিগত বা দলীয় স্বার্থে এ দেশে জঙ্গি হামলা, গুম, খুন, বোমা হামলা, ইত্যাদি সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রম চালিয়ে দেশের শান্তি বিনষ্ট করে চলেছে। মূলত দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা সহ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করাই বর্তমানে এদের মূল উদ্দেশ্য। এ দেশের মানুষ কখনই জঙ্গিবাদে সমর্থন করেনা।

গত কয়েকদিনের পত্রিকার পাতা উল্টালে বুঝা যায় আমাদের দেশ এবং দেশের মানুষ কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাধারণ মানুষ অনেকটা শঙ্কার মধ্যে জীবন যাপন করছেন। কখন কোথায় বোমা ফাটে, কোথায় জঙ্গি হামলা হয় তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। এই তো কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে প্রথমে এলএমজি পিস্তল উদ্ধার করা হল এবং তার পরপরই উপজেলার পূর্বাচল উপশহর থেকে উদ্ধার করা হল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলা বারুধ সহ গ্রেনেড ও রকেট লঞ্চার। পুলিশের মহাপরিদর্শক শহীদুল হক বলেছিলেন; হয়তো বড় ধরণের কোন নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্য নিয়ে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে সেই নাশকতা যে কি ধরনের আর কখন কোথায় ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হয়তো কিছুদিন পর এ ব্যপারে আমরা জানতে পারবো।

কয়দিন পর পরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলছে সেই সাথে উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র, গোলা বারুধসহ বোমা, জিহাদি বই পুস্তক ইত্যাদি। জঙ্গিরা মূলত কি চায়, কোন উদ্দেশ্যে তারা নাশকতা ঘটাচ্ছেন সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যাচ্ছে না। পত্র পত্রিকায় শুধু দেখতে পাচ্ছি জঙ্গি হামলার ঘটনা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে নাশকতার সাথে জামায়াত শিবির এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)এর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। তবে এইসব হামলার নেপথ্যে মূলত কারা রয়েছে, কারা জঙ্গিদের মদদ দাতা, অর্থের যোগান দাতা, তাদের মূল উদ্দেশ্যই বা কি? এসবকিছুই যেন ধোঁয়াশাই রয়ে যাচ্ছে। তবে একটু সময় সাপেক্ষ হলেও এইসব জঙ্গি হামলার নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুখোশ জনসম্মুখে উন্মুক্ত করা উচিত বলে মনে করছি।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তখন বিবৃতি দিয়েছিলেন; “গুলশানে হামলায় আইএস জড়িত নয়, দেশে আইএস-এর কোনো অস্তিত্ব নেই”। কিন্তু পরে দেখা যায় গুলশান হামলার সাথে জড়িত জঙ্গিদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশী হলেও তারা সকলেই আইএস এর সদস্য ছিলেন।

জঙ্গিবাদের একাধিক ঘটনায় দেশ আক্রান্ত, দেশের মানুষ আক্রান্ত। সবচেয়ে শুনে কষ্ট লাগে যখন জানতে পারি জঙ্গিরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। কিন্তু ইসলাম তো কখনই জঙ্গিবাদে সমর্থন করেনা। মানুষ হত্যা, হামলা, বোমাবাজি এইসব করে জঙ্গিরা কি ধরনের ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে আমার জানা নেই। কতটা নিচে নামতে পারলে জঙ্গিরা জান্নাত-আখিরাতের পাসপোর্ট বানাচ্ছে, আল্লাহর নাম নিয়ে মানুষ খুন করছে, বিভিন্নরকম জঙ্গিবাদে উৎসাহি জিহাদি বই লিখছে। সত্যিই কি এরা মুসলিম? এরা মূলত ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম মানুষকে নর্মও বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা দেয়। নাশকতা মূলক কর্মকাণ্ড করে জঙ্গিরা কিভাবে নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে?

পরিশেষে বলতে চাই বড় ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশে দিনের পরদিন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটে চলেছে। সেই সাথে ইসলাম ধর্মকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে হলে, দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে সুশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সেইসাথে সঠিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। জঙ্গিদের পুরোপুরিভাবে নির্মূল করতে হলে জনগণকে সাথে নিয়ে এদের বিরদ্ধে কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেশে কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটার পূর্বেই নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে তা অঙ্কুরেই ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে যে সমন্বয়হীনতার সমস্যাগুলো রয়েছে তা রোধ করতে হবে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জঙ্গিরা কোন ভিন গ্রহের প্রাণী নয়, তারাও আমাদের মত মানুষ। তাদেরও আমাদের মত বাবা-মা পরিবার পরিজন রয়েছে। যেকোনোভাবে তারা ভুল শিক্ষা পেয়ে বা সঙ্গ পেয়ে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় চলে গেছে। আমাদের উচিৎ আমাদের সন্তানদেরকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা, তাদের কে সবসময় নজরদারিতে রাখা। যাতে করে সন্তানরা ভুল পথে চলে না যায়, ভুল শিক্ষা না পায়, সেইদিকে খেয়াল রাখা। এছাড়া ইসলামকে সঠিকভাবে তাদেরকে জানানো। তা নাহলে হয়তো আপনার-আপনার সন্তানটিও একদিন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়বে।

লেখাঃ মোহাম্মদ সজিব খান(সাংবাদিক)
প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন।


নতুন কাগজ | news editor

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন