Natun Kagoj

ঢাকা, রবিবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৯শে সফর, ১৪৩৯ হিজরী

জগৎ জননীর একটি কাল্পনিক সাক্ষাৎকার

আপডেট: ২৯ জানু ২০১৭ | ১১:২৮

11শাকিল রনি: শালার বালের পুলাপান। পরিবেশ রক্ষার জন্য এক্কারে মইরা যাইতাছে। সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইলে তোগো বাপের কি। তোগো বাপেরা কি বিদ্যুৎ পয়দা কইরা দিবো। তোরা নিজেরা কোন বালের পরিবেশ রক্ষা করোস। সারাদিন তো বিড়ি গাঞ্জা খাইস। আর সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইবো দেইক্ষা একেকটা এক্কাবারে হিরো হইয়্যা গ্যাছোস ….র ভাই। ওই বালের সুন্দরবন দিয়া কি করবি তোরা। জন্তু জানোয়ারের লাইগা এতোই যদি দরদ ধইরা ধইরা কুত্তা মারোস ক্যা। তোরা দ্যাশের ভাল বুঝতিনা। আমাগো নেত্রী জগৎ জননী আমাগো লাইগা আমাগো ভবিষ্যতের লাইগা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাইতে চাইতাছে আর তোরা মাদারচোদরা এতো ভাল কামে বাম হাত ঢুকাই দিতাছোস। তোরা নিজেরা আগে ঠিক হ। নিজেরাই তো পুরা শহর ময়লা কইরা রাখছোস। হুদাই হিরো হওয়ার লাইগা ফাল পারতাছোস। আমরা কি এমনি এমনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাইতে চাইতাছি। সুন্দরবনের বেবাগ জন্তু জানোয়ারের পক্ষ থেইক্কা বাঘ মামার লগে কথা কইয়া নিছি। তোরা কি কোনদিন গ্যাছোস বাঘ মামার লগে কথা কইতে। জিগাইছোস হেতে কেমুন আছে। দেখ বালের পুলাপান গুলা বাঘ মামায় কি কইছে আমাগো।

জগৎ জননী: মামা ভাল আছেন?
বাঘ মামা: হ ভাগনি আছি ভালা।
জ. জ: শইলডা ভালা।
বা.মা: আর শইল। দুই দিন ধইরা হরিণ বিছরাই পাইনা। বুড়া বয়সে আর এতো দৌড় পারতে ভাল্লাগেনা। তুই কিরাম আছোস? কেম্নে চলব?

জ.জ : ভালা না মামা। আমি দ্যাশের লাইগা সুন্দরবনে বিন্দুৎকেন্দ্র বানাইতে চাইতাছি আর আমাগো দ্যাশের কয়ডি …..য়ার পুলাপান বাও হাত হান্দাই দিতাছে।

বা. মা: ক্যা কি কয়?

জ.জ : কয় যে সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইলে পরিবেশে ক্ষতি হইবো। জন্তু জানোয়ারের ক্ষতি হইবো। আপনেই কন মামা এইডা কুনু কথা হইতে পারে। আমি কি আমার মামার এত্তো বড় ক্ষতি করতে পারি। আমি কি ব্যবস্থা করুমনা আপনেগো।

বা. মা: তাতো ক্ষতি হইবোই মেলা। কিন্তু তুই কি ব্যবস্থা করবি রে ভাগনি?

জ.জ: আমি আপনাগো লাইগা সাফারি পার্ক বানানু। মিনি সুন্দরবন সাফারি পার্ক। সুন্দরবনের সব জন্তু জানোয়ার রে ঐ পার্কে হান্দামু। সারা দ্যাশ বিদাশ্যের লোকেরা আপনাগো দ্যাখতে আইবো। ফটু খিচবো। সেলফি তুলবো। দ্যাশের নাম উজ্জ্বল হইবো। এইডি কি খারাপ মামু। বান্দির পুলা গুলা তো তাও বুঝেনা। আর আপনেরে তো খুশি করা দিমুনে।

বা. মা: তা কেমতে খুশি করবি রে?

জ.জ : আপনের লাইগা সিরাম সিরাম হরিণের ব্যবস্থা করুম প্রেত্যেক দিন। আপনে খালি জনগণের সামনে গিয়া কইবেন সুন্দরবনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইলে কোন ক্ষতি হইবো না। পারবেন না মামা?

বা. মা: কস কি পারুম না ক্যারে। আমি সব জন্তু জানোয়ার গুলারে টাইট দিবানি। তুই খালি আমার লাইগা ইস্পিসাল খানাপিনার ব্যবস্থা কইরা দিস। তুই ই পারবি। একমাত্র তুইই পারবি। তোর মতো …..আর একটাও আছে নি। তুই আমাগো জগৎ জননী। জগৎ জননীর জয় হোক। জগৎ জননীর জয় হোক।

জ. জ: দোয়া দেন মামা। সব আপনাগো দোয়া। তাইলে আমি কাম শুরু কইরা দেই।

বা.মা : হ যা শুরু কইরা দে। আর শোন মাঝে মইধ্যে একটু মানুষ জনও খাইতে দিস। তগো মানুষগো গোস্ত হেব্বি টেস্ট। ডেলিসিয়াস।

জ.জ : এইডা কইয়্যা লজ্জা দিয়েন না মামু। আমাগো এই কামে যারা যারা বাও হাত হান্দাইছি হেতোগো ধইরা ধইরা আপনের কাছে পাডামু। আপনে মজা কইরা খাইয়েন আর দোয়া কইরেন। তাইলে যাই মামু।

বা. মা: হ যা। তয় একটা কথা মনে রাখিস – পাপ ছাড়ে না বাপরে।

জ.জ : মানে?

বা. মা: সময় হইলেই টের পাবি। যা কাম শুরু কইরা দে। জগৎ জননীর জয় হোক। জগৎ জননীর জয় হোক।

কি দেখলি তো বালের পুলাপান বাঘ মামাও কইছে কোন সমুস্যা নাই। বেশি টাল্টিবাল্টি করবি তো বাঘ মামার পেডে চালান হই যাবি। সুন্দরবনেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হইবো। পারলে ঠ্যাকা। জগৎ জননীর জয় হোক। জগৎ জননীর জয় হোক। জগৎ জননীর জয় হোক।


নতুন কাগজ | সাজেদা হক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন